March 18, 2026, 5:33 pm

সংবাদ শিরোনাম
শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? বদর দিবস উপলক্ষে গঙ্গাচড়ায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রংপুর জেলার নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সভা শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? ঈদের আগে হোটেল শ্রমিকদের বোনাস সংকটের ভেতরের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প পীরগাছার শল্লার বিল: ঘর উঠেছে, আস্থা ভেঙেছে

গৃহবধূকে ধর্ষণের বিচার ১০ জুতার আঘাত ২০ হাজার টাকা জরিমানা

গৃহবধূকে ধর্ষণের বিচার ১০ জুতার আঘাত ২০ হাজার টাকা জরিমানা

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের লালপুরের গোপালপুর পৌরসভার বিজয়পুর মধ্যপাড়া এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রী তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের বিচার হিসেবে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মো. আসাদুল ইসলাম অভিযুক্ত ধর্ষককে ১০ বার জুতার আঘাত ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। তবে, গোপন সূত্রে জানা গেছে, ঐ কাউন্সিলর ধর্ষককে কোনোরকম শাস্তি দিয়ে রক্ষা করবেন শর্তে ৫০ হাজার টাকা গোপনে ধর্ষকের পরিবারের কাছ থেকে নিয়েছেন। গত শুক্রবার বিকেলে ধর্ষণের শিকার ঐ প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে অনুষ্ঠিত এক গ্রাম্য সালিশে ধর্ষককে এই শাস্তি প্রদান করা হয়।

স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বর মো. ফজলুর রহমান জানান, পূর্ব পরিচয় থাকা পার্শ¦বর্তী কদিমচিলান পালোহারা গ্রামের বজলু প্রামাণিকের ছেলে তুষার ইসলাম (২০) রাত ১০টার দিকে প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে এসে বিদেশ থেকে স্বামীর পাঠানো কিছু টাকা দিয়ে চলে যায়। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর তুষার পুনরায় ফিরে এসে বলে আরও কিছু টাকা আছে ভুলে দেয়া হয়নি। এ কথা শুনে ঐ গৃহবধূ দরজা খুললে ঘরের ভিতর প্রবেশ করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তুষার তাকে ধর্ষণ করে। এসময় গৃহবধূ শব্দ করার চেষ্টা করলে ও ধস্তাধস্তির শব্দে আশপাশের লোকজন টের পেয়ে ধর্ষককে আটকে গণধোলাই দেয়। পরের দিন সকালে গ্রাম্য শালিসের ব্যবস্থা করলে সেখানে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর পিতা-মাতা বা অভিভাবকের উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত হয়। পরে বিকেলে সকলের উপস্থিতিতে বিচার কার্য অনুষ্ঠিত হয়।

ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর পরিবারের লোকজন জানান, এই বিচারে তারা সন্তুষ্ট নন। অপরদিকে থানা পুলিশকে জানালে গ্রাম্য মাতব্বরা তাদের মেয়েকে তালাক দেবে বলে ভয় দেখাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে তারা নিরুপায় হয়ে এই বিচার মেনে নিয়েছেন।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ধর্ষক তুষারের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় জানান, পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুল ইসলাম এটা ধর্ষণ নয় পরকীয়া সম্পর্ক এমন বিষয় তুলে ধরে বিচারে সামান্য শাস্তি প্রদান করবেন শর্তে গোপনে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন।

এদিকে ধর্ষণের শিকার ঐ গৃহবধূ জানান, তার প্রতি গ্রাম প্রধানেরা অবিচার করেছেন।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর আসাদুল ইসলাম গোপনে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, সকল গ্রাম প্রধানদের উপস্থিতিতে এই বিচার করা হয়েছে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু ওবায়েত জানান, এই ঘটনা তার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর