পাবনা সদর প্রতিনিধিঃ
পাবনার সাঁথীয়ায় দাড়ামুদা গ্রামে তানজিলা খাতুন নামে একজন গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে এলাকায় জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে পাষান্ড স্বামী।
থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৮/৯ মাস পূর্বে দাড়ামূদা গ্রামের বোনু ব্যাপারির ছেলে জাহাঙ্গীরের সাথে পার্শ্ববর্তী ধোপাদহ ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের দরিদ্র দিন মজুর আ. হাকিমের কন্যা তানজিলার বিয়ে হয়। মেয়ের সুখের জন্য হাকিম যৌতুক হিসেবে গহনা, খাট, তোষক ও অনেক আসবাব দেয়। ১৬ জুন ঈদের সময় তানজিলাকে বাবার বাড়িতে আসতে না দেওয়ায় স্বামীর সাথে ঝরগা হয়। ঈদের পরের দিন তানজিলা তার ঘরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে।
তানজিলার বড় বোন জানান, নানা-নানিকে নিয়ে তানজিলার শ্বশুর বাড়িতে ঈদের পরের দিন তানজিলাকে আনতে যান। তানজিলাকে না দেখলে অনেক ডাকা ডাকির পর ঘরের দরজা খুলে দেখি গলায় ফাঁস নিয়ে ঝুলছে। তার চোখের নিচে কালো দাগ, হাতের আঙ্গুল ভাঙ্গা, গায়ে কোন গহনা নেই, এমনকি নাক ফুলও না। তার দাবি তানজিলাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে।
তানজিলার আত্মহত্যার খবরে বিভিন্ন সাংবাদিক আসলে এলাকার মহিলারা যারা গোসল করিয়েছেন তারা জানান হাতের বেশ কয়েকটি আঙ্গুল ভাঙ্গা, বাম চোখের নিচে আঘাতের দাগ আছে।
ধোপাদহ ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য জয়নব বেগম বলেন, তানজিলা খুবই ভালো ধৈর্য্যশীল মেয়ে ছিল। সুষ্ঠ তদন্ত করে বিচার দাবি করেন। জাহীঙ্গীরের মামা সাবেক ইউপি সদস্য আ. হামিদ বলেন, তানজিলা খুব ভালো মেয়ে ছিল। তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার দাবি করেন। সাঁথীয়া থানার অফিসার ইনচার্য ওসি (তদন্ত) আ. মজিদ বলেন, প্রাথমিক ভাবে ইউডি মামলা হয়েছে। লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে এ মামলা। এলাকাবাসির অভিযোগ তানজিলাকে দাফনের সময় তার স্বামী জাহাঙ্গীরকে দেখা যায়নি। স্ত্রীর দাফনে তার না থাকার হেতু কি? এ নিয়ে এলাকায় নানান গুঞ্জন শুরু হয়েছে। প্রন্তিক কৃষক আ. হাকিম পাবে কি তার কন্যা হত্যার সঠিক বিচার ? এ প্রশ্ন এখন এলাকার সবার।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২৪জুন ২০১৮/ইকবাল