বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা পালিত হয়েছে। গতকাল (২৭শে জুন শুক্রবার) দিনব্যাপী বগুড়ায় কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ ইসকন মন্দিরে ধর্মীয় আলোচনা,ভজন কীর্তন, জগন্নাথ দেবের পুজা,আরতী শেষে জগন্নাথ দেব সহ বলরাম ও সুভদ্রা কে তোলা হয় ফুলে ফুলে সাজানো রথে। ফলে রথযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে র্যাব, পুলিশ সহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো।
জগন্নাথ ভক্তদের মতে,ভারতের ওড়িশা, ছত্তিশগড়, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড,বিহার,আসাম,মণিপুর ও ত্রিপুরা রাজ্যে এবং বাংলাদেশে তার পূজা প্রচলিত। জগন্নাথ হলেন হিন্দু দেবতা বিষ্ণু বা তার অবতার কৃষ্ণের একটি বিশেষ রূপ। তাঁকে তাঁর দাদা বলরাম ও বোন সুভদ্রার সঙ্গে পূজা করা হয়। পুরীতে রথযাত্রা উৎসবে রথে আরূঢ় জগন্নাথ বিগ্রহ প্রভু জগন্নাথের রথ-আমাদের এই মানব দেহের সাথে মিল রয়েছে। জগন্নাথের রথটি ২’শ ৬টি কাঠ দিয়ে তৈরী,যা নরদেহের ২’শ ৬টি হাড়ের অনুরূপ,রথের ১৬টি চাকা, ৫টি জ্ঞানেন্দ্রিয়, ৫টি কর্মেন্দ্রিয় ও ৬টি রিপুর প্রতীক।রথের রশি হল মন। বুদ্ধি রথের সারথি এই দেহ-রথের রথী স্বয়ং ঈশ্বর।ঈশ্বর নিজের ইচ্ছায় এই শরীরকে চালিত করেন।
তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল বগুড়ায় হাজার হাজার ভক্তদের উপস্থিতিতে বাদ্যযন্ত্র খোল করতাল, সেইসাথে উলুধ্বনি,শঙ্খ ধ্বনি ও কীর্তনে কীর্তনে জগন্নাথ দেব ভক্তরা রশিতে রথটি টেনে শহর প্রদক্ষিণ করেন। এসময় রাস্তার দুধারে অবস্থানরত ভক্তরা ফুল ছিটিয়ে জয় জগন্নাথ বলে প্রনাম নিবেদন করেন। এসময় প্রসাশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা সহ ইসকন মন্দিরের সভাপতি দিলিপ কুমার দেব, ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ খরাজিতা কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী সহ ভক্তবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সোনাতলা উপজেলার চিল্লিপাড়ায় অনুরুপ পরিবেশে রথযাত্রা পালিত হয়েছে।
উৎসবে আশপাশের কয়েকটি গ্ৰামের জগন্নাথ দেবের ভক্তবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।