মিঠাপুকুর প্রতিনিধি ঃ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা সুমিষ্ট জিআই পণ্য হাঁড়িভাঙ্গা আমের রাজ্য হিসেবে পরিচিত। এই উপজেলা হতে সারা বিশ্বে পরিচিতি হাড়িভাঙ্গা আম। চলতি মৌসুমে আমের এই রাজ্যে সবুজ আর হলুদের মহামিলন ঘটেছে। আম গাছের মগডালে নতুন সাজে সবুজ পাতায় শোভা পাচ্ছে কাঁচা হলুদ আর সোনালী কালারে মুকুলে। চারিদিকে বাতাসে মৌ মৌ গন্ধে, শুভাশিত জানিয়ে দিচ্ছে মধু মাসের আগাম আগমন। উপজেলার আমবাগানগুলো সেজে উঠছে, পরিপূর্ণ পূর্ণতায় আশায়। দেখলেই মন ভরে যায়। কৃষিবীদদের ধারনা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্হানীয় চাষীরাসহ কৃষিবীদরা।
উপজেলার টকটকে লাল মাটির হাড়িভাঙ্গা আমের বাগানগুলো মুকুলে ছেয়ে গেছে, যা আমচাষিদের মধ্যে গভীর আশার সঞ্চার করেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মিঠাপুকুর উপজেলায় ১,৫২০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে, যার মধ্যে ১,৩০০ হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে সরেজমিনে উপজেলার ময়েনপুর, খোড়াগাছ, চেংমারী, বালুয়া,দৃর্গাপুর, লতিবপুর ইউপি ঘুরে দেখা গেলো,স্হানীয় আম চাষিরা, বাগান পরিচর্যায় ব্যস্তো সময় পার করছেন, বাগানে পানি চেস, পানি ছিটানো, বিভিন্ন ধরণে কীটনাশক প্রয়োগ, ভিটামিন, পচাড়ি কীটনাশক স্পেরে,, গাছের গোড়ায় সার প্রভৃতি ইত্যাদি মুকুল রক্ষায় প্রয়োজনীয় যত্ন নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, হাড়িভাঙ্গা আম ইতোমধ্যে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যা দেশ বিদেশে অনেক সুনাম অর্জন করেছেন, হাড়িভাঙ্গা আম। তবে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং সঠিক পরিচর্যার ওপর ফলনের সফলতা নির্ভর করছে। চাষিরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়াতে সতর্ক রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
সর্বোপরি, মিঠাপুকুরের হাড়িভাঙ্গা আমের মুকুলে ভরা বাগানগুলো এ বছর ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ময়েনপুর ইউপির আম চাষী কৃষক মোস্তফা আল মাসুদ চৌধুরী সাথে কথা বললে তিনি জানায়, গত বার যে আমের ফলন হয়েছে, এবার আমরা, আশা করছি তার দ্বীগুণ হবে, যদি প্রকৃতিক কোন দুর্যোগ না হয় ইনশাআল্লাহ। তবে যে পরিমানে আমরা বাগানে পরিশ্রম করি, তাতে করে, লেবার ও কীটনাশক পিছনে বেশী অর্থ ব্যায় হয়, যদি কীটনাশক গুলোর দাম একটু সহনীয় হয়, তাহলে আমার মনে হয়, কৃষক এখান থেকে লাভবান হবে, এবং দেশের অর্থনৈতিতে যুগান্তকারী উন্নয়ন হবে। আমরা কীটনাশক কাছে গিয়ে আটকে যাই, যে পরিমানে দাম, সব কৃষক তো সামলাতে পারে না।
ময়েনপুর ইউনিয়নের কৃষি উপ-সহকারী শাহ্ আজীজ এর সাথে কথা বললে,তিনি এই প্রতিবেদক কে জানায়, ময়েনপুর ইউপিতে টোটাল ৫শ হেক্টর জমিতে আম বাগান হয়েছে, এর মধ্যে ২৫০ হেক্টর জমিতে কাটিমন আম,গৌড়মতি ও বারি-৪ ব্যানানা মেংগো ২৫ হেক্টর জমিতে ও হাঁড়িভাঙ্গা ২২৫ হেক্টর জমিতে।
তিনি জানায় বানিজ্যিক ও নিরাপদ আম উৎপাদন প্রকল্পে মাধ্যমে,আমরা মিঠাপুকুর কৃষি অধিদপ্তর থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি ,উওম কৃষি চর্চা,বানিজ্যিক আম উৎপাদন সৃজন বাগান। সার ও বালাই ব্যবসথাপনা, প্রুনিং ও ব্যাগিং ব্যবসথাপনা, যাতে করে, আমাদের কৃষকরা ভালো ফসল উৎপাদন করতে পারে, আমরা সব সময় তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছি ও বিভিন্ন ভাবে প্রশিক্ষণ ও ট্রেনিং দিয়ে যাচ্ছি। কৃসকরাই আমাদের দেশের সম্পদ।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল আবেদীন বলেন, মিঠাপুকুর হাঁড়িভাঙ্গা আমের জন্য বিখ্যাত। যেহেতু ফুল আসছে এজন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মিঠাপুকুরের পক্ষ থেকে আমরা চাষীদের পরামর্শ ও ট্রেনিং দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত প্রেসক্রিপশন দিয়ে যাচ্ছি, যেন তারা ভালো ফসল উৎপাদন করতে পারে এবং ন্যর্য দাম পায়, সে দিকটায় আমরা দেখতেছি।।