December 6, 2025, 12:06 pm

সংবাদ শিরোনাম
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার দামুর চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভার:) ও লাইব্রেরিয়ান প্রশংসাপত্র ও নম্বরপত্র দেয়ার নামে ২২ হাজার টাকা দাবি গঙ্গাচড়ায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি পালন যশোরে ৫ অস্ত্র গুলি মাদকসহ লিটন গাজী আটক গংগাচড়ায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জামায়াতে ইসলামী আর্থিক সহায়তা প্রদান বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন, সম্পাদক জহির বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র মারা গেছেন মহেশপুরে প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ওসির সৌজন্য সাক্ষাৎ তারাগঞ্জে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ : বিএনপি-জামাতের পাল্টাপাল্টি দোষারোপ ১ ডিসেম্বর হাসিনা, রেহানা ও টিউলিপের মামলার রায় একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি।

রেলওয়ের লোকসান

রেলওয়ের লোকসান


লোকসানের খাতা থেকে নাম কাটাতেই পারছে না রেলওয়ে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু রেলপথ (মোট ৩০০ কিলোমিটার) বন্ধ হয়েছে বা তুলে দেওয়া হয়েছে।ট্রেনের সংখ্যাও কমেছিল। কিন্তু লোকসানমুক্ত করা যায়নি। পরে কিছু নতুন রেললাইন হয়েছে, বন্ধ থাকা কিছু পথ খুলেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে কিছু অংশ বাদে ডাবল লাইন হয়েছে। ট্রেনের সংখ্যাও বেড়েছে, নতুন কোচ, ইঞ্জিন যুক্ত হয়েছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বেড়েছে। ভাড়া বেড়েছে, ফলে আয়ও বেড়েছে। কিন্তু সামগ্রিক বিচারে লোকসান বন্ধ হয়নি, বরং বছর বছর তা বাড়ছেই।
বাংলাদেশ রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে লোকসান হয়েছে এক হাজার ২২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে (২০১৫-১৬) লোকসান ছিল এক হাজার ২০৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।২০১৪-১৫ সালে ৮৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ২০১৩-১৪ সালে ৮০৩ কোটি টাকা, ২০১২-১৩ সালে ৮৮১ কোটি টাকা এবং ২০১১-১২ সালে এক হাজার ৫০ কোটি টাকা লোকসান ছিল। অর্থাৎ প্রতিবছরই লোকসান বাড়ছে।
নতুন বেতন কাঠামো চালু হওয়ায় ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে। তবে এটি লোকসান বাড়ার খুব বড় কারণ নয়। লোকসানের কারণ অন্যত্র খুঁজতে হবে। আন্ত নগর ট্রেনে ভাড়া আদায়ে সমস্যা হয় না, যাত্রীরা সবাই টিকিট কেটেই যায়। কিন্তু লোকাল ট্রেনগুলোতে বিনা ভাড়ায় যাত্রীদের চলাফেরা অব্যাহত রয়েছে। অনেক লোকাল ট্রেনে ভাড়ার যাত্রীর চেয়ে বিনা ভাড়ার যাত্রী বেশি থাকে। এ প্রবণতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। পণ্যবাহী ট্রেন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, তবে সেদিকে কর্তৃপক্ষের নজর কম। বেসরকারি সড়ক পরিবহন মালিকদের সঙ্গে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও রয়েছে। রেলওয়ের প্রচুর সম্পত্তি বেহাত হয়ে আছে। সেসব উদ্ধার করে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অব্যবস্থাপনার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আবার রেলের ভাড়া বাড়াতে বলেছে। দুই দফায় বাড়ানোর পর আবার বাড়ালে সাধারণ যাত্রীদের ওপর চাপ পড়বে। এটি ইতিবাচক প্রস্তাব নয়, অন্তত যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে। তবে পণ্য পরিবহনের ভাড়া কিছু বাড়ানো যেতে পারে। বিনা ভাড়ায় চলাচল অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এজন্য নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যেতে পারে। রেলওয়ের হিসাবেই বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন কমিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ আয় বাড়ানো সম্ভব। আয়ের অন্য উৎসগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে। রেলের জমিতে বাণিজ্যিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে আয় বাড়ানো যেতে পারে। নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে। সেগুলোর সঙ্গে রেল-সংযোগ গড়ে তুলে বা বাড়িয়ে পণ্য পরিবহন বাবদ আয় বাড়ানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও সরকার এসব বিষয়ে যত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে ততই মঙ্গল।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর