পুকুর থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার, স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর মো. মর্তুজা মিয়া (৭০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়নের কেয়ারী গ্রামের একটি পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকা- আখ্যা দিয়ে হত্যাকা-ের জন্য বৃদ্ধের দ্বিতীয় স্ত্রীকে অভিযুক্ত করছেন প্রথম স্ত্রীর সন্তানেরা। যদিও দ্বিতীয় স্ত্রী এই অভিযোগ অস্বীকার করছেন। মর্তুজা মিয়া ওই গ্রামের আসাদ মিয়ার (মৃত) ছেলে। তিনি ডাক বিভাগের কর্মচারী ছিলেন।
মর্তুজা মিয়ার প্রথম পক্ষের মেয়ে মরিয়ম আক্তার বলেন, ‘২০০০ সালে আমার মায়ের মৃত্যু হলে বাবা মারজাহান বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েক বছর পর থেকে নোয়াগাঁও গ্রামের দুলাল মিয়া নামে এক পুরুষের সঙ্গে মারজাহান বেগম পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে প্রায়ই বাবার সঙ্গে আমার সৎ মায়ের ঝগড়া বিবাধ লেগে থাকতো। গত বৃহস্পতিবার রাতে তার নামে সম্পত্তি লিখে দিতে অনেক জোরাজুরি করেন সৎ মা। গত গত শুক্রবার সকালে বাবা গ্রামের মানুষকে বিষয়গুলো জানান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে সৎ মা আমার ছোট ভাইকে বলেন, “তোর বাবাকে সকাল ১১টা থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।” এরপর আমার বড় ভাবি (প্রথম পক্ষের ছেলের স্ত্রী) বাবার খোঁজে এলাকায় মাইকিং করান, থানায় জিডিও করেন। আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও বাবার কোনও খোঁজ পাইনি। সর্বশেষ গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে গ্রামের লোকজন বাবার মরদেহ পুকুরে ভেসে উঠতে দেখেন।’
মরিয়র আক্তার অভিযোগ করেন, ‘আমার বাবার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর এভাবে লাশ ফেলে রাখা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাই।’ তবে মর্তুজা মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী মারজাহান বেগম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এগুলো সব মিথ্যা কথা। আমার স্বামী গত গত শুক্রবার সকালে শাপলা তুলতে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার কোনও খোঁজ পাইনি। গতকাল শনিবার দুপুরে পুকুরের মধ্যে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন চিৎকার করলে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এ ছাড়া আমি আর কিছুই বলতে পারবো না।’ মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত গত শুক্রবার নিখোঁজের ঘটনায় ওই বৃদ্ধের প্রথম পক্ষের ছেলের স্ত্রী থানায় একটি জিডি করেছিল। গতকাল শনিবার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের আলোকে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’