নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের হুংকার। নির্বাচন ঘিরেও রয়েছে তাদের দেশ বিরোধী নানা ছক। সেই ছক কি কেবল মুখের কথা ! দেশের বাইরে নয়, ভেতরেও ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেটের জোর তৎপরতা অবিশ্বাস্য রকম দৃশ্যমান। সে কারনে বিভিন্নখাতে চুপি চুপি নিজেদের নিয়ন্ত্রন ধরে রাখতে চালিয়ে যাচ্ছে শেষ চেষ্টা। সেই চেষ্টার ফসল দেশের হাইওয়ে পুলিশে এখনো বহাল তবিয়তে চলছে ফ্যাসিস্ট সুবিধাভোগীদের রাজত্ব। সেই রাজত্বে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে মহা-সড়ক। দেশের অভ্যন্তরীন যোগাযোগ ব্যবস্থার হৃদপিন্ড মহাসড়কের নিরাপত্তা ঝুঁকি স্বত্ত্বেও বেমালুম ঘুমের ঘোরে সংশ্লিষ্টরা।
হাইওয়ে পুলিশের আলোচিত নাম মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ। ২৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা হাসিনা সরকারের আমলে নিয়মিত পদোন্নতি পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের এসপি হিসেবে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ রিজিয়নে কর্মরত থাকা অবস্থায় ঘুস বানিজ্যে জড়িয়ে পড়লেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর ভোল্ট পাল্টে কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন বাগিয়ে নেন। ভয়াবহ ইয়াবা চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অল্প দিনের ব্যবধানেই তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। যে বিষয়ে যুগান্তর পত্রিকায় ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ” এসপির ইয়াবা কারবার, মিলেমিশে সাড়ে ৩ লাখ পিচ বিক্রি” “জব্দ লাখ লাখ ইয়াবা দিয়ে দেদারসে ব্যবসা করেন এসপি রহমত”‘ এবং ১০ মার্চ ২০২৫ তারিখে “যেভাবে মালখানা থেকে ইয়াবা সরিয়ে বিক্রি করতেন এসপি রহমত’ শিরোনামে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতোএতো অভিযোগ থাকার পরও শাস্তি না দিয়ে ১১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে পুনরায় তাকে হাইওয়ে পুলিশের মাদারীপুর রিজিয়নে পদায়ন করা হয়। একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় তিনি বড় ধরনের অর্থ খরচ করে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ইউনুছ সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে ম্যানেজ করে হাইওয়ে পুলিশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট গাজীপুরে পোস্টিং নিশ্চিত করেন। এবিষয়ে বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ২৫তম ব্যাচের একাধিক পুলিশ সুপার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন এসপি রহমতুল্লাহর ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশে ওপেন সিক্রেট হওয়ার পরেও অর্থ খরচ করে সবাইকে ম্যানেজ করে ফেলেন।
৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখ ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালেও শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বানানোর কারিগরদের অন্যতম পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান এখনো বহাল তবিয়তে আছেন হাইওয়ে পুলিশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট কুমিল্লা রিজিয়নে।
২০০৫ সালে ২৪তম ব্যাচে এএসপি পদে চাকরিতে প্রবেশের পর ২০১৮ সালের নিশি ভোটের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য একই সালের ৮ নভেম্বর পতিত আওয়ামী সরকার তাকে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি দেন। তিনি ২০২৩ সালের ৩১ মে হাইওয়ে পুলিশে যোগদান করেন। আওয়ামী সরকারের বিশেষ আস্তাভাজন হওয়ায় ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর পদ না থাকা সত্বেও তাকে অ্যাডিশনাল ডিআইজি (সুপার নিউমারারী) পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। হাসিনা সরকার পতনের পর পুলিশ বাহিনীর সর্বত্র সুবিধাভোগেীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি-সংযুক্ত করা হলেও মোহাম্মদ শাহিনুল আলম খান সিনিয়র পুলিশ কর্তাদের ম্যানেজ করে জুলাই চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ২১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে হাইওয়ে পুলিশের সবচেয়ে গুরুত্বপূ্র্ণ ২২ থানার রিজিয়ন কুমিল্লাতে পোস্টিং বাগিয়ে নেন যা নিয়ে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
২০০৫ সালে পুলিশের চাকরিতে সহকারি পুলিশ সুপার পদে যোগদান করেন মোহাম্মদ জাকারিয়া। এসপি পদে পদোন্নতি পান ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল। তিনি মৌলভীবাজার জেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন । তিনি জামায়াত বিএনপি দমনে কঠোর হওয়ায় আওয়ামী লীগের কাছে নিজেদের লোক হিসেবে পরিচিতি পান। ফলে অ্যাডিশনাল ডিআইজি ( সুপার নিউমারারি) হিসেবেও পদোন্নতি পান ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর। একই সালের ২ আগস্ট হাইওয় পুলিশে এসপি পদে পদায়ন করা হয় এবং অদ্যাবধি হাইওয়ে খুলনা রিজিয়নে কর্মরত আছেন।
পিডি/অনির্বাণ