
প্রেস রিলিজ
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গত ৬ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ–৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূমের নিকট পৌঁছেছে। চিঠি মারফত জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে একত্রীকরণ করা হবে।
এই সিদ্ধান্ত থেকে ধারণা করা যাচ্ছে যে, সারাদেশেই ভোটকেন্দ্র থেকে ফলাফল সরাসরি ঘোষণা না করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রেরণ করে একত্রীকরণের পর ভোটের পরদিন ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর–নিকলী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনাত কাইয়ূম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এটি একটি নজিরবিহীন উদ্যোগ। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে প্রার্থী, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ কিংবা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শের তথ্য আমরা পাইনি। বরং নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এ ধরনের ঘোষণা দুরভিসন্ধিমূলক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সাধারণত কেন্দ্রভিত্তিক ভোট গণনা শেষে ভোটকেন্দ্র থেকেই ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং একটি আসনের সকল কেন্দ্রের গণনা সম্পন্ন হলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই আসনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এর জন্য পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষার কোনো নজির নেই। অতীতে আমরা দেখেছি, যখনই ফলাফল প্রকাশে অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছে বা কেন্দ্র থেকে ফল ঘোষণা করা হয়নি, তখনই নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।”
অতএব, নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও আসন্ন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা রক্ষার স্বার্থে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো সন্দেহজনক বা অপ্রয়োজনীয় নতুন পরিবর্তন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান হাসনাত কাইয়ূম। তিনি সতর্ক করে আরো বলেন, “এই নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই একাধিক গুরুতর বিতর্ক ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যদি এই নির্বাচন আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে, তবে দেশ একটি গুরুতর অস্থিরতা ও সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হতে পারে, যার দায় নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকার কেউই এড়াতে পারবে না।”