ঈদযাত্রায় ভোগান্তির কারণ হতে পারে দূর্বল ফেরি
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক
দক্ষিনাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ন নৌপথ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া, প্রতিদিন এই নৌপথ দিয়ে দক্ষিনাঞ্চলের ২১ জেলার হাজার হাজার যানবাহন ও লক্ষ লক্ষ মানুষ পারাপার হয়। এই নৌপথে বর্তমানে ১৬ টি ফেরি থাকলেও একমাত্র ভাষা শহীদ গোলাম মওলা ছারা বাকি ১৫ টি ফেরিই ত্রুটিপূর্ন, মাঝে মধ্যেই বিকল হয়ে আটকে থাকছে মাঝ নদীতে, এতে ভোগান্তিতে পড়ছে যাত্রীরা। আর বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ বলছে ত্রুটিপূর্ন ফেরিগুলো মাঝে মাঝেই পুর্নবাসন করতে হচ্ছে, ভাষা শহীদ গোলাম মওলার মত আর দু-একটি ফেরি বহরে সংযুক্ত করা হলে দুর্যোগ পূর্ন পরিবেশ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সুত্রে জানাযায়, ১৯৭৯ সালে দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে রোরো ( বড় ) পাচটি ফেরি বহরে যুক্ত হয়। ফেরিগুলো হলো খান জাহান আলী, ভাষা শহীদ বরকত, আমানত শাহ, শাহ আলী, শাহ মকদুম ফেরি পাচটি বহরে যুক্ত হবার পর এই রুটে যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমানে এই বড় ফেরিগুলো মাঝে মধ্যেই বিকল হয়ে ভাসমান কারখানায় মেরামতে থাকছে। কর্তৃপক্ষ বলছে এই ফেরিগুলো এখন বয়সের ভারে আর চলতে পারছে না। তাছারা মেরামত করা হলেও কয়েকদিন পর আবার বিকল হচ্ছে। এখন এই রুটের জন্য আরো কয়েকটি নতুন ফেরি ক্রয় করা প্রয়োজন। এর পরর্তীতে যে ফেরিগুলো ক্রয় তরা হয়েছে তাও চলছে জোরা তালি দিয়ে। দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের ম্যানেজার মোহাম্মদ মোল্লা জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি গুলো এখন বুড়ো হয়ে গেছে সেই সাথে প্রতিবন্ধীর মত খুরিয়ে খুরিয়ে চলছে সামান্য ¯্রােতহলেই নদী পার হতে পারেনা। আবার ফিরে চলে যায় অনেক পথ ঘুরে আসে ঘাটে এতে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘন্টা। যে ফেরিগুলো আছে সেই ফেরিগুলো দিয়ে ভাল ভাবে পারাপার করানো সম্ভব নয় এই ফেরি গুলো ভালভাবে মেরামত করলে মানুষের ভোগান্তি একটু কমবে। এদিকে গত বুধবার সকালে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদে ঘাট পরিস্থিতি ভাল রাখতে আইনশৃঙ্খলা সভায় দৌলতদিয়া ঘাটের বিআইডব্লিউটিসির ব্যাবস্থাপক সফিকুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৬ টি ফেরি আছে ঈদে বাড়তি গাড়ির চাপ সামাল দিতে আরো ৩ টি ফেরি বহরে যুক্ত হবে। এই ফেরিগুলো প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ বছর আগে ক্রয় করা অনেক পুরাতন হওয়ার কারণে মাঝে মধ্যেই পুনর্বাসন করতে হচ্ছে ফেরিগুলোকে একমাত্র ভাষা শহীদ গোলাম মওলা ভাল সার্ভিস দিচ্ছে, এই ফেরির মত আরও দু-একটি ফেরি বহরে সংযুক্ত করা হলে দুর্যোগ পূর্ন পরিবেশ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। বিআইডব্লিউটিএ সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, ঈদে ভোগান্তি কমাতে এবার চারটি ঘাটের পাশাপাশি নতুন আরো দুটি ঘাটের জন্য ভাসমান পল্টুন এনে রাখা হয়েছে। যে কোন সমস্যায় নতুন ঘাট নির্মান করা হবে। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি ঘাটে চাদাবাজি, ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে তিন স্তরের নিরাপত্তার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। তিনি আরো জানান এবার ঘাটে বাড়তি নজরদারি করা হবে থাকবে সাদা পোশাকে পুলিশ, গোয়েন্দা তৎপরতা ও পোশাকধারী পুলিশ। আর জেলা প্রশাসক শওকত আলী জানান, ফেরি এবং লঞ্চে কোন যাত্রীর কাছ থেকে ২৫ টাকার বেশি ভাড়া নেওয়া যাবে না যদি কেউ অসদুপায় অবলম্বন করে তবে ভ্রাম্যমান আদালতে তাকে জেল দেওয়া হবে। দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৬ টি ফেরি ও ২১ টি লঞ্চ দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে।