মোঃ আব্দুল্লাহ আল শামীম সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ দিন সংস্কারের অভাবে জরার্জীন হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের কেন্দ্রীয় পৌর বাস টারর্মিনাল। টারর্মিনালে পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনী , পাবলিক টয়লেট, খাবার পানির সু-ব্যবস্থা না থাকায় বিরাম্বনার স্বীকার হচ্ছে সাধারন যাত্রীরা। অপরদিকে টারর্মিনালের জায়গা সংকট রাস্তার বেহাল দশা ও ড্রেনেস ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তী পোহাতে হচ্ছে বাস শ্রমিকদের। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে দ্রুত প্রকল্পের মাধ্যমে বাস টার্মিনাল আধুনিকায়ন করা হবে। সিরাজগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় পৌর বাস টার্মিনাল টি ১৯৮৬ সালে ১২ বিঘা জায়গার উপর স্থাপিত হয় । এখান থেকে প্রতিদিন রাজধানী ঢাকা সহ জেলার অভ্যন্তরীন ও আন্তনগর রুটে প্রায় ৪ শত বাস চলাচল করে। আর এ থেকে পৌরসভা মোটা অংকের রাজস্ব আদায় করে থাকে। তবে দীর্ঘদিন বাসটার্মিনালটি সংস্কার না করায় জরার্জীন হয়ে পড়েছে টার্মিনালটির অবকাঠামো। নেই যাত্রী ছাউনী ও যাত্রীদের বসার সু-ব্যবস্থা। সেই সাথে টার্মিনাল এলাকায় নেই পাবলিক টয়লেট ও খাবার পানির সু-ব্যাবস্থা। অপর দিকে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে গেলেও বাড়ানো হয়নি টার্মিনালের জাগয়া। আর দুটি যাত্রী ছাউনি ছিলো তার টিন ভেঙে যাওয়ায় সেগুলোও ভেঙ্গে নিয়ে গেছে পৌরসভা। ফলে রোদ ঝড় বৃস্টিতে বৃষ্টি হলেই যাত্রীদের ভোগান্তী পোহাতে হয়। টিকিট কাউন্টার না থাকায় যত্রতত্র টিকেট বিক্রি করতে হয়। আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার সাথে রাস্তার বেহাল দশার কারনে পরিবহন শ্রমিকদের প্রতিনিয়তই নানা ভোগান্তীতে পড়তে হয়। আর এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রী ও বাস শ্রমিকরা। বাসটার্মিনালে আসা তাড়াশের আকলিমা খাতুন জানান একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার বাসটার্মিনা এটি তা দেখে বুঝার উপায় নাই এখানে আমাদের নারীদের ভোগান্তিটা একটু বেশী এখানে যাত্রী ছাউনি নেই তাই বাসের জন্য রোদের মধ্যে দাড়িয়ে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়,আবার টয়লেট নেই পুরুষ যেখানে সেখানে টয়লেট করতে পারলেউ আমাদের সমস্যা,আমি চাই দ্রুত এই টার্মিনাল সংস্কারের মাধ্যমে যাত্রী ছাউনি এবং মহিলাদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হোক। শাহজাদপুরের তাঁত ব্যবসায়ী আলম সেখ জানান দেশে উন্নয়ন হচ্ছে,শহরে বড় বড় বিল্ডিং হচ্ছে কিন্তু এই বাসটার্মিনাল দেখলে সব ভুলে যাই মনে হয় দেশ আগের মতই রয়েছে কারন এই টার্মিনালে কোন উন্নয়ন এর ছোয়া দেখিনি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ব্যবসার করনে এই টার্মিনালে এসে বাসে উঠি কিন্ত এই একই অবস্থা বিরাজ রয়েছে। এই টার্মিনালের উন্নয়ন করা দরকার। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক বাস শ্রমিক জানান প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার টোল আদায় করে পৌরসভা কিন্তু টার্মিনালের উন্নয়নে পৌরসভা কোন কাজ করছে না। তিনি উল্লেখ করে বলেন ৯৯ সালে তৎকালিন স্বরাস্ট্র মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম টার্মিনালের পাশের পুকুর ভরাটের জন্য ১শত টন গম দিয়েছিলো কিন্তু সেই গম কোথায় গেলো নেতারা জানে,গম যদি পুকুরে ফেলতো সেই গম দিয়ে পুকুর ভরাট হয়ে যেতো। আরেকজন শ্রমিক বলেন আমাদে পুরাতন যে ভবনটি রয়েছে ওার ছাদ থেকে চটা খসে খসে পড়ে ফলে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। টিকিট কাউন্টার না থাকায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে টিকিট বিক্রি করতে হয়। বৃস্টি হলে পানি জমে আর যায়গা সংকুলান না হওয়ায় গাড়ী রাখা যায়না টার্মিনালে। ইউনিয়নের নেতারা কিছু বলে তাই আমাদের সাধারন শ্রমিকদের রোদ ঝড় বৃস্টিতে কষ্ট করে কাজ করতে হয়। দুটি পুরানো টিনসেড ছিলো পৌরসভা সেটাই খুলে নিয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিন শত শত শ্রমিকের টার্মিনালে বসার মত যায়গা নেই। সিরাজগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মেজবাহুল ইসলাম লিটন জানা সিরাজগঞ্জ পৌর এম এ মতিন বাসটার্মিনাল টি উদ্ধোধনের পর থেকে আর কোন উন্নয়ন কাজ না হওয়ায় প্রতিদিন টার্মিনালে আসা যাত্রী এবং শ্রমিকদের দুর্ভোগ পৌহাতে হয়। যাত্রীদের এসকল অসুবিধার কথা বিবেচনা করে পৌর মেয়রকে অতিদ্রুত টার্মিনালের সমস্যা সমাধানের দাবী জানান তিনি। সিরাজগঞ্জের পৌর মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা বাসটার্মিনালটির জরার্জীন অবস্থার কথা স্বীকার জানান এম এ মতিন বাসটার্মিনাল সংস্কারের জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে প্রকল্প অনুমেদান হলে দ্রুত টার্মিনাল টি আধুনিকায়ন করা হবে। দ্রুত এ সকল সমস্যা সমাধান করে যাত্রী এবং এর সাথে যুক্ত চালক ও শ্রমিকদের ভোগান্তী দুর হবে এমনটায় দাবী সিরাজগঞ্জবাসীর।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১৯মার্চ২০১৮/ইকবাল