
মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের ভাইয়ের বাসা জয়মন্টপের ভাকুম থেকে স্কুলছাত্রী ঝুমার (১২) ঝুলন্ত লাশ নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে সর্বত্র আলোচনার ঝড় উঠেছে। ঝুমার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যাওয়ায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র মতে, উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া গ্রামের রিয়াজুল হক তার মেয়ে ঝুমাকে প্রায় ৩ বছর আগে খালা চায়না আক্তারের মাধ্যমে এমপি মমতাজের বড় ভাই এবারত হোসেনের বাসায় গান শিখতে দেন।
পাশাপাশি স্থানীয় ভাকুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি পিইসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় এমপির বড় ভাই এবারত হোসেনের পুত্র ফিরোজের শয়ন কক্ষ থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। সুত্র আরো জানায়, প্রথমে লাশটি ময়না তদন্তের জন্য বাধা দেন এমপি পরিবারের লোকজন।
পরবর্তীতে সংবাদকর্মী ও প্রশাসনের ঘোর আপত্তির মুখে লাশের সুরত হাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় ঐ দিন বিকেলে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়। ঝুমার বাবা রিয়াজুল হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নিহতের মামা আবু সাঈদ (২৮) জানান, ঝুমার মা বিদেশে থাকায় সে এবারতের বাড়িতে থাকত। তার মৃত্যু সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।
এদিকে ঝুমার লাশ উদ্ধারের সময় থেকে এবারতের পুত্র ফিরোজ (১৮) ও তার মা ফরিদা গা-ঢাকা দেন। তবে এবারত বিষয়টি বরাবরই আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি আত্মহত্যার কারণ উল্লেখ করেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নিহত ঝুমা চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে ছিল। গান শেখা ও লেখাপড়ার পাশাপাশি এবারতের বাসায় ঝিয়ের কাজ করত।
মাঝে মধ্যে রাতে ঐ বাসায় মদের জমজমাট আসর বসত। এসব আসরে ঝুমা গানসহ নৃত্য পরিবেশন করত। বিনিময়ে এবারত ও তার স্ত্রী ঐ আসরে আগত অতিথিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন।
সূত্র জানায়, ঝুমার লাশ উদ্ধারের পর এমপি মমতাজের প্রশাসনিক ও পেশী শক্তির দাপটে এসব বিষয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পাননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ঝুমা নিহতের অন্তরালে রহস্য লুকিয়ে রয়েছে।
ঘটনার পেছনে এবারতের পরিবারের সাথে ঝুমার খালা মেদুলিয়া গ্রামের বছর উদ্দিন দেওয়ানের মেয়ে চায়না আক্তারও জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। যে কারনে ঝুমার পরিবার এ সংক্রান্তে সরাসরি মুখ খুলছেন না।
ঝুমার পিতা রিয়াজুল (৫০) বিভিন্ন নিকটাত্বীয়দের কাছে শুধু চোখের জল ফেলছেন বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছেন। এবারতের বাড়ির অপর গৃহ পরিচারিকা ভাকুম বেপারীপাড়া গ্রামের নুরু পাগলার কন্যা নূরজাহান (১৭) ঘটনার সময় চিৎকার করে ঝুমা লাশ হওয়ার রহস্য প্রকাশ করতে চাইলে এবারতের পরিবার তাকে অন্যত্র সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসন তদন্তসহ ময়নাতদন্তের সঠিক রিপোর্ট দিলে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচন হবে বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন।