March 22, 2026, 11:34 pm

সংবাদ শিরোনাম
ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? বদর দিবস উপলক্ষে গঙ্গাচড়ায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রংপুর জেলার নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সভা শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? ঈদের আগে হোটেল শ্রমিকদের বোনাস সংকটের ভেতরের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প

এম সাইফুর রহমানের স্মরণসভা “দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে তাঁকে খুব মনে পড়ছে”

আব্দুস সামাদ আজাদ,
মৌলভীবাজার শহরের এক শান্ত সন্ধ্যা। চারপাশে নিস্তব্ধতা, আর ভিড় জমেছে একটি স্মরণসভায়। মঞ্চে সাদা ব্যানারে লেখা— “জাতীয় নেতা এম সাইফুর রহমানের ১৬তম শাহাদৎ বার্ষিকী”। তাঁর নাম উচ্চারিত হচ্ছে আবেগে, শ্রদ্ধায়।

সভায় দাঁড়িয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম কণ্ঠ ভারী করে বললেন—
“সতের বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের পর তরুণ-যুবকরা মিলে হাসিনার মাফিয়া তন্ত্রের অবসান ঘটিয়েছে। আল্লাহর গজব নেমেছে তাঁর উপর, তাই দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। অথচ কত বড় বড় কথা বলেছিলেন—আওয়ামী লীগ পালায় না, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালায় না।”

এই বক্তব্যে ক্ষোভ যেমন আছে, তেমনি আছে শূন্যতার বেদনাও। তিনি বললেন—“দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে আমরা এম সাইফুর রহমানকে খুব মনে করছি। তিনি থাকলে দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন। আজকের এই সংকটময় সময়ে তাঁর মতো রাষ্ট্রনায়কের বড় অভাব।”

এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ তৌফিক আহমদ। সঞ্চালনা করেন এডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্যে তাঁরই পুত্র, সাবেক এমপি এম নাসের রহমান স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন—“আমার বাবা শুধু অর্থমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনীতির রূপকার। আজও তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত আমাদের পথ দেখায়।”

সভায় বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি.কে গউছ, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ অনেকে।

দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল হাকিম। আরেক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় যখন এবছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে দশ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। যেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রীর শিক্ষা-ভালোবাসা জীবিত হয়ে ওঠে নতুন প্রজন্মের হাতে।

স্মরণসভা শুরুর আগেই সকালে তাঁর গ্রামের বাড়ি বাহারমর্দনে কোরআন খতম, সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে বিএনপির নেতা-কর্মী, সামাজিক সংগঠনের সদস্য—সবার চোখেই ছিল শোকের ছাপ, আবার গর্বও ছিল—তাদের গ্রামের সন্তান একদিন বদলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি।

২০০৯ সালের সেই সকাল। ঢাকায় যাচ্ছিলেন এম সাইফুর রহমান। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খড়িয়ালা এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেন বাংলাদেশের অর্থনীতির রূপকার। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো দেশ।

তাঁর জীবনী শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায় নয়, বরং বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাস। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদে টানা ১২টি বাজেট পেশ করেন—যা আজও এক রেকর্ড। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভ্যাট ব্যবস্থার প্রবর্তন, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা আনার কৃতিত্বও তাঁর।

তাঁকে স্মরণ করে অনেকেই বলেন—“তিনি যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তাহলে অর্থনীতি আর রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়তো অন্য রকম হতো।”

প্রতিটি বক্তৃতায়, প্রতিটি স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে একটিই সত্য—এম সাইফুর রহমান শুধু একজন মানুষ ছিলেন না, ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তাঁর অভাব কেবল পরিবারের নয়, দলের নয়, বরং পুরো জাতির। মৌলভীবাজারের সেই সন্ধ্যা সাক্ষী হলো এক নেতার প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর বেদনার।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর