মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
মনু-ধলই ভ্যালির ২৩ টি চা- বাগানের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চায়ের কাপ থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে চলছে প্রার্থী নিয়ে আলোচনা সমালোচনা। ২৪ জ্নু বাংলাদেশ চা- শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে এবার ভ্যালীতে ৪ টি প্যানেল তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাস্ত দিন কাটাচ্ছিলেন। ছুটে গেছেন ভোটারের বাড়ি বাড়ি। এবার সংগ্রাম কমিটিকে সমর্থন করে ৩ টি প্যানেল। শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের ২ বারের নির্বাচিত সদস্য ও কমলগঞ্জ আওয়ামিলীগের সদস্য মাসিক চা- মজদুর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সীতারাম বিন সভাপতি ও ক্লীন ইমেইজের নেতা হিসেবে পরিচিত পাত্রখলা চা- বাগানের ২ বারের নির্বাচিত সাবেক ইউ পি সদস্য
কুশল চাষা ও ধলই চা- বাগানের মহিলা নেত্রী আলোমণি রবিদাস কে নিয়ে সীতারাম -কুশল-আলোমণি প্যানেল ( আম প্রতিক) । ও বর্তমান সভাপতি মাধবপুর চা- বাগানের গোপাল নুনীয়া সভাপতি এবং কানিহাটি চা- বাগানের চা- শ্রমিক নেতা মোহনলাল রবিদাশ সম্পাদক ও মহিলা নেত্রি কবিতা কর্মকার কে নিয়ে গঠিত গোপাল-মোহনলাল-কবিতা প্যানেল (গোলাপফুল প্রতিক) । এবং ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের ২ বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য মিরতিংগা চা-বাগানের ধনা বাউরী সভাপতি,ভ্যালীর বর্তমান সম্পাদক সমশের নগর চা- বাগানের নির্মল পাইনকা ও বর্তমান সহ-সভাপতি ধলই চা- বাগানের গায়ত্রী ভর কে নিয়ে ধনা -নির্মল-গায়েত্রী প্যানেল ( রিক্সা প্রতিক)। এবং ঐক্য পরিষদের সমর্থিত মদনমহনপুর চা বাগানের শ্রমিক নেতা প্রদ্বীপ কালোয়ার সভাপতি,এবং চাম্পারায় চা- বাগানের ছাত্রলীগ নেতা সুযন মুন্ডা সম্পাদক এবং মাধবপুর চা- বাগানের শ্যামলী বোনার্জী ( মালতি) সহ-সভাপতি পদে প্রদ্বীপ-সুজন-শ্যামলী প্যানেল ( কাঠাঁল প্রতিক) নিয়ে প্রতিদনন্দিতা করছেন। সভাপতি প্রার্থী সীতারাম বীন জানান ” আমি শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি এর জন্য ভ্যালীর ২৩ টি বাগানে বিচরণ করছি না। আমি সবসময় এ ভ্যালীর বাগানের চা- শ্রমিকদের পাশে থাকি বাংলাদেশের সব নির্জাতিত চা- শ্রমিকদের সমস্যা আমার নিজের সমস্যা মনে করি তায় আমি অনেক কষ্ঠকর হলেও চা- শ্রমিকদের জীবন- জীবিকা নিয়ে চা- মজদুর নামের একটি মাসিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করি। আমি যদি নির্বাচিত হই তবে মুজুরী বৃদ্ধি সহ চা- শ্রমিকের শিক্ষা,উন্নত চিকিৎসা,বাসস্থান এবং শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত ও শিক্ষিত বেকার চা- শ্রমিক সন্তানের চাকুরী নিশ্চিতের লক্ষে সবসময় নিজেকে নিবেদিত রাখব। আরেক সভাপতি পদপ্রার্থী বর্তমান সভাপতি গোপাল নুনীয়া জানান- আমি মনু-ধলই ভ্যালীর সভাপতি হয়ে সব সময় চেষ্টা করেছি চা- শ্রমিকের পাশে থাকতে। তাদের সমস্যা সমাধান করতে তবে সাংগঠনিক কারনে অনেক সময় পারি না। এবার আমার প্যানেল পূর্নগঠন করেছি চা- শ্রমিকরা যদি সুযোগ দেয় তবে শেষ বারের মতো তাদের সেবা করে যাবো “। তার প্যানেলের সম্পাদক অন্য প্যানেলে যাবার কারণ জানতে চাইলে বলেন ” আমাকে সে কোন কিছু না জানিয় রহস্যজনক ভাবে অন্য প্যানেলে যুক্ত হয়েছে আমি অন্যায় কোন দিন মেনে নেই নাই হয়তো বা এটা একটা কারন হতে পারে। সংগ্রাম কমিটি থেকে সমর্থিত আরেক সভাপতি প্রার্থী ধনা বাউরি জানান- মিরতিংগা চা- বাগানকে একটি মডেল বাগান হিসেবে পরিচিত করেছি। এবং মনু-ধলই ভ্যালির সব বাগানকে মডেল বাগান তৈরী করবো। তিনি আরো জানান-আমার জনপ্রিয়তা দেখে একটি কু-চক্রিমহল আমার লিফলেট নিয়ে প্রতারনা করছে।বিভিন্ন বাগানে আমার লিফলেট ছিড়ে ফেলা হচ্ছে।আমি আশাবাদী এই নির্বাচনে জয়ী হবো। নাগরিক ঐক্য সমর্থিত সভাপতি প্রার্থী প্রদ্বীপ কালোয়ার জানান- চা- শ্রমিক আমাকে খুব ভালোবাসে আর তাদের ভালোবাসা নিয়ে সব সময় তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করে যাব এই প্রত্যাশা। আমি আগে ও চা- শ্রমিক ইউনিয়নের এডহক কমিটির সদস্য ছিলাম এবং চা- শ্রমিকের জন্য তখন থেকে এ পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছি। তবে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান হবে আজ ২৪ জুন ভোটার তাদের ভােটাধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচিত করবেন আগামী ৩ বছরের জন্য কার্যকরি সভাপতি প্যানেল।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২৪জুন ২০১৮/ইকবাল