নবীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ ৩২ জনের বিরদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৩০-৪০ জনকে। মামলার আসামি সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ,স্বোচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী।
গত ১৫ই আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এস এম মামুন (৪২) বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ২রা আগস্ট দুপুরে নবীগঞ্জ বাজারের ওসমানী রোডের মূল পাঁকা সড়কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে গত ১৫ই আগস্ট মামলা হয়েছে। এজাহারে ৩২ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমদাদুর রহমান মুকুল (৬২), সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী (৪৮), মোতাচ্ছিরুল ইসলাম (৫৩), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল বাহার (৫৪), গিয়াস উদ্দিন আহমেদ (৫৫), আলমগীর চৌধুরী (৫৯), নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ্ ফয়সল তালুকদার (৩২), শামসুল হক (৫৫), সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজিব খাঁন (২৫), হাবিব চেয়ারম্যান (৪৩), নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রাজু (৩০), ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম (৩০), আবু নাসের (৫৪), যুবলীগ নেতা আহসান হাবিব (২৭), যুগ্ম আহŸায়ক রনি আহমেদ (৩৫), সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুর রহমান মাহি (৩৫), সাংগঠনিক সম্পাদক গুল আহমেদ কাজল (৪০), আসাদুজ্জামান তুহিন (৪১), যুবলীগ নেতা বদরুল আলম (৪৫) সহ প্রমুখ।
মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ৪ আগস্ট দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার ওসমানী রোডের মূল পাকা রাস্তার উপর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র জনতার বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ চলাকালিন সময় দুষ্কৃতিকারী আওয়ামীলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র, ককটেল, রামদা, লোহার পাইপ, হকিস্টিক, লোহার রড ও নাম না জানা অস্ত্র নিয়ে বর্ণিত সমাবেশে হামলা করে। ১-৫ নং আসামির হুকুমে প্রথমেই ৬,৭,৮,৯,১০,১১,১২,১৬ ও ১৭ নং আসামির হাতে বন্ধুক দিয়ে সমাবেশে ছাত্র জনতার উপর নির্বিচারে এলোপাতারি গুলি করিতে আরম্ভ করে। তখন সমাবেশের ছাত্র জনতা ছত্রভঙ্গ হইয়া পড়িলে অন্যান্য আসামিগণের হাতে থাকা কাটা বন্ধুক নাইন শুটার পিস্তল দিয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি চালাতে থাকলে সংবাদদাতা/বাদী সহ অসংখ্য ছাত্র জনতাকে গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত করা হয়। ৯নং আসামির হাতে থাকা নাইন শুটার দিয়ে সংবাদদাতা/বাদীকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করিলে আমার শরিরের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি ডান চোখে গুলি বিদ্ধ হই যার কারণে আমি অন্ধত্ব বরণ করা সমূহ আশংঙ্কা বিদ্যমান রইয়াছে। ১৩,১৮,১৯,২১,২৮ ও ২৯ নং আসামিগণ এ সময় আহত অবস্থায় আমার মাথা ও শরিরের বিভিন্ন অংশে রড দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক জখম করে। আমার চিৎকারে ছাত্র জনতা একত্রিত হয়ে আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করিলে ৫০ জন সন্ত্রাসী ওসমানী রোড পয়েন্ট হইতে উত্তর ও পূর্ব দিকে কলেজ রোডের দিকে পালিয়ে যায়। আমি সংবাদদাতা ও সমাবেশে থাকা ছাত্র জনতা সন্ত্রাসীদের চিনতে পারি। এজহারে বর্ণিত ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র দা, রামদা, ককটেল, হকিস্টিক ও দেশি-বিদেশি নাম না জানা অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে বর্ণিত ছাত্র জনতার মিছিলে বন্ধুক দিয়ে এলোপাতারি গুলি করে মিছিলের উপরে। মিছিলে থাকা আমার সহকর্মী ও উপস্থিত জনতা প্রথমে আমাকে মুমূর্ষ অবস্থায় হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলামের চেম্বারে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ঢাকাস্থ জাতীয় চক্ষু বিশেষজ্ঞ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করি।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।