July 20, 2024, 7:40 am

সংবাদ শিরোনাম
বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের অভিযানে ১০ হাজার ইয়াবাসহ যুবক আটক পার্বতীপুরে নব-নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাই চেয়ারম্যানদ্বয়ের সংবর্ধনা রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকা হতে জাল সার্টিফিকেট ও জাল সার্টিফিকেট তৈরীর সরঞ্জামাদিসহ ০২ জন’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ র‌্যাব-১০ এর অভিযানে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকা হতে ইয়াবাসহ ০১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টিপাত পাহাড় ধ্বসে নারী-শিশু নিহত পীরগঞ্জে মসজিদের দোহাই সরকারি খাস জমির গাছ কর্তন পার্বতীপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক হোসেন এর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন দারুসসালাম লাফনাউট মাদ্রাসার দস্তারবন্দী নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু পীরগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর শিশু’র লাশ উদ্ধার মাদক মামলায় ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত দীর্ঘদিন পলাতক আসামী আলাউদ্দিন’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০

চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে বেহাল তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা

চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে বেহাল তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

 

 

জনবল সঙ্কটের কারণে গ্রামপর্যায়ে অধিকাংশ মানুষই চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা থানা বা উপজেলা পর্যায়ে বদলি হলেও নানাভাবে রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় বা জেলা শহরে কাজ করেন। তারা বড় বড় বেসরকারি হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চেম্বাওে রোগী দেখেন। এসব কারণে প্রায় ১২ হাজার চিকিৎসক জেলা, উপজেলা ও গ্রামে থাকছেন না। যার কারণে তৃণমূলে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে। ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের উদ্যেগ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বারবার বলছেন- সরকারি চাকরি করতে হলে উপজেলা পর্যায়ে বাধ্যতামূলকভাবে ৩ বছর কাজ করতে হবে। কিন্তু তার ওই ঘোষণা বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, উপজেলা পর্যায়ে ৫০ বেড হাসপাতালে ২১ জন এবং ৩১ বেড হাসপাতালে ৯ জন চিকিৎসক পদ রয়েছে। তাছাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে। জেলা পর্যায়ে জেনারেল হাসপাতাল এবং সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের পদ ভিন্ন ভিন্ন থাকলেও বর্তমানে সব জেলা উপজেলা ইউনিয়ন পর্যায়ে কোথাও প্রেষণে ও কোথাও ডিপুটেশন, প্রশিক্ষণে রয়েছেন অনেক চিকিৎসক। অনেকে সপ্তাহে ২ দিন, অনেকে মাসে ৪ দিন হাজিরা দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর বেসরকারি হাসপাতাল এবং ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছেন। মূলত বেশিরভাগ চিকিৎসক শহরে থাকতে চায়। উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি চিকিৎসাসেবা নেই বললেই চলে। দেশের বেশিরভাগ উপজেলা একই চিত্র বিদ্যমান।

সূত্র জানায়, তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের অনেকেই দলীয় পরিচয়ে বিষয়ভিত্তিক ডিগ্রি নেয়ার জন্য উপজেলা হাসপাতালে থাকছেন না। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে প্রশিক্ষণের জন্য ১ বছর কাউন্ট করা হয়, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ৩ বছর কাউন্ট করা হয়। এজন্য চিকিৎসকরা জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন সাব সেন্টারে থাকতে আগ্রহী না। প্রশিক্ষণ শেষে উপজেলা পর্যায়ে এসব চিকিৎসকের পদ থাকছে না বিধায় তারা বড় হাসপাতালে থেকে যায়। এভাবে প্রশিক্ষণ, ডেপুটেশন এবং প্রেষণের নামে প্রায় ৬/৭ হাজার চিকিৎসক রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। যদিও ওসব চিকিৎসক ওসব জেলা-উপজেলা থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। কাগজ-কলমে জেলা-উপজেলায় রয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢাকায় বিভিন্ন সভা-সেমিনারে চিকিৎসকদের নানাভাবে সতর্ক হুঁশিয়ার করছেন কর্মস্থলে না থাকলে শাস্তি হবে, চাকরিচ্যুত করা হবে। ওসব কিছুতেই ভয় পান না চিকিৎসকরা। বর্তমানে সারাদেশে ২ হাজার চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে এ সংখ্যা অনেক বেশি। অননুমোদিত চিকিৎসক প্রেষণ ডেপুটেশন, কাগজে-কলমে উপস্থিতি এবং বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণের অজুহাতে প্রায় ১২ হাজার চিকিৎসক অনুপস্থিতি রয়েছেন। যে কারণে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মফস্বলের চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশীরা।

এদিকে এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা: সমীর কান্তি সরকার জানান, সারাদেশে চিকিৎসকের পদ রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার। শূন্যপদে রয়েছে প্রায় ২ হাজার। নতুন নতুন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হলেও অদ্যাবদি নতুন পদ সৃষ্টি হয়নি। প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার চিকিৎসক অবসরে যান। ২০১৪ সালে ৬ হাজার ৩শ’ চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শূন্যপদ পূরণে ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের জন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ওই ব্যাপারে জরুরিভাবে তাগিদও দেয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের শূন্যপদ পূরণে বিসিএস এর মাধ্যমে চিকিৎসক নিয়োগ হচ্ছে। ৩৭তম বিসিএস থেকে চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে চিকিৎসক নেয়ার জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের গুরুত্ব দেখেই অনেক ক্ষেত্রে বাইরের বদলিকৃত চিকিৎসককে ঢাকায় রাখা হয়। নিয়মিত পদ অথবা জনবল পূরণ হলে তারা তাদের বদলীকৃত কর্মস্থলে ফিরে যাবেন।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর