এ.টি.এম সালাম,নবীগঞ্জ,হবিগঞ্জঃ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে রাজনৈতিক অঙ্গনে মুরাদ আহমদের ডিগবাজি নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে। তার এক অঙ্গে কয়টি রুপ সেটাই এখন টক অব দ্যা টাউন। কখনও সে সাংবাদিক নেতা কখনও রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে ডিগবাজি করাই তার কাজ।
নবীগঞ্জে মুরাদের ডিগবাজিরতে রাজনৈতিকবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ চরম ভাবে বিভ্রান্ত পরিস্থিতিতে অতীষ্ট। ফেসবুকে মানুষের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাই তার প্রধান কাজ। এখন পর্যন্ত নবীগঞ্জে ৮/১০ বার রাজনীতিতে ডিগবাজি দিয়েছেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আবারো রাজনীতিতে ডিগবাজি দিয়ে আলোচনা এসেছেন।
এখন পর্যন্ত ৭বার পাটি বদলের খবর পাওয়া গেছে। ১৯৯৪ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে তার রাজনীতির ডিগবাজি শুরু হয়।
সে ১৯৯৪ সালে সে ছাত্র শিবির রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করে। ১৯৯৫ সালে সিলেট পলিটেকনিক কলেজে ছাত্র শিবিরের লিফলেট বিতরণের সময় বড় দাঙ্গার সৃষ্টি হয় ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে। সে ছিলো ঐ ঘটনার মুল নায়ক। পরে শিবিরের তদন্ত টিম তাকে দোষী সাবস্থ্য করলে ছাত্র শিবির থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়।
এবং পরে কলেজ থেকে কর্তৃপক্ষ স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করা হলে পালিয়ে আসে। নবীগঞ্জে এসে একটি জাতীয় পাটির ছাত্র সংগঠনে ছাত্র সমাজে যোগ দেয়। সে উপজেলার শাখার আহবায়ক ও সভাপতি হয়।
সেখানে সে দাঙ্গা হাঙ্গামা ও কোন্দল সৃষ্টির জন্য একাধিকবার বহিস্কার হয়। তিন চার দফায় বহিস্কার হয়ে, আবার জাপার অঙ্গ সংগঠন যুব সংহতির উপজেলা শাখায় যোগ দান করে। সেখানে উপজেলা শাখার আহবায়ক হয়ে কোন্দল সৃষ্টি করলে তাকে আবারো বহিস্কার করা হয়। এর পর সাবেক জাপা সাংসদ মরহুম খলিলুর রহমান রফি ও সাবেক সাংসদ এম,এ মুনিম চৌধুরী বাবুর হাতে পায়ে ধরে জাতীয় পাটিতে যোগ দান করে। জাপার মুল সংগঠনে এসে নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার যুন্ম সাধারণ সম্পাদক হয়ে সেখানে কোন্দল দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি করে।
জাপার একটি সভায় শহরে বড় ধরনের দাঙ্গার সৃষ্টি করে। সেই মামামারির সময়ে সে দৈনিক বিবিয়ানা অফিস ভাংচুর করে। তখন ঐ মামলায় প্রধান আসামি ছিলো ঐ ডিগবাজির নায়ক মুরাদ আহমদ। সেই মামলা আদালতে মুচলেখা দিয়ে শেষ রক্ষা হয়। জাপায় থাকতে দলের নেতাকর্মীদের হাতে কতবার হেনেস্থা লাঞ্চিত হয়েছে শেষ নেই। পরে জাতীয় পাটি থেকে তাকে স্থায়ী ভাবে বহিস্কার করা হয়। আর তাকে জাতীয় পাটি ফিরিয়ে না নিলে ২০১৮ সালে সে নাম সর্বস্ব পাটি গনফোরামে যোগদান করে।অফিস ও প্রেস ব্রিফিং নির্ভর গনফোরামে যোগ দিয়ে উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব হয়। সে ২০১৯ সালে করোনাকালীন সময়ে গনফোরাম থেকে ত্রান বিতরণে অনিয়ম ও আত্বসাৎ এর জন্য তাকে বহিস্কার করা হয়।
এর পরে সে আবার ডিগবাজির করে ড. রেজা কিবরীয়ার গণ অধিকার পরিষদে যোগদান করে। সেখানে উপজেলা কমিটির সদস্য হয়ে কোন্দল সৃষ্টি করলে সেখান থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়। পরে ২০২২ সালে জাতীয় পাটি রওশন এরশাদ এর দলে যোগ দেয়। সেখানে কোন্দল সৃষ্টি করে। রওশন এরশাদ গ্রুপের সদস্য। সচিব দাবি করে পত্র পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে সে পল্টি মারে আবারো।
উপজেলা জামাতে ও বিএনপিতে যোগদানের জন্য পায়তারা শুরু করে। কিন্তু ঐ দুটি দলে যোগদান করতে ব্যর্থ হয়। বর্তমানে সে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছে। কয়েকদিন আগে একটি ভুয়া অভিযোগ ডিসি অফিসে নবীগঞ্জ ছাত্র আন্দোলনের সম্বনয়ক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে তার ফেসবুকে মিথ্যা অপ প্রচার কওে নবীগঞ্জের পরিবেশ উতপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
সে ২০০৬ সালে বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে অফিসার পরিচয় দিয়ে চাকুরী দেয়ার নাম করে দালালী ও প্রতারণা করে অনেকের কাছে থেকে টাকা নিলে। নবীগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা হয়। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠালে বাদীর সাথে আপোষ মুচলেখায় জামিনে আসে। ২০০৫ সালে সালামত পুর বাসষ্টেশন থেকে পুলিশ তাকে চাঁদাবাজির অভিযোগ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি,দালালি ও প্রতারণার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় মামলা হয়। সে চুনারুঘাট থানায় দালালী ও প্রতারণার মামলায় আটক হয়ে জেল হাজতে যায়। ২০১৮ সালের বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচনী ধাঙ্গা ও কালো টাকা বিতরণের অভিযোগে এই হলুদ সাংবাদিকতার জন্য মুরাদ আহমদকে গ্রেফতার করে ৩মাসের সাজা প্রদান করা হয়।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে কথা বললেই সে নামেবেনামে বিভিন্ন লোকজন দিয়ে মিথ্যা ভিত্তিহীন নানা অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে দিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে নানা ফায়দা হাছিল ও চাঁদাবাজি করে আসছে।
বিগত আওয়ামীলীগের জোটবদ্ধ সরকার থাকায় উক্ত মুরাদ আহমদ জাপা নেতা পরিচয় দিয়ে নানা সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন। ২০১৪-২০১৮ইং সময়ে জোট প্রার্থী জাপা’র কেন্দ্রীয় নেতা এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু এমপি হলে নামে-বেনামে প্রকল্প দেখিয়ে একাধিক টিআর, খাবিকা বরাদ্ধ নিয়ে কাজ না করেই আত্মসাত করেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি এডভোকেট আমাতুল কিবরীয়া কেয়া চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেন। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তুমুল প্রচারনায় নামেন মুরাদ। জাতীয় পাটির মনোনীত প্রার্থী এম,এ মুনিম চৌধুরী বাবুর বিরুদ্ধে প্রচারণা করে আবারো দল থেকে বিতারিত হন।
আওয়ামীলীগ সরকারের দীর্ঘ শাসন আমলে হবিগঞ্জ সদর আসনের সাবেক এমপি এডভোকেট আবু জাহির এর সাথে শখ্যতা গড়ে তোলেন। তৎকালীন সময়ে এডভোকেট আবু জাহিরের কাছের লোক দাবী করে তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নানা সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার এক মামা সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা দাবী করে, তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না বলেও হুংকার দেয়।
কিন্তু ৫ আগষ্টের পর দেশের পটপরিবর্তন হলে এবং আওয়ামীলীগের বিপর্যয় দেখে উক্ত মুরাদ আবারও রাজনৈতিক ডিগবাজি শুরু করেছেন। আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের শ্লোগান তোলে অতীতের কুকর্ম ঢাকতে এবং নিজে’কে সাধু বানানোর অপচেষ্টা করছেন। উক্ত মুরাদ আহমদের ডিগবাজি নিয়ে এলাকায় হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।