May 26, 2024, 6:28 am

সংবাদ শিরোনাম
মাঝরাত্রে প্রবাসীর ঘরে ঢুকে স্ত্রীও মা কে ছুরি মেরে পালালো দুর্বৃত্তরা বগুড়ার শিবগঞ্জে জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন: এমদাদুল আহবায়ক রবি সদস্য সচিব গাইবান্ধা প্রসক্লাব’র কমিটি গঠিত প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা, বাগাতি পাড়ার ভূমিহীন রাবেয়া বেগমের জৈন্তাপুরে ৫১০ বোতল ফেনসিডিল সহ এক নারী আটক পটুয়াখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু এন এস আই পরিচয় দিয়ে এন এস আই এ চাকরির মিথ্যা প্রলোভনে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ আটক দুই পটুয়াখালীতে প্রতিমা ভাঙচুর ও স্বর্ণের চোখ চুরি মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার আদমদীঘিতে হেলমেট নেই, জ্বালানি নেই কার্যক্রম শুরু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

খুলনার ভদ্রা ও শালতা নদী খুবলে খাচ্ছে ৫৭৩ দখলদার

খুলনার ভদ্রা ও শালতা নদী খুবলে খাচ্ছে ৫৭৩ দখলদার

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

 

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার এক সময়কার প্রবাহমান ভদ্রা আজ অস্তিত্বহীন। অবৈধ দখলদাররা নদীটির ৩০ কিলোমিটার খুবলে খেয়ে ফেলেছে। হারিয়ে যাওয়া নদীর বুকে গড়ে তোলা হয়েছে ইমারত। পরিণত হয়েছে গ্রাম-হাট-বাজারে। দেড় যুগ ধরে চলা দখলদারিত্বে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আঁতাতের রাজনীতি কায়েম করেছে। নামে-বেনামে দখলের পর হাত বদলের মাধ্যমে পকেটে এসেছে কাড়ি কাড়ি টাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ নদীর ৫৭৩ অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরি করেছে। এদিকে, সরকার ভরাট ও দখলে যাওয়া ভদ্রা এবং সালতা এ দুটি নদী খননের উদ্যোগে মাথায় বাজ পড়েছে রাজনৈতিক সুবিধাভোগিদের। এখন তারা নানা হাত বদলের পর সর্বশেষ দখলে থাকাদের নিয়ে শুরু করেছে খনন ঠেকাও আন্দোলন। দাবি করা হচ্ছে, ভূমিহীনদের পুনর্বাসন ও পরিকল্পিত নদী খননেরও। উপজেলা প্রশাসন দখলদার উচ্ছেদে মাইকিং করলেও সরছে না অবৈধভাবে নদীর বুক আঁকড়ে থাকাদের। স্থানীয় সূত্র জানান, ভদ্রা ও সালতা নদী দুটি আশির দশক থেকে পলি পড়ে ভরাট হতে থাকে। তৎকালীন ক্ষমতাসীন জাতীয় পার্টির মন্ত্রী এইচ,এম,এ গফফারকে (বীর উত্তম) সরকার মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ভদ্রা নদীর চর অববাহিকা থেকে ১ একর জমি দান করেন। সেই সুবাদে তাঁর ভাতিজা তৎকালীন জাপা নেতা (বর্তমানে আ. লীগ সদস্য) এইচ,এম, রউফ এবং তার ভাই যুবলীগ নেতা মাসুদ রানা নান্টুও বেশ কিছু খাস জমি অবৈধ দখল করেন। এ ছাড়া সাহস গ্রামের ভূমিদস্যু খ্যাত আবদুর রহমানসহ কয়েকজন ডুমুরিয়া মৌজার কিছু জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত নেন। পরবর্তীতে তারা ওই জমি প্লট আকারে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেন। এই সূত্র মতে, ২০০১ সালে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর ডুমুরিয়া সদরের সাবেক ইউপি চেয়াম্যান ও বিএনপি নেতা মোল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজ, তার নিকট আীয়রা এবং শোভনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আলীগ নেতা সরদার আবদুল গনি, সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শেখ মতিয়ার রহমান বাচ্চু, বর্তমান ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা শেখ আবদুল কাদের, সাহস ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আলীগ নেতা শেখ আবদুল কুদ্দুস, সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মোজাফফর সরদারসহ তৎকালীন কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা একাট্টা হয়ে খাস জমি মোটা অঙ্কের আর্থিক চুক্তিতে বন্দোবস্তের নামে দখল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ভূমিহীনদের স্থায়ী বসতি স্থাপনের সুযোগ করে দেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবোর সূত্র জানান, উল্লিখিত ব্যক্তিগণসহ ভদ্রা নদীর সীমানার মধ্যে ডুমুরিয়া থেকে দিঘলিয়া পর্যন্ত ৫৭৩ জন দখলদারের বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। অবৈধ দখলদারের তালিকায় আরও দেখা গেছে, সাহস মৌজায় মোফাজ্জেল ইসলাম শেখের (আলীগ নেতা বুলুর পার্টনার) জে,বি-২, সাহস আশ্রায়ন প্রকল্পে ৯০টি টিন সেড ঘর, ভা-ারপাড়া আবাসনে ২৬০টি ঘর, ভদ্রদিয়া মৌজায় জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ স¤পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী আবদুল হাদীর সেতু ব্রিকস, খান মোঃ মাহাবুর রহমানের সেফা এবি-২, জি,এম হাফিজুর রহমানের এবি-এ, উদয় চক্রবর্তীর ঘর, ডুমুরিয়া মৌজায় রউফ মীর, চিংড়া মৌজায় কাদের শেখর পাকাঘর, মোঃ আবদুল হাইর কাঁচা ঘর এবং মনিরুল মোল্যাসহ ৫৭৩ জন দখলদার রয়েছে। এ ছাড়া নদীর উন্মুক্ত জলাশয়ের কিছু অংশ মোল্যা পরিবারের সদস্য মনিরুল মোল্যা ও ফরিদ মোল্যাসহ অনেকেই অবৈধভাবে ভোগ দখল করছে। এমনকি ডুমুরিয়ার আইতলায় একটি মসজিদের নামে জমি দখল নিয়ে দখলকৃত জমি অন্য ব্যক্তির কাছে টাকার বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে, ডুমুরিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ সদস্য গাজী হুমায়ুন কবির বুলু ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সালতা নদীর ডুমুরিয়া বাজার অংশের বিপুল জায়গা দখল করে মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। যার কারণে অবৈধভাবে জমি দখলদার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নানা অজুহাতে নদী খনন কাজ বন্ধ করতে বৈধ-অবৈধ দখলদারদের নিয়ে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ুন কবির বুলু নদী দখলের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার স্থাপনার জমি রেকর্ডীয় মালিকদের কাছ থেকে কেনা, এক ইঞ্চি জমিও খাস না। তবে অনেকেই ভদ্রা ও সালতা নদী দখল করে স্থাপনা তৈরি এবং অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। শোভনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সরদার আবদুল গনি এবং সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শেখ মতিয়ার রহমান বাচ্চু বলেন, তারা নদী খননের বিরুদ্ধে নন। তবে ভূমিহীনদের পুনর্বাসন এবং পরিকল্পিতভাবে নদী খনন করতে হবে। যাতে করে উচ্ছেদ হওয়া কমসংখ্যক মানুষ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান। ডুমুরিয়া উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র জানান, ১৯৮৬ সালে নদী ভরাটিয়া জমির কিছু অংশ দীর্ঘ মেয়াদী (৯৯ বছরের জন্য) বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সরকারি সিদ্ধান্তে এক কিলোমিটারের ভেতর বন্দোবস্ত না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও ২০১৩- ২০১৪ সালে উপজেলা ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জোগসাজসে বেশ কিছু জমি অবৈধ পন্থায় বন্দোবস্ত দলিল করে দেওয়া হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানান, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে নদী দুটি খননের জন্য প্রকল্প জমা দেওয়া হয়। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সরকার সেপ্টেম্বর মাসে একনেকের বৈঠকে ৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে খনন কাজ শুরু হয়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে শেষ হবে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২৯ পোল্ডারের কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল ইসলাম ও হাসনাতুজ্জামান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর