নেহাল আহম্মেদ প্রান্ত:
গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক ট্রেনের ক্ষেত্রবিশেষে সময় বাড়ে এক থেকে দুই ঘণ্টা। এর প্রধান কারণ রাজনৈতিক বিবেচনায় গ্রহণ করা পথে পথে যাত্রাবিরতির (স্টপেজ) সংখ্যা বৃদ্ধি।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর রেলে বিনিয়োগ হয়েছে লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। বিপুল বিনিয়োগের পরও বেড়েছে রেলপথে ভোগান্তি।
মন্ত্রী-এমপিসহ প্রভাবশালীদের চাপে যত্রতত্র স্টপেজ রাখায় এমনটা ঘটছে। এতে যাত্রীভোগান্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি গতিময় আন্তঃনগর ট্রেন স্বকীয়তা পরিণত হয়েছে অনেকটা লোকাল ট্রেনে। এটাকে আন্তঃনগর ট্রেন কার্যত লোকাল করার প্রক্রিয়ায় রেলকে ডুবানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরই বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির সংখ্যা বাড়ানো শুরু হয়। তখন কয়েক মাস পরপরই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন রুটে নতুন নতুন যাত্রবিরতির স্থান ঘোষণা করত। গত ১৫ বছরে দুয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া সব আন্তঃনগর ট্রেন প্রায়ই লোকাল ট্রেনে পরিণত হয়।এর ফলে যাত্রাপথে ঘন ঘন থামছে ট্রেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এর ফলে একদিকে বাড়ছে আন্তঃনগর ট্রেনের পরিচালন ব্যয়। আরেক দিকে বাড়ছে যাত্রীদের সময়ের অপচয় ও ভোগান্তি।
বর্তমানে আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রীরা বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। পথে ঘন ঘন যাত্রাবিরতিতে টিকিট বিক্রিতেও প্রভাব পড়ে। স্টপেজ অনুযায়ী দুই থেকে তিন মিনিট বিরতি দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে বেশি। একটি ট্রেন প্রতিবার থামার জন্য দূর থেকে গতি কমানো ও পুণরায় চালু করতে অন্তত ১৩ মিনিট বাড়তি সময় লাগে। পাঁচটি বাড়তি স্টপেজ ধরলে ১ ঘন্টা ৫ মিনিট বেশি পার হয়ে যায়। এ সময়ের তেল ও মাইলেজ খরচও বাড়ে।এর জেরে বিঘ্নিত হচ্ছে গোটা রেলের অপারেশনাল কার্যক্রম।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী গণমাধ্যমকে জানান, ট্রেনের স্টপেজ বৃদ্ধির কারণে যাত্রার সময় বাড়ে। আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিঃসন্দেহে অনুচিত। যাত্রীদের জন্য ভোগান্তির আর রেলের জন্য ক্ষতিকর। লোকাল ট্রেনের মতো আন্তঃনগর ট্রেন হওয়া কাম্য নয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি স্টেশনে যাত্রাবিরতির জন্য একেকটি ৭০ কিলোমিটার গতিবেগের ট্রেনের সময় ব্যয় হয় সর্বনিম্ন ১৩ মিনিট। স্টপেজ দেওয়ার ক্ষেত্রে রেলের পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিভাগের মতামত নেওয়ার নিয়ম থাকলেও আইন লঙ্ঘন করেই বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়।