রেজাউল করিম মজুমদার: প্রতিবছরের মতো এবারও নতুন সুস্বাদু ফল হিসেবে চিহ্নিত তরমুজ আসছে বাজারে। রমজান মাস ঘিরে সারাদিনের ক্লান্ত দূর করার রসালো ফল তরমুজ বাজারে বিক্রি হচ্ছে উরাধুরা। অন্যান্য ফলের তুলনায় তরমুজের আকৃতি সাইজে অনেক বড়, তরমুজের গায়ের রং দেখতে যেমন অপরূপ সুন্দর ঠিক তেমনি খেতেও খুব মজাদার। তরমুজ এমন একটি ফল ছোট বাচ্চাদের থেকে শুরু করে বড় বৃদ্ধ লোকদেরও খুব পছন্দ হয়ে থাকে। একেকটা তরমুজের কেজি অনুযায়ী দাম সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
তরমুজ বাজারে আসতেই শুরু হয়েছে বড় ধরনের সিন্ডিকেট, পিচ নয় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ, তাও আবার ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, ফলের দোকানে, রাস্তার পাশে ফুটপাতে, ভ্যান গাড়িতে সহ শত শত হাজার তরমুজ স্টক করে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের অনেক ধরনের গোমর রয়েছে, পাইকারি বাজার থেকে তরমুজ কিনে নিয়ে এসে তারা বড় ছোট বেচে আলাদা আলাদা ভাবে ভাগ করে রাখে, শুধু তাই না কিছু তরমুজ তারা ওজন দিয়ে নির্ধারিত দাম বেঁধে রাখে। ক্রেতা তরমুজ বেঁচে পিস কত করে বলতেই বেঁধে দেওয়া দামটি বলে দেয় বিক্রেতারা।
ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশে এটা নতুন কিছু না প্রতি বছরে তরমুজ বাজারে আসে, প্রতিবছর দাম বাড়ে, তবে সিন্ডিকেটের আগুনে তরমুজ না কিনে তরমুজের চামড়া কেনার চিন্তা হচ্ছে। কারণ স্বর্ণের তুলনায় স্বর্ণের পানির খুব দাম রয়েছে, তাই তরমুজ খেতে না পারলেও তরমুজে চামড়া গুলো কিনে নিয়ে বাসায় রাখবো। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত লোকদের তরমুজ কেজি দরে কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই। বড় বড় সিন্ডিকেট যারা দাম বাড়িয়েছে যাদের ঘোষের পরিমাণ অনেক বেশি তারা খেলেই চলবে।
খুচরা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়। ক্রেতারা যখন আমাদের কাছে এসে তরমুজ কত করে জিজ্ঞেস করে, আমরা তখন ক্রেতাদের বলি এতো টাকা কেজি, তখন তাদের মাথা অনেক গরম হয়ে যায়, অনেকে দাম না বলে চলে যায়, অনেকে আবার আফসোস করে, অনেকে পরিবারের কথা চিন্তা করে কিনে নিয়ে যায়। তবে অধিকাংশ ক্রেতারা কেজির দাম শুনে অসন্তুষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায় কেজির দরে দাম বলাতে ক্রেতাদের মাথা গরম হয়ে যায় এবং আমাদের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে যায়। আমাদের করণীয় কিছু নেই কারণ আমরা পাইকারি বাজারের বড় বড় পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেজি দরে কিনে নিয়ে আসতে হয় এবং আমাদের সেই মালগুলো কেজি দরে খুচরা বিক্রি করতে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাজার ঘিরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী কমিটির পক্ষ থেকে কোনো প্রকার তদারকি বা মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে পাচ্ছে এভাবেই নিত্য পণ্যের জিনিস বিক্রি করে যাচ্ছে। বিশেষ করে রমজান মাসের যেগুলো মূল্যবান সামগ্রী ওইগুলো দামাদামি করার মতো কোনো অবস্থা থাকে না নিম্ন ও মধ্যবিত্ত লোকদের। বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে প্রথমত বড় বড় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে না হয় এদেশের মানুষ নিত্য পণ্যের জিনিস নিয়ে সারাজীবন কষ্ট করে যেতে হবে।