March 14, 2026, 10:07 pm

সংবাদ শিরোনাম
রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? বদর দিবস উপলক্ষে গঙ্গাচড়ায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রংপুর জেলার নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সভা শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? ঈদের আগে হোটেল শ্রমিকদের বোনাস সংকটের ভেতরের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প পীরগাছার শল্লার বিল: ঘর উঠেছে, আস্থা ভেঙেছে লালমনিরহাটে ভোর বেলার অভিযানে অনলাইন ক্যাসিনো চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৮২ সিম

হতে পারে আরেকটি সিঙ্গাপুর স্বর্ণদ্বীপ -রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

প্রাইভেট ডিটেকটিভ ডেস্কঃ

স্বর্ণদ্বীপ হতে পারে আরেক সিঙ্গাপুর। আয়তনেও স্বর্ণদ্বীপ সিঙ্গাপুরের মতো। এটা বাংলাদেশের মূল ভূমি থেকে আলাদা। সমুদ্রও কাছে আছে। সবকিছু মিলে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা গেলে স্বর্ণদ্বীপ হবে বিরাট এক সম্ভাবনা। গতকাল নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার স্বর্ণদ্বীপে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল উদ্বোধনের পর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্ষায় এলাকাটির অনেক অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। যদি সমুদ্র রিক্লেইম করে ভূমি উদ্ধার করা যায়, তাহলে বিরাট সম্ভাবনা নিয়ে আসবে এই স্বর্ণদ্বীপ। এ জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশে এমন জায়গা কোথাও নেই। দেশের অন্য জায়গায় দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দিতে গেলে জমির মালিকদের ফসলের টাকা দিতে হয়। এ জায়গাটা দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। এই ধরনের চর না ভাসলে বাংলাদেশের এত মানুষের জায়গা হবে কোথায়? এটা আল্লাহর রহমত। স্বর্ণদ্বীপ না দেখলে বাংলাদেশ দেখাই আমার বাকি থেকে যেত। বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা বিস্তৃত ভূখণ্ড স্বর্ণদ্বীপে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পাঁচ বছরের প্রচেষ্টায় জনবিরল এলাকাটি বাসযোগ্য ও সবুজে সুশোভিত হয়ে উঠেছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা হয়েছে পরিকল্পিত বনায়ন, সাইক্লোন শেল্টার, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, নারিকেল বাগান, ঝাউ বাগান, গরু, মহিষ, ভেড়া, হাঁস, মুরগি ও কবুতরের খামার। এখানে রয়েছে সবজি বাগান, ধানসহ নানা ধরনের শস্য। ২০টি খামারে প্রায় ১৩ হাজার মহিষ, ১৬ হাজার ভেড়া ও ৮ হাজার গরু পালন করা হচ্ছে। এসব খামার থেকে উৎপাদিত দুধ সংগ্রহ করে দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি করতে একটি কারখানাও স্থাপিত হয়েছে। সমতল ভূমির এই দ্বীপে মাছ চাষের জন্য তৈরি করা হয়েছে অনেকগুলো পুকুর। সব মিলিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ‘স্বর্ণদ্বীপ’ যেন সত্যিকারের স্বর্ণদ্বীপে রূপান্তর হচ্ছে। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপে নৌপথে চলাচলের জন্য সেনাবাহিনী নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করেছে ৩টি ট্রলার। এ ছাড়া ভারী যানবাহন পারাপারের জন্য এলসিটি ও এলসিইউ জাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে। গতকাল নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় অবস্থিত ‘স্বর্ণদ্বীপে’ সরেজমিন গিয়ে এমনই চিত্র দেখা যায়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গতকাল নোয়াখালীর স্বর্ণদ্বীপ (জাহাজ্জ্যার চর) পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আগামী বছরের জুনের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে হাসপাতাল ভবন, অফিসার্স মেস, স্টাফ কোয়ার্টারসহ তিন তলাবিশিষ্ট ছয়টি ভবন নির্মাণ করা হবে। রাষ্ট্রপতি  সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা স্বর্ণদ্বীপের ম্যানুভার প্রশিক্ষণ এলাকার সুপরিকল্পিত ব্যবহার দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং স্বর্ণদ্বীপের প্রশিক্ষণ সুবিধা সেনাবাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্বর্ণদ্বীপের অবকাঠামোগত এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক সব কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৩ সাল থেকে স্বর্ণদ্বীপে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা অবস্থার উন্নতি, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণ পরিচালনার দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করছে। ইতিমধ্যে স্বর্ণদ্বীপে গড়ে উঠেছে তিনটি মাল্টিপারপাস সাইক্লোন শেল্টার। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিকল্পিত বনায়ন, উন্নত প্রজাতির নারিকেল বাগান, মিলিটারি ফার্ম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সুবিধা, স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে জেনারেটরের পাশাপাশি ১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদসহ সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মূলত ‘স্বর্ণদ্বীপ’ নামের এই দ্বীপ অঞ্চলটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এলাকা হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ছয়টি পদাতিক ব্রিগেড দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে। ২৯ মার্চ ২০১৪ পর্যন্ত প্রায় চার বছরে ২৮ হাজার ৯৬৭ জন সেনা সদস্য এখানে প্রশিক্ষণ সুবিধা পেয়েছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার আগে প্রাক মোতায়েন প্রশিক্ষণেও স্বর্ণদ্বীপ ব্যবহূত হচ্ছে। সেনাবাহিনীর আধুনিক সব প্রশিক্ষণের জন্য এই দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অবকাঠামোগত নানা উন্নয়ন এবং সবুজ বনায়নের ফলে নয়নাভিরাম এলাকায় পরিণত হয়েছে ‘স্বর্ণদ্বীপ’। ১৯৭৮ সালে মেঘনা নদী এবং বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা বিশাল এই দ্বীপ অঞ্চলটি একসময় জাহাজ্জ্যার চর নামে পরিচিত ছিল। ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৪ কিলোমিটার প্রশস্ত স্বর্ণদ্বীপটি ২০১২ সালে সেনাবাহিনীকে বরাদ্দ দেয় সরকার। এরপর থেকে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের জন্য স্বর্ণদ্বীপের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নদীর ঘাট থেকে স্বর্ণদ্বীপে স্থাপিত সেনাবাহিনীর ‘ময়নামতি ক্যাম্প’ পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়ক ও ৪টি স্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। রেডিও লিংকের মাধ্যমে এই দ্বীপে চালু করা হয়েছে টেলিফোন, ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক সুবিধা। যতই দিন যাচ্ছে পরিকল্পিত উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে স্বর্ণদ্বীপ।

 

 

 

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২৫মার্চ২০১৮/ইকবাল

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর