May 28, 2024, 8:35 pm

সংবাদ শিরোনাম
রংপুর সিটির তিন মাথায় নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু, ইউপি চেয়ারম্যান ও ভবন মালিকের যোগসাজসে গোপনে লাশ দাফন আদমদীঘির ধান শরিয়তপুরে উদ্ধার; গ্রেপ্তার-২ অবৈধভাবে চাঁদা উত্তোলনকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা হতে ০৬ জন পরিবহন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান এলাকা হতে গাঁজা ও বিদেশী পিস্তলসহ কুখ্যাত অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ী সাগর’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে ধাক্কায় চালকের মৃত্যু ঘূর্ণিঝড় রেমাল এর প্রভাবে উপকুলের সতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত কুড়িগ্রামে বেবী তরমুজের চাষে তিন মাসে আয় দেড় লাখ টাকা মাঝরাত্রে প্রবাসীর ঘরে ঢুকে স্ত্রীও মা কে ছুরি মেরে পালালো দুর্বৃত্তরা বগুড়ার শিবগঞ্জে জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন: এমদাদুল আহবায়ক রবি সদস্য সচিব গাইবান্ধা প্রেসক্লাব’র কমিটি গঠিত

অস্ত্র ও মাদক পাচারকারীদের পছন্দ কুরিয়ার সার্ভিস

অস্ত্র ও মাদক পাচারকারীদের পছন্দ কুরিয়ার সার্ভিস

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক 

পণ্য পরিবহনের আড়ালে দেশি-বিদেশি কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে পাচার হচ্ছে মাদক ও অস্ত্রসহ নানা অবৈধ পণ্য। এসব প্রতিষ্ঠানে স্ক্যানার ও সঠিক নজরদারি না থাকার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। এর সঙ্গে কুরিয়ার সার্ভিসের কিছু অসাধু কর্মচারীও জড়িত রয়েছেন। এভাবে অবৈধ পণ্যের পাচার বন্ধে সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) একটি নির্দেশনা জারি করে। কিন্তু এ নির্দেশনা মানছে না কোনো প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি একটি কুরিয়ার সার্ভিসের রাজধানীর উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী শাখায় আসা ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ চার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাব।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি পাওয়ায় চোরাকারবারিরা ইয়াবা, বিদেশি বিয়ার ও ফেনসিডিলের পাশাপাশি জঙ্গি অর্থায়ন, মানি লন্ডারিং ও অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্য পরিবহনে কুরিয়ার সার্ভিসকে পছন্দ করেছে। দেশীয় কোনো কুরিয়ার সার্ভিসে পণ্য গ্রহণ বা প্রাপকের হাতে তুলে দেয়ার আগে স্ক্যান করে দেখা হয় না। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠানে স্ক্যানার নেই। তাছাড়া টাকার লোভে কুরিয়ারের কিছু কর্মচারীও এ ক্ষেত্রে অপরাধীদের সহযোগিতা করছেন। ফলে এ মাধ্যমে সহজেই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে চোরাকারবারিরা।

তারা জানান, পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রেরক ও প্রাপকের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। কিন্তু এ নির্দেশ মানা হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের নির্দেশনামূলক চিঠি তারা পেয়েছেন। তবে সব নিদের্শনা মেনে তাদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। তারা বলছেন, পুলিশের কিছু নির্দেশনা মানা হচ্ছে। কিছু কুরিয়ার সার্ভিস তাদের শাখাগুলোতে সিসিটিভি লাগিয়েছে। তবে স্ক্যানিং মেশিন কিনে পণ্য পরীক্ষার সক্ষমতা কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর নেই। এ বিষয়ে কুরিয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান পুলক জানান, কুরিয়ারের মালিকরা এসব মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত নন। অবৈধ পণ্য পাচারের সঙ্গে কর্মচারীরা কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে। আমরা সেদিকে নজর রাখছি।

তিনি বলেন, ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশনা সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করছি। কিন্তু সেটা সব সময় সম্ভব হচ্ছে না। কাস্টমারও অনেক ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করছেন। তবে সবার মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে পুলিশের নির্দেশনা মেনে কাজ করা সহজ হবে। পুলক বলেন, কুরিয়ার সার্ভিসের পক্ষে স্ক্যানার বসিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। তাই এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহায়তা চান তিনি।

সরেজমিন রাজধানীর ফার্মগেট, নিউমার্কেট ও কাকরাইলের বেশ কয়েকটি কুরিয়ার সার্ভিস ঘুরে দেখা গেছে, পার্সেলে লেখা প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা যাচাই-বাছাই ছাড়াই কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর এন্ট্রি খাতায় লিখে রাখা হচ্ছে। কোনো কুরিয়ার সার্ভিসেই মালামাল স্ক্যানের কোনো ব্যবস্থা নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভেতরে কী ধরনের মালামাল আছে তা নেড়েচেড়েও পরীক্ষা করে দেখা হয় না। এমনকি পার্সেলের গায়ে লেখা প্রেরকের মোবাইল নম্বরটি ভুয়া কিনা তাও পরীক্ষা করে দেখা হয় না।

এ বিষয়ে ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান,বেশকিছু নির্দেশনা দিয়ে ২২ আগস্ট কুরিয়ার সার্ভিসগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে। পুলিশের নির্দেশনা না মানলে এবং কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে কোনো সন্ত্রাসী বা নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ঘটনা ঘটলে তার দায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে। কোনো ধরনের অবৈধ মালামাল যাতে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পরিবহন না হয় এ জন্য নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

সম্প্রতি সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের উত্তরা শাখা থেকে ইয়াবার চালান গ্রহণের সময় ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ সরোয়ার কামাল নামে এক পাচারকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, সরোয়ারের বাড়ি টেকনাফের জাদিমুডা। সে বিগত ৬ বছর ধরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শুরুর দিকে মিয়ানমার থেকে আনা ইয়াবা সে সড়কপথে পাইকারদের কাছে পৌঁছে দিত। পুলিশ ও র‌্যাবের নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় বছর খানেক ধরে সে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করছে। কসমেটিকস, কাপড়ের গাটসহ বিভিন্ন মালামালের আড়ালে সে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় নিয়ে আসে।

২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যাত্রবাড়ীর একটি কুরিয়ার সার্ভিসের শাখায় আসা ১২ হাজার পিস ইয়াবা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ। গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ীরা হল : মাহবুবুর রহমান, মৃদুল ও জাহাঙ্গীর।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচারের সঙ্গে শুধু দেশীয় কুরিয়ার সার্ভিস নয়, বিদেশি কুরিয়ারের মাধ্যমেও আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্যরা মাদক পাচার করছে। চলতি বছরের ২২ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে কুরিয়ারে আসা সাড়ে ৭শ’ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়। এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বাতেন খাঁর মোড়ে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় থেকে পুলিশ বিদেশি পিস্তল, ১৬ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে। ফলের কার্টনে ভরে এগুলো পাচারের চেষ্টা চলছিল। সাভারে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় থেকে বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলিসহ নাজিম উদ্দীন নামে এক কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়। চলতি বছর মাহবুবুর রহমান রমি নামে নব্য জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের এক সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। বগুড়ায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরির সুবাদে ওই অঞ্চলে জঙ্গিদের কাছে নানা অবৈধ পার্সেল পাঠাত সে।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে নারায়ণগঞ্জে কুরিয়ার সার্ভিসে আনা ফ্রিজ থেকে চার হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জের পানগাঁও জাজিরা এলাকার সাদেমের ছেলে মাসুদ ও তার স্ত্রী রেখাকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৩ সালে ধানমণ্ডির একটি কুরিয়ার সার্ভিসে অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ হারুন-অর রশিদ নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

 

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর