কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার মিরপুরে অপহরণের ১৬ দিন পর শিশু দেব দত্তের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার চিথলিয়া গ্রামে বাড়ির মাত্র দুইশ’ গজ দূরে একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
৯ জুন সকালে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে অপহৃত হয় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র দেব দত্ত। এরপর দুই দফায় অপহরণকারীরা ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে তার বাবা ও চাচাকে ফোন দেয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, সোমবার সকালে মিরপুর থানা ও জেলা ডিবি পুলিশের একটি টিম চিথলিয়া গ্রামে যায়। এরপর পবিত্র দত্তের বাড়ি থেকে মাত্র দুইশ’ গজ দূরে জহুরুল নামের এক ব্যক্তির বাড়ি পাশের পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাঙ্ক খনন শুরু করে। মাটি খুঁড়ে ভেতরে থেকে একটি পাটের বস্তা বের করে আনেন পুলিশ সদস্যরা।
পরে সেটি টিউবওয়েলের পানিতে ধুয়ে মুখ খোলা হয়। ভেতর থেকে প্রায় গলিত একটি মরদেহ বের করেন পুলিশ সদস্যরা। এরপর ডাকা হয় দেব দত্তের বাবা স্কুলশিক্ষক পবিত্র দত্তকে। তিনি এসে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন। এ সময় পুরো এলাকায় কান্নার রোল পড়ে যায়।
যে বাড়ির পাশ থেকে দেব দত্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেই বাড়ির গৃহবধূ নার্গিস জানান, তার স্বামী ১০ বছর ধরে বাড়িতে থাকেন না। পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগযোগ নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, অর্থের জন্যই দেব দত্তকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। তবে পুলিশি তৎপরতার কারণে শিশুটিকে তারা এলাকার বাইরে নিয়ে যেতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণের কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। বেশ কয়েকজনের নাম এসেছে। যে সিম ও মোবাইল দিয়ে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল, সেসবের সূত্র ধরেই তদন্ত চলছে।
সোমবার লাশ উদ্ধারের সময় নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর-ই-আলম সিদ্দিকী, সাখাওয়াত হোসেনসহ পুলিশের কর্মকর্তারা। অপহরণের পর পুলিশ সুপার এসএম মেহেদী ছাড়াও নুর-ই-আলম সিদ্দিকী পুরো বিষয়টি দেখভাল করছিলেন। দেব দত্তকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের ওপর চাপও ছিল। আন্দোলনও চলছিল জেলাজুড়ে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ পার পাবে না। তিনি বলেন, যেহেতু লাশটি গলে গেছে, ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
দবে দত্তের বাবা পবিত্র দত্ত সাংবাদিকদের বলেন,’ যারা আমার ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি চাই। কেউ যেন ছাড় না পায়।’