মশাহিদ আহমদ মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
কুলাউড়ায় ১১নং শরিফপুর ইউপি তেলিবিল গ্রামে জনৈক জেসমিন বেগম অপহরন ও ধর্ষনের ঘটনায় অপহরণ ও ধষর্নের ঘটনায় পুলিশের সার্বিক তদন্তে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বিশ্বশÍ গুপ্তচর নিয়োগের মাধ্যমে ঘটনার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই। কুলাউড়ায় ১১নং শরিফপুর ইউপি তেলিবিল গ্রামের জনৈক জেসমিন বেগম অপহরন ও ধর্ষনের ঘটনায় কাশেম আলী ও ইসলাম আলী ওরফে মনা (২২) নিজের সংশ্লিষ্টাতা ও ঘটনার বর্ননা দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। ঘটনার সহিত প্রত্যক্ষ ভাবে অবগত এরুপ আরোও তিন জন সাক্ষী বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জানা গেছে- ভিকটিম জেসমিন আক্তার (১৩) ও অভিযুক্ত কাশেম আলী উভয়ই স্থানীয় তেলিবিল মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ছিল। ভিকটিম জেসমিন আক্তার ২০১৫ সনে সপ্তম ও অভিযুক্ত কাশেম নবম শ্রেণীতে লেখাপড়া করিত । এক সাথে স্কুলে আসা-যাওয়া ও চলা ফেরা করার কারনে ঊভয়ের মধ্য প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইতিমধ্যে দারিদ্রতার কারনে জেসমিন আক্তার ২০১৫ সনে ৭ম শ্রেনীতে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের পর আর স্কুলে না গেলেও তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক অটুট থাকে। প্রেমের সম্পর্কের দীর্ঘতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উভয়েই অবিভাবকের অমতে পরস্পরের শারিরিক ভাবে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত গত ২০১৭ইং সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে কাশেম ও তার বন্ধু ইসলাম আলী ওরফে মনার সহযোগীতায় পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক বিবাহের প্রলোভনে ভিকটিমকে তার বাড়ি হইতে ফুসলাইয়া স্থানীয় বটতলা বাজারে নিয়ে আসে। সেখানে মনা পূর্ব হইতে সিএনজি ভাড়া করে রাখে। কাশেম ও ভিকটিম জেসমিন আক্তার বাজারে আসার সাথে সাথে সিএনজিতে ওঠিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক মনার বোন মুন্নির কমলগঞ্জের বাড়িতে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং পরের দিন বিয়ে করার আশ্বাস প্রদান করে। কাশেম পরবর্তীতে বিয়েতে রাজী না হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ও ভিকটিমের আত্মীয় স্বজন বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেন। এ ঘটনায় ভিকটিম এর মা জনৈকা আলবী বেগম বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে আসামী কাশেম প্রথমে ধর্ষন ও পরবর্তীতে অপর আসামী লুৎফুরের সহযোগীতায় অপহরন করে মর্মে কুলাউড়া থানায় মামলা (নং-০৫, তারিখ-০৮/০২/২০১৭ ইং, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন/২০০০(সংশোধিত-২০০৪) এর ৭/৯(১)/৩০) দায়ের করেন। কুলাউড়া থানায় কর্মরত এস.আই জহিরুল ইসলাম তালুকদার মামলাটি দীর্ঘ পাঁচ মাস যাবৎ তদন্ত করে মামলার ঘটনা মিথ্যা মর্মে চুড়ান্ত রির্পোট মিথ্যা দাখিলসহ বাদীনির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনের ১৭ ধারা মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করেন। মামলার বাদী আলবি বেগম অতিশয় গরীব মহিলা। পক্ষান্তরে অভিযুক্তগণ আর্থিক ভাবে সচ্ছল ও গোষ্ঠীগত শক্তিশালী এবং তাহারা পরস্পর প্রতিবেশী থাকার কারনে পুলিশকে ম্যানেজ করে মিথ্যা রির্পোট প্রদান করেন। মামলার বাদী বিজ্ঞ আদালতে দাখিলকৃত পুলিশ রিপোর্টের উপর নারাজি প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালত বাদীর নারাজী গ্রহন করিয়া মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিবিআই মৌলভীবাজারকে নির্দেশ প্রদান করেন। মৌলভীবাজার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহাদাত হোসেন এর নির্দেশে বিশ্বশÍ গুপ্তচর নিয়োগের মাধ্যমে উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ হাসানুজ্জামান সরেজমিনে তদন্তে মাধ্যমে মামলার ঘটনার সত্যতা পরিলক্ষিত হওয়ায় মামলার ঘটনায় জড়িত কাশেম আলী ও ইসলাম আলী ওরফে মনা (২২) কে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২৫মে২০১৮/ইকবাল