এস এম মিলন,জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাট ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক আছরাঙ্গা দিঘি বহু বছর ধরে এলাকাবাসীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দিঘির মূল প্রবেশপথ তথা সরকারি মেইন গেটের সামনেই বসানো হয়েছে একাধিক অস্থায়ী দোকান। কোথাও কোথাও দেখা গেছে, বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে গেটের একাংশ সম্পূর্ণরূপে দখল করে বসবাসের মতো পরিবেশও গড়ে তোলা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আছরাঙ্গা দিঘির ডান পাশে মামুদপুর চৌতাপাড়ার গ্রামের মজির হোসেন নামে এক ব্যক্তি চানাচুর, বাদাম ও বিস্কুট বিক্রির দোকান বসিয়েছেন। অন্যদিকে, গেটের বাম পাশে একটি ওয়ার্কশপ দোকান থাকলেও সেখানে দোকানদারকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ঐতিহাসিক এই দিঘির সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসেন। কিন্তু প্রবেশপথের এহেন অবস্থা তাদের জন্য বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দোকানপাট এবং মালামাল রাখার কারণে পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের চলাফেরায় বেশ অসুবিধা দেখা দিচ্ছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই রাস্তা ও গেট দিয়ে মানুষ চলাচল করে, অথচ এখন জায়গা খালি নেই। গেটের সামনে পুরো পরিবেশটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
আরেকজন বৃদ্ধ স্থানীয় বলেন, “এখানে ছোটবেলা থেকে আসছি, এখন এসে দেখি মেইন গেটটাই যেন বাজারে পরিণত হয়েছে। এ যেন ঐতিহ্যের অপমান।”
এ প্রসঙ্গে মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন হোসেন বলেন, “মাঝখানে কিছুদিন দোকানপাট ছিল না, কিন্তু এখন আবার দেখা যাচ্ছে দখল করে ব্যবসা শুরু হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী আছরাঙ্গা দিঘির মেইন গেট দখল করে ব্যবসা করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি এবং অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী এবং সচেতন মহল দাবি করছেন, দ্রুত এই দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক আছরাঙ্গা দিঘির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হোক এবং একটি স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন।