December 5, 2025, 8:29 pm

সংবাদ শিরোনাম
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার দামুর চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভার:) ও লাইব্রেরিয়ান প্রশংসাপত্র ও নম্বরপত্র দেয়ার নামে ২২ হাজার টাকা দাবি গঙ্গাচড়ায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি পালন যশোরে ৫ অস্ত্র গুলি মাদকসহ লিটন গাজী আটক গংগাচড়ায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জামায়াতে ইসলামী আর্থিক সহায়তা প্রদান বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন, সম্পাদক জহির বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র মারা গেছেন মহেশপুরে প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ওসির সৌজন্য সাক্ষাৎ তারাগঞ্জে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ : বিএনপি-জামাতের পাল্টাপাল্টি দোষারোপ ১ ডিসেম্বর হাসিনা, রেহানা ও টিউলিপের মামলার রায় একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি।

নরসিংদী বিভিন্ন বাজারে রুপচাদার নামে বিক্রি হচ্ছে ক্ষতিকর পিরানহা মাছ

নরসিংদী বিভিন্ন বাজারে রুপচাদার নামে বিক্রি হচ্ছে ক্ষতিকর পিরানহা মাছ

মোঃ কামাল হোসেন ভূঞাঁ, নরসিংদী


নরসিংদী জেলার বিভিন্ন বাজারে  দেশি রুপচাদার নামে বিক্রয় হচ্ছে ক্ষতিকারক ও নিষিদ্ধ  ঘোষিত পিরানহা মাছ।

পিরানহা নামের মাছটি মূলত আমাজন নদীর একটি ভয়ঙ্কর মাছ। মানুষখেকো হিসেবেও এই মাছটি পৃথিবীতে পরিচিত।
বড় বড় দাঁত বিশিষ্ট পিরানহা মাছ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় ২০০৭ সালে এ মাছ সংরক্ষণ, বিপনন, প্রজনন ও প্রদর্শণ বাংলাদেশে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তা সত্ত্বেও এক  শ্রেণির অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী বেশী মুনাফার লোভে এই মাছ অধিকাংশ হাট-বাজারে অবাধে বিক্রি করছে। শুধুমাত্র উপজেলা মৎস্য অফিস অথবা উপজেলা পরিষদের সম্মুখে পিরানহা মাছের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে একটি সাইনবোর্ড টানানো আছে, যা গ্রামীণ সাধারণ মানুষ পিরানহা মাছের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে অবগত নয়।

এ মাছটির ক্ষতিকর দিক ও  নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা না থাকায় মানুষ প্রতিদিনই এসব মাছ খাচ্ছে।  তাছাড়া জেলা ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ এ মাছের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন না করায় এবং মাছ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার শাস্তিমূল ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় নরসিংদী জেলার বিভিন্ন জেলায় এর চাহিদা বেড়ে চলেছে।

পিরানহা মাছটি দেখতে আকর্ষণীয় এবং দামেও কম। গ্রামীণ বাজারগুলোতে আধা কেজি হইতে ২ কেজি ওজন পর্যন্ত পিরানহা মাছ পাওয়া যায়। প্রতি কেজি মাছের দাম ৮০ টাকা হইতে ১৫০টাকা।

সূত্রে জানা গেছে, পিরানহা মাছটি প্রথম আফ্রিকায় বাণিজ্যিকভাবে  উৎপাদন শুরু হয়। সে দেশে পিরানহা মাছ উৎপাদন হওয়ার পর মাছটির ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে জানা গেছে, মাছটি মানুষের খাবার উপযোগী নয়, এটি বিষাক্ত মাছ। একপর্যায়ে এই মাছ বাংলাদেশে চলে আসে।

মনোহরদী উপজেলার চালাকচর বাজার, শেখের বাজারসহ বড় বড় বাজারগুলোতে প্রতিদিনই পিরানহা মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। গ্রামীণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন, মৎস্য বিভাগের লোকজন কোনো দিন হাটে এসে এই মাছ কিনতে নিষেধ করেন নি। এমনকি বাজার গুলোতে জাটকা ইলিশ বিক্রয় বন্ধের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রকাশ করলে ও গ্রামীণ এসব হাট বাজারে পিরানহা মাছ চাষ, বিক্রয় এবং এর ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে কোন বিজ্ঞাপন নেই।

এ বিষয়ে মৎস সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন কিছু অসাধু মৎস্য চাষীরা স্বল্প পুঁজিতে বেশি মুনুফার আশায় যদি ক্ষতিকর পিরানহা মাছ চাষ অব্যাহত রাখে তবে খাল বিল নদী নালায় এ মাছ ছড়িয়ে পড়লে ভবিষ্যতে খাল বিলে নদীতে দেশি প্রজাতির  মাছসহ অন্যান্য কোন মাছই আর না থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া পিরানহা মাছ অত্যন্ত রাক্ষুসে স্বভাবের হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির জীববৈচিত্র্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এ কারণেই ভয়াবহ ক্ষতিকর এই পিরানহা মাছ চাষ ও বাজারজাত করণে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর