March 15, 2026, 6:05 pm

সংবাদ শিরোনাম
রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? বদর দিবস উপলক্ষে গঙ্গাচড়ায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রংপুর জেলার নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সভা শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? ঈদের আগে হোটেল শ্রমিকদের বোনাস সংকটের ভেতরের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প পীরগাছার শল্লার বিল: ঘর উঠেছে, আস্থা ভেঙেছে লালমনিরহাটে ভোর বেলার অভিযানে অনলাইন ক্যাসিনো চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৮২ সিম

মায়েদের জন্য ৫ ঘণ্টা কাজ, ৭ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান

মায়েদের জন্য ৫ ঘণ্টা কাজ, ৭ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান: জামায়াতের ইশতেহার

লোকমান ফারুক, রংপুর
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হোটেল শেরাটনের বলরুমে আলো ছিল ঝকঝকে, মঞ্চে দলীয় ব্যানার। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারে যে কথাগুলো বলা হলো, সেগুলো দেশের সবচেয়ে অন্ধকার বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করছিল—বেকারত্ব, অনিশ্চয়তা আর কাজ হারানোর ভয়।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বনানীতে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহারের মোড়ক উন্মোচন করেন। সেখানে জামায়াত দাবি করে, দেশে থাকা সাত কোটি কর্মক্ষম মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরিকে তারা রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে নিয়েছে। পরিকল্পনাটি দুই ভাগে—দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে।

ইশতেহারে বলা হয়, বেকারত্ব দূর করতে শুধু চাকরির ঘোষণা নয়, প্রয়োজন দক্ষতা। সে জন্য কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরির নীতিমালা প্রণয়নের কথা জানানো হয়েছে। বিদেশে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য কম খরচে বিদেশ যাত্রা, আন্তঃসরকার চুক্তি, ঋণ সুবিধা এবং অন্তত ৫০ লাখ যুবকের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

নারীদের কর্মসংস্থান নিয়ে দলটির অবস্থান ছিল ইশতেহারের অন্যতম আলোচিত অংশ। জামায়াত বলেছে, তারা নারীদের “সম্মান ও নিরাপত্তা” নিশ্চিত করে কাজের পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়। পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন সময়ে মায়েদের সম্মতি সাপেক্ষে কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “নারীদের যেন চাকরি না ছাড়তে হয়, সে জন্যই মায়েদের কর্মঘণ্টা কমানোর কথা বলেছি। অথচ এটা নিয়ে নানা কথা ছড়ানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, আমরা নাকি নারীদের চাকরি করতে দিতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, “বাস্তবতা হলো—অনেক নারী মা হওয়ার পর বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়ে দেন। আমরা চাই, তারা যেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য না হন।”
ইশতেহারে সরকারি চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে ফি নেওয়ার প্রচলিত রীতি বাতিল করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি। পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

ঘোষণাগুলো খুবই আশাব্যঞ্জক। তবে দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় এই পরিকল্পনাগুলো কতটা বাস্তবায়নযোগ্য—সে প্রশ্ন থেকেই যায়। কর্মসংস্থান কি কেবল ইশতেহারের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সত্যিই কাজের বাজারে মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনবে?

তবে ইতিহাস বলে, পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করে ইশতেহারের ভাষায় নয়, বরং সৎ নেতৃত্ব ও বাস্তব রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর-সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই প্রতিশ্রুতিগুলো কি কাগজ পেরিয়ে মানুষের জীবনে পৌঁছাতে পারবে?

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর