পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষায় কমিটি গঠন, সময় পেল খাদ্য মন্ত্রণালয়
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক
বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধের মান যাচাই ও পরীক্ষার জন্য ১০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছেন খাদ্যসচিব। ওই পরীক্ষার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সচিবের পক্ষে ছয় মাস সময় চাওয়া হলে আদালত এক মাস সময় দিয়েছেন।
বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই সময় মঞ্জুর করেন। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২১ মে হাইকোর্ট রুল দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করে বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করে এক মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। খাদ্যসচিব, স্বাস্থ্যসচিব ও বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালকের প্রতি ওই নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরবর্তী আদেশের জন্য ২৬ জুন দিন রাখা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের পক্ষে আইনজীবী মো. ফরিদুল ইসলাম কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আদালতে দাখিল করেন এবং পরীক্ষার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ছয় মাস সময় প্রার্থনা করেন। আদালতে রিট আবেদনকারী আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ নিজে শুনানিতে অংশ নেন। কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, হাইকোর্টের আদেশ অনুসারে গত ২১ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও বিএসটিআইয়ের সঙ্গে আলোচনাক্রমে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদকে আহ্বায়ক করে ওই কমিটি গঠন করা হয়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের উপসচিব আবু সহিদ ছালেহ মো. জুবেরী সদস্যসচিব হিসেবে আছেন। দেশের বাজারে সব পাস্তুরিত তরল দুধের বিশুদ্ধতা ও খাদ্য মান যাচাই, বাজারে নকল বা ভেজাল দুধের অস্তিত্ব ও উৎস চিহ্নিতকরণ এবং এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণ, পাস্তুরিত দুধ বাজারজাতকরণের বিদ্যমান ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানসহ কয়েকটি বিষয় কমিটির কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছে। এর আগে আইসিডিডিআরবির গবেষণা নিয়ে গত মে মাসে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বাজারে প্যাকেটজাত যত তরল দুধ পাওয়া যায়, তার ৭৫ শতাংশকেই অনিরাপদ বলছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলেছেন, প্যাকেটজাত দুধে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার অর্থই হচ্ছে এটি কেউ পান করলে তার ডায়রিয়া ও পেটের পীড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ গত ২০ মে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন।