July 25, 2024, 8:48 am

সংবাদ শিরোনাম
বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের অভিযানে ১০ হাজার ইয়াবাসহ যুবক আটক পার্বতীপুরে নব-নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাই চেয়ারম্যানদ্বয়ের সংবর্ধনা রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকা হতে জাল সার্টিফিকেট ও জাল সার্টিফিকেট তৈরীর সরঞ্জামাদিসহ ০২ জন’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ র‌্যাব-১০ এর অভিযানে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকা হতে ইয়াবাসহ ০১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টিপাত পাহাড় ধ্বসে নারী-শিশু নিহত পীরগঞ্জে মসজিদের দোহাই সরকারি খাস জমির গাছ কর্তন পার্বতীপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক হোসেন এর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন দারুসসালাম লাফনাউট মাদ্রাসার দস্তারবন্দী নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু পীরগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর শিশু’র লাশ উদ্ধার মাদক মামলায় ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত দীর্ঘদিন পলাতক আসামী আলাউদ্দিন’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০

বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ

বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়া প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা পদত্যাগ করেছেন। ব্যাপক আলোচনার মধ্যে বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার দুপুরে বিচারপতি সিনহার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা জানানো হয়। এর আগে গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, বিচারপতি সিনহার কোনো পদত্যাগপত্র বঙ্গভবনে পৌঁছায়নি। একই সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আরেক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিচারপতি সিনহার পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানেন না। দুপুর ১টায় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, উনার পদত্যাগপত্র আজই (গতকাল শনিবার) বঙ্গভবনে এসেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনা এটাই প্রথম। ষোড়শ সংশোধনের বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ৩ অক্টোবর ছুটি নিয়ে ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় যান বিচারপতি সিনহা। সেখানে তার মেয়ে থাকে। পরে তার স্ত্রীও ঢাকা থেকে অস্ট্রেলিয়া যান। প্রায় এক মাস অস্ট্রেলিয়ায় বড় মেয়ের কাছে কাটিয়ে বিচারপতি সিনহা সিঙ্গাপুর হয়ে কানাডায় ছোট মেয়ের কাছে রওনা হন গত শুক্রবার। তার আগে তিনি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠান। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পাওয়া বিচারপতি সিনহার চাকরির মেয়াদ ছিল আগামি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিচারপতি সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পর আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান বিচারপতি দায়িত্বে ফেরা না পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়াই ওই দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন। বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ ওঠার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সর্বোচ্চ আদালত জানায়, ওই সব অভিযোগের ‘গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা’ তিনি না দিতে পারায় সহকর্মীরা তার সঙ্গে এজলাসে বসতে নারাজ। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলে আসছিলেন, সহকর্মীরা বসতে না চাওয়ায় এস কে সিনহার প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ফেরা ‘সুদূর পরাহত’। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২১ জন বিচারক প্রধান বিচারপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাই প্রথম পদত্যাগ করলেন। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের তোপের মুখে ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর সেখানে থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি। বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার বিচারপতি সিনহার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা জানানো হয়। স্বাধীনতার পর বিচারপতি আবু সাদত মোহাম্মদ সায়েম ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম বিচারপতি। বাংলাদেশের ৪৭ বছরে এস কে সিনহাই ছিলেন প্রথম অমুসলিম প্রধান বিচারপতি। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এস কে সিনহা। বয়স অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে কার্যকাল শেষ হল মেয়াদের ৮১ দিন আগেই। দায়িত্ব পালনের আগে থেকে নানা কারণে আলোচিত ছিলেন বিচারপতি সিনহা, পরেও নানা ঘটনায় হন আলোচিত। যুদ্ধাপরাধের মামলার শুনানিতে একাত্তরে নিজের শান্তি কমিটিতে থাকার কথা তুলে ধরে আলোচিত হন বিচারপতি সিনহা। তবে তিনি একইসঙ্গে বলেছিলেন, শান্তি কমিটির ছদ্মাবরণে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছিলেন তিনি। প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করার অভিযোগ নানা সময় তুলেছিলেন তিনি। নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ নিয়ে তার সঙ্গে সরকারের বিরোধও ছিল আলোচিত। অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকর্মী বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে তার বাদানুবাদ বিচারাঙ্গন ছাড়িয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়ায়। এরপর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ভাস্কর্য স্থাপন নিয়েও সরকারের সঙ্গে টানাপড়েন চলে বিচারপতি সিনহার। তার শেষ বিতর্কের শুরু সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে, যা প্রথমে ছুটি এবং শেষে পদত্যাগে গিয়ে শেষ হয়। চলতি ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ওই রায় প্রকাশের পর থেকে পাঁচ মাসেই ঘটে যায় সব ঘটনা। রায়ের পর ঘটনাক্রম:

৩ জুলাই ২০১৭: উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় বহাল রেখে রায় দেয় আপিল বিভাগ।

১ অগাস্ট, ২০১৭: আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এই রায়ে প্রধান বিচারপতি সিনহার ৪০০ পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ থাকে।

৯ অগাস্ট, ২০১৭: রায়ের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে কঠোর সমালোচনাও করেন তিনি।

১০ অগাস্ট, ২০১৭: ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতির ‘অগ্রহণযোগ্য’ বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

১২ অগাস্ট, ২০১৭: প্রধান বিচারপতি সিনহার সঙ্গে দেখা করে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে দলীয় বক্তব্য জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

১৩ অগাস্ট, ২০১৭: রায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের।

১৬ অগাস্ট, ২০১৭: রায় নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলোচনা।

২২ অগাস্ট, ২০১৭: প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব ছাড়তে বিচারপতি এস কে সিনহাকে সময় বেঁধে দেয় আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। তা না হলে তাকে অপসারণে আন্দোলনের হুমকি। ২৪ অগাস্ট, ২০১৭: সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শুরুর আগে শেষ অফিস করেন বিচারপতি সিনহা।

২৪ অগাস্ট, ২০১৭: আদালতের কার্যক্রম চলাকালে বক্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত না করতে সংবাদকর্মীদের প্রতি আহ্বান বিচারপতি সিনহার।

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭: সুপ্রিম কোর্টে অবকাশর মধ্যে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর বিদেশ সফরে ছিলেন এস কে সিনহা।

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭: ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব গ্রহণ; বিচারপতি সিনহার তীব্র সমালোচনা।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭: সুপ্রিম কোর্টের ১৪ অক্টোবরের বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ডেকে নিয়ে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ‘১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ তুলে ধরেন।

১ অক্টোবর ২০১৭: বঙ্গভবনের ওই বৈঠক থেকে ফিরে পরদিন ১ অক্টোবর আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি ইমান আলী নিজেরা বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তারা প্রধান বিচারপতির হেয়ার রোডের বাড়িতে গিয়ে এই বিষয়ে কথা বললে বিচারপতি সিনহা ‘দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের’ওই অভিযোগগুলোর ‘গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা’ দিতে পারেননি বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

২ অক্টোবর, ২০১৭: নানা নাটকীয়তার পর অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর ছুটিতে যাওয়ার আবেদন বিচারপতি সিনহার। পরে আরেক আবেদনে ছুটির সময় বাড়িয়ে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল।

৬ অক্টোবর, ২০১৭: প্রধান বিচারপতির খোঁজ নিতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে তার বাসায় যেতে চান বিএনপি সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা আইনজীবী সমিতির নেতারা। তবে পুলিশ তাদের গাড়ি আটকে দেয়।

১৩ অক্টোবর ২০১৭: ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যান প্রধান বিচারপতি সিনহা। তার আগে সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা তিনি বিব্রত, শঙ্কিত।

১৪ অক্টোবর ২০১৭: সুপ্রিম কোর্টের বিরল বিবৃতি; প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ।

১১ নভেম্বর, ২০১৭: সিঙ্গাপুর দূতাবাসের মাধ্যমে পাঠানো এস কে সিনহার পদত্যাগপত্র পৌঁছায় বঙ্গভবনে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর