March 23, 2026, 7:05 am

সংবাদ শিরোনাম
ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? বদর দিবস উপলক্ষে গঙ্গাচড়ায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রংপুর জেলার নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সভা শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? ঈদের আগে হোটেল শ্রমিকদের বোনাস সংকটের ভেতরের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প

মৌলভীবাজারে ব্যবসায়ী রুবেল হত্যার রহস্য উন্মোচন,আলামত উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক,মৌলভীবাজার ঃ

মৌলভীবাজার শহরের শমসেরনগর সড়কে হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী শাহ ফয়েজুল রহমান রুবেল হ”ত্যা”র রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানার লাইয়ারকুল গ্রামের সুহেল মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া ওরফে জুয়েল ওরফে আলিফ( ২২)কে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মাস্ক ও জুতা,
ধারালো ছুরি ( আসামির দেখানো মতে)
রিকশাচালককে রিকশা ভাড়ার জন্য আসামি কর্তৃক প্রদত্ত রক্তমাখা ২০ টাকার নোট, ২টি এলবো ও একটি সাসপেনশন গ্লু, যা “দি নিউ আরপি হার্ডওয়্যার দোকান থেকে আসামি ক্রয় করেছিল ওদোকানের ক্যাশ কাউন্টার থেকে একটি রক্তমাখা ফাইল উদ্ধার করা হয়।


সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৭ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩৫ মিনিট থেকে ৭টা ০৫ মিনিটের মধ্যে মৌলভীবাজার শহরের শমসেরনগর রোডে সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন এফ রহমান ট্রেডিং নামে একটি হার্ডওয়্যার ও স্টেশনারি দোকানে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা প্রবেশ করে দোকান মালিক শাহ ফয়জুর রহমান ওরফে রুবেল (৫৫)-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে।

ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। (মামলা নম্বর-১৮, তারিখ: ৯ আগস্ট ২০২৫, ধারা: ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।

নিহত শাহ ফয়জুর রহমান রুবেল (৫৫), পিতা-মৃত শাহ আঃ গফুর, মাতা-মৃত মালেকা বেগম, সাং-গোবিন্দপুর, কাদিপুর ইউপি, থানা-কুলাউড়া, বর্তমান ঠিকানা-শ্যামলী আবাসিক এলাকা, থানা ও জেলা-মৌলভীবাজার। তিনি শমসেরনগর রোডস্থ সিএনজি ষ্ট্যান্ডে এফ রহমান ট্রেডিং নামীয় হার্ডওয়ার ও ষ্টেশনারী দোকানের মালিক।

ঘটনার পর পরই মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার জনাব এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম-সেবা এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( ক্রাইম এন্ড অপস) নোবেল চাকমা এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের, সদর থানার ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মিনহাজ উদ্দিন এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসির সমন্বয়ে একাধিক টিম গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল এবং এর আশেপাশের পুরো এলাকা পরিদর্শন করে ঘটনার সংক্রান্ত সাক্ষ্য প্রমান সংগ্রহ করে এবং ভিকটিমের পরিবার, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ঘটনার দিন হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় ব্যবহৃত একটি অটোরিকশার চালককে শনাক্ত করে এবং তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্য ও বিভিন্ন ডিজিটাল সাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির ছবি সংগ্রহ করা হয়। সন্দিগ্ধ ব্যক্তিতে শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজার সদরসহ পুরো জেলা এমনকি পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ ও সিলেটেও পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করে। সেই প্রেক্ষিতে আমাদের টিম শ্রীমঙ্গল থানা এলাকায় সেই সন্দিগ্ধ ব্যক্তিকে জুয়েল মিয়া ওরফে জুয়েল ওরফে আলিফ হিসেবে শনাক্ত করেন। জুয়েল মিয়ার হাতে একটি ব্যান্ডেজ তাকে শনাক্ত করতে আমাদের সাহায্য করে। সে শ্রীমঙ্গল উপজেলার লইয়ারকুল গ্রামের সুহেল মিয়ার ছেলে। শনাক্তমতে তাকে ১৭ আগস্ট দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি জুয়েল মিয়া আগে একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতো। বর্তমানে বেকার এবং হতাশাগ্রস্ত। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থাও শোচনীয়। বাবা সুহেল মিয়া দিনমজুর হিসেবে কাজ করে। মূলত আর্থিক কষ্ট মেটানোর জন্য ছিনতাইয়ের মত অপরাধের পথ বেছে নেয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল মিয়া স্বীকার করে যে, সে চুরি বা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ৬ আগস্ট মৌলভীবাজার শহরে আসে, পুরো শহর ঘুরে কিন্তু সুবিধাজনক পরিস্থিতি না পেয়ে ফিরে যায়। পরদিন ৭ আগস্ট বিকেলে আবার শহরে ফিরে আসে এবং কুসুমবাগ এলাকায় নেমে সাইফুর রহমান রোড হয়ে শমসেরনগর রোডের দিকে হেঁটে যায়। সে মূলত একটু নিরিবিলি এলাকায় লোকজন কম এমন দোকান খুঁজছিল। পথিমধ্যে দোকানগুলো লক্ষ্য করতে থাকে এবং “দি নিউ আরপি হার্ডওয়্যার” নামের দোকান থেকে ২টি এলবো ও একটি সাসপেনশন গ্লু কিনে সুযোগের জন্য কিছুক্ষণ অবস্থান করে ‍। সেখানে লোকজন বেশী থাকায় সুয়োগ না পেয়ে সে চলে যায়। পরে পাশের “এফ রহমান ট্রেডিং” দোকানে দোকান মালিক রুবেলকে একা দেখে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। সেসময় রুবেল মিয়া নামাজে থাকায় জুয়েল কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে। নামাজ শেষ হলে সে ক্রেতা সেজে দোকানে প্রবেশ করে এবং রঙ কেনার কথা বলে দোকানের ক্যাশ থেকে রুবেল মিয়াকে দোকানের ভিতরের অংশে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। রুবেল মিয়া তাকে বাঁধা প্রদানের চেষ্টা করলে সে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে এবং দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে ১,১০০ টাকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর