December 5, 2025, 2:52 am

সংবাদ শিরোনাম
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার দামুর চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভার:) ও লাইব্রেরিয়ান প্রশংসাপত্র ও নম্বরপত্র দেয়ার নামে ২২ হাজার টাকা দাবি গঙ্গাচড়ায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি পালন যশোরে ৫ অস্ত্র গুলি মাদকসহ লিটন গাজী আটক গংগাচড়ায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জামায়াতে ইসলামী আর্থিক সহায়তা প্রদান বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন, সম্পাদক জহির বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র মারা গেছেন মহেশপুরে প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ওসির সৌজন্য সাক্ষাৎ তারাগঞ্জে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ : বিএনপি-জামাতের পাল্টাপাল্টি দোষারোপ ১ ডিসেম্বর হাসিনা, রেহানা ও টিউলিপের মামলার রায় একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি।

সুনামগঞ্জের নদ-নদীর নাব্যতা সংকটে নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন

কামাল হোসেন,তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ):

দেশের হাওরাঞ্চল খ্যাত সুনামগঞ্জ জেলার অধিকাংশ নদ-নদীর নাব্যতা সংকটের কারনে নৌ যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছন হয়ে পড়েছে। সেই সাথে নদী পথের নাব্যতা হারানোর কারনে জেলার বিভিন্ন মালামাল পরিবহনের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম নৌ পথের জন্য ব্যবসা বাণিজ্য পড়েছে হুমকির মুখে। জানাযায়, এক সময়ে সুনামগঞ্জ জেলার নদী গুলোতে কা র্গো জাহাজ করত। কিন্তু এখনকার সময়ে নদী গুলোর নাব্যতা হারানোর ফলে এখন ঘাটাটও ডুবে না। সূত্র মতে জানাযায়, প্রাকৃতিক সম্পদ আর সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশের একমাত্র জেলা সুনামগঞ্জ। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ বালি-পাথর, কয়লা-চুরাপাথর, নুড়ি ও ভোল্ডার পাথরসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ। যা এ জেলা থেকে প্রতি বছর কোট কোটি ঘনফুট বালি-পাথর, কয়লা-চুরাপাথর, নুড়ি ও ভোল্ডার পাথরসহ বিভিন্ন মালামাল দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানী করা হয়। এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এ জেলায় আমদনী করার একমাত্র মাধ্যম নৌ পথ।যা বর্ষা মৌসুমে এ জেলা থেকে বিভিন্ন মালামাল রপ্তানী এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্নমালামাল আমদনী করা গেলেও হেমন্ত কালে নদী গুলোর যৌবনে ভাট পড়ে গেলে(নাব্যতা সংকটে) তা আর এথন হয়ে উঠেনা। এবং নদী গুলোর নাব্যতা সংকটের কারনে অক্টোবর মাসে থেকে ই ব্যবসা বাণিজ্যে ভাট পড়ে যায়। এই নদী গুলোকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ভাবে লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের একমাত্র জীবিকার অবলম্বন থাকলেও নদী গুলোর নাব্যতা সংকটের কারনে এখন আর আগের ন্যায় কাজ  না থাকায় তাদের জীবিকার সন্ধানে অনেক শ্রমজীবি পরিবার জীবিকার সন্ধানে শহর মুখি পাড়ি জমাচ্ছে। শুধু তাই নয় ! নদীর নাব্যতা সংকটের কারনে এখন নদী পথের বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজদের চাঁদাবাজির করনে যেমন অতিষ্ঠ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও নৌ শ্রমিক তেমনি নদী পথে যেখনে ৩ ঘন্ট সময় লাগত ওই স্থানে পৌস্তে সময় লেগে যায় ১৪ থেকে ১৫ দিন। জেলার সুরম, রক্তি, যাদুকাট, পাঠলাই ও বৌলাইসহ বিভিন্ন নদী শুকিয়ে যাওয়ার অংশ খনন না করায় ব্যবসায়ী ওেোনৗ শ্রমিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।আর বিপন্ন হতে চলেছে নদী পাড়ের লোকজনের জীবন জীবিকা। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে কয়েকটি উপজেলা ছাড়া সব কটি উপজেলার সাথে বাহিরের জেলা গুলোর অভ্যন্তরীন মালামাল পরিবহনে সরক যোগাযোগ নেই বললেই চলে। এই জেলার সাথে একটি প্রবাদ উৎপ্রতভাবে জড়িয়ে আছে, বর্ষায় নাও, হেমন্তে পাও।এটাই এ জেলার যোগাযোগের একমাত্র বরসা। হেমন্ত কালে লোকজন প্রয়োজনের তাগিদে পাঁয়ে হেটে কিংবা মোটরসাইকেলে চলআচল করলেও জেলার সবকটি হাট-বাজার নদীর তীরবর্তী গড়ে উঠায় বিভিন্ন মালামাল পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌ পথ। কিন্তু বর্তমানে জেলার বেশ কটি নদীর নাব্যতা হারোনোর ফলে এর বিরূপ পভাব পড়েছে পূর জেলা বাসীর জীবন যাত্রায়। জানাযায়, নদী পথে জেলা সদর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, ধরমপাশা ও মধ্যনগরসহ পার্শবর্তী জেঅলা নেত্রকোন, কলমাকান্দ, মেহনগঞ্জ, ভেরব ও কিশোরগঞ্জসহ দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্যের সার্থে বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করার একমাত্রই ভরসা নৌ পথ। এখন পরিবহনের দূরবস্থার কারনে বিভিন্ন বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজারে দ্রব্য মূল্যের দাম দ্বী গুণ বেড়ে গেছে। এ জেলার বৌলাই, রক্তি, সুরমা ও পাঠলাই ৪টি নদীই গুরুত্বপর্ণ ও প্রধান নদী। যার কারনে ওই ৪টি নদীঅর নাব্যতা হারানোর ফলে ছোটবড় ২৩পট নদীসহ মরে যাচ্ছে জেলার শাখা নদীসহ খাল বিল গুলো। তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদী দেশের উত্তর সীমান্ত ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে উৎপত্তি। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম ও প্রধান কয়লা ও চুনাপাথর আমদানীর ৩ টি শুল্কস্টেশন। ওই শুল্কস্টেশন থেকে আমদানীকৃত কয়লা ও চুনাপাথর পাঠলাই নদী দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানী করা(পাঠানো) হয়।কিন্তু বর্তমানে নদীর নাব্যতা সংকটের কারনে হেমন্তকালে নদীর ৪ থেকে ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত মালামাল পরিবহনে নৌ জটের সৃষ্টি হয়। যা বর্ষা কালের তোলনায় এখন মালামাল পরিবহনে ব্যবসায়ীদের পরিবহন খরছ পড়ে যায় প্রায় দ্বীগুণ। যার পলে বেকার হয়ে পড়ে এর সাথে সম্পৃক্ত প্রায়৫০ হাজার শ্রমিজীবি পরিবার। পাঠলাই নদীটি বড়ছড়া থেকে শ্রীপুর বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এবং সোলেমানপুর এলাকায় পাঠলাই নদীর শাখা নদী পাইকর তলা নদীতে ২ কিলোমিটার েনদী খনন করলে হেমন্তকালে এ নদী দিয়ে মালামাল পরিবহন করা সহজ হবে। ব্যবসা বাণিজ্যে স্থবির হওয়া থেকে রক্ষা পাবে এবং মালামাল পরিবহনের খরছ কমে যাবে। অপর দিকে বৌলাই নদীটি তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে সোলেমানপুর ও তাহিরপুর-নিশ্চিন্তপুর থেকে চিসকা পর্যন্ত শুকিয়ে গিয়ে নৌ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে তাহিরপুর সদরদের সাথে নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে বললেই চলে। ও ভারতের খাসিয়া মেঘালয় পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে বাংলাদেশের ৮ কিলোমিটর দক্ষিণে ফাজিলপুর নামক স্থানে এসে আরএকটি নদীর নাম দিয়েছে রক্তি।এখানেই নদীটি বৌলাই নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। যেখানে রয়েছে বাংলাদেশের সবছেয়ে বড় বালি পাথর মহাল এবং এ নদী থেকেই দেশের বিখ্যত সিলেটর কাচ বালি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানী করে থাকে। এ নদীতে ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা বালি আর পাথরের জন্য সবছেয়ে গুরুত্ব র্ন ও সম্পদশালী। কিন্তু এখন ওই বালি আর পাথরের কারনেই নদীটি তার নাক্যতাহোরিয়ে ফেলেছে। যদিও বর্ষাকালে এ নদী থেকে বড়বড় কার্গো ও জাহাজ দিয়ে বালি ও পাথর পরিবহন করে থাকলেও হেমন্তকালে কার্গো ও জাহাজের পরিবর্তে ছোট ছোট নৌকা দিয়ে ওইসব মালামাল পরিবহন করা হয়। তারপরও নদীটির কয়েক কিলোমিটার এলাকায় দেখাদেয় নৌ জাট। এ নদী দিয়েই সুনামগঞ্জের সুরমা নদীতে জামালগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবেশ করে। এবং জামালগঞ্জ উপজেলা ফেনারবাঁগ ইউনিয়নে সুরমা ও বৌলাই নদীর মিলন স্থল থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। বৌলাই নদীর জামালগঞ্জ অংশের শ্রীমন্তপুর-শুকদেবপুর থেকে মিলনপুন গ্রামপর্যন্ত এখন নৌ যানযাট দেখা দিয়েছে। নৌযান শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা জানায়, যেখানে বর্ষাকালে মালামাল পরিবহনে সময় লাগত ১ দিন সেই স্থানে এখন সময় লেগে যায় ১৫ থেকে ১৬ দিন। ফজিলপুর বারকি শ্রমিক নেতা আব্দুল হান্নান বলেন, এ নদীতে প্রায় অর্লক্ষাধিক শ্রমিক প্রতিদিনেই কাজ করে থাকে।রক্তি ও এর আশপাশের নদী গুলোশুকিয়ে যাওয়ায় অক্টোবর মাসের প্রথম থেকেই বন্ধহয়ে যায় বারকি নৌকা দিয়ে এ নদী গুলো থেকে বালি পাথর উত্তোলণ। এব্যপারে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেমহোসেন রতন এমপি বলেন, নদী গুলোর নাব্যতা সংকট দূর করার জন্য আমার পক্ষ থেকে সবর্ত্নচেষ্টা করছি এবং নদী গুলোর কিছু কিছু স্থানে খনন কাজ ইতি মধ্যে শুরু হয়ে।  

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর