May 28, 2024, 8:33 pm

সংবাদ শিরোনাম
রংপুর সিটির তিন মাথায় নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু, ইউপি চেয়ারম্যান ও ভবন মালিকের যোগসাজসে গোপনে লাশ দাফন আদমদীঘির ধান শরিয়তপুরে উদ্ধার; গ্রেপ্তার-২ অবৈধভাবে চাঁদা উত্তোলনকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা হতে ০৬ জন পরিবহন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান এলাকা হতে গাঁজা ও বিদেশী পিস্তলসহ কুখ্যাত অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ী সাগর’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে ধাক্কায় চালকের মৃত্যু ঘূর্ণিঝড় রেমাল এর প্রভাবে উপকুলের সতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত কুড়িগ্রামে বেবী তরমুজের চাষে তিন মাসে আয় দেড় লাখ টাকা মাঝরাত্রে প্রবাসীর ঘরে ঢুকে স্ত্রীও মা কে ছুরি মেরে পালালো দুর্বৃত্তরা বগুড়ার শিবগঞ্জে জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন: এমদাদুল আহবায়ক রবি সদস্য সচিব গাইবান্ধা প্রেসক্লাব’র কমিটি গঠিত

এদেশে অবস্থানরত বিদেশীদের কাগজের তথ্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই

এদেশে অবস্থানরত বিদেশীদের কাগজের তথ্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক
এদেশে বিপুলসংখ্যক বিদেশী নাগরিক অবৈধভাবে বসবাস করছে। আর অবস্থানরত বিদেশীদের কাগজের তথ্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। মূলত উন্নয়নশীল ও ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশের নাগরিকরা এদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছে। অনেক বিদেশীই বৈধ পথে এদেশে প্রবেশ করে ভিসার মেয়াদ পার হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাচ্ছেন। জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ে। রাজধানীতে এ মুহূর্তে অবস্থানরত বিদেশীর সংখ্যা ১০ হাজারের কিছু বেশি। কিন্তু ওসব বিদেশীর ৪০ শতাংশই অবস্থান করছেন অবৈধভাবে। তাছাড়া নানা অপরাধে জড়িত আছেন অবস্থানরত মোট বিদেশীর প্রায় ১০ শতাংশ। সাম্প্রতিক পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক অনুসন্ধানে এ পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, উন্নয়নশীল ও ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশগুলো থেকে নিয়মিতই চাকরি, ব্যবসা ও শিার্থী ভিসা নিয়ে বিদেশীরা এদেশে আসছেন। আর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করছেন তাদের অনেকেই। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ছেন মাদক ব্যবসা এবং এটিএম কার্ড জালিয়াতি ও জাল মুদ্রা তৈরিসহ নানা ধরনের আর্থিক প্রতারণামূলক অপরাধে। সম্প্রতি ওই ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনায় আলোচনায় উঠে আসে বিদেশীরা। সেই প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশে অবস্থানরত বৈধ ও অবৈধ বিদেশীদের তথ্য সংরণের জন্য এসবিকে নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ২৯টি টিমে বিভক্ত হয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, গুলশান, বনানী, নিকুঞ্জ, বারিধারা, পিংক সিটি, লেকসিটি কনকর্ড, উত্তরা ও মতিঝিলসহ মোট ১৯টি এলাকায় অবস্থানরত এক হাজার বিদেশীর তথ্য সংগ্রহ করেছে এসবি। এসবির তথ্যমতে, রাজধানীতে বর্তমানে সব মিলে ১০৯টি দেশ থেকে আগত ১০ হাজারের কিছু বেশি বিদেশী অবস্থান করছেন। মে-আগস্টে তাদের মধ্যে এক হাজারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ওসব বিদেশীর ৪৫ শতাংশই এসেছেন আফ্রিকান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে। তাছাড়া রয়েছে ৪০ শতাংশ চীনা ও ৫ শতাংশ ভারতীয় নাগরিক। বাকি ১০ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।
সূত্র জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত এক হাজার বিদেশীর মধ্যে ৪০০ জনকে অবৈধ হিসেবে শনাক্ত করেছে এসবি। তার মধ্যে নানা অপরাধে জড়িয়ে মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন ১শ জন বিদেশী। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন প্রায় ১৫০ জন। বাকি ১৫০ জনের মধ্যে ৫০ জনকে সরকারিভাবে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর নিজ থেকে দেশত্যাগ করেছেন ১শ জন। বিদেশীদের এ পরিসংখ্যান তৈরি হয়েছে তিনটি ক্যাটাগরিতে। সেগুলো হলো- ভিসা এক্সপায়ার্ড (মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থানরত), ক্রিমিনাল (অপরাধে যুক্ত) ও গভর্নমেন্ট ডিজায়ার (সরকারি চাহিদার ভিত্তিতে অবস্থানরত)। এদেশে অবস্থানরত বিদেশীদের কাগজের তথ্যের সাথে বাস্তবতার মিল নেই। ওই সুযোগেই বিদেশীরা এদেশে এসে নানা অপরাধকর্মে যুক্ত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্যই বিদেশীদের এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে শিল্প ও সেবা খাতে বিভিন্ন দেশের নাগরিক বাংলাদেশে এসে থাকে। বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা) ও নন-গভর্নমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এনজিও ব্যুরো) মাধ্যমেও আসে বিপুল সংখ্যক বিদেশী। এ দুটি মাধ্যম সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইমিগ্রেশন বিভাগ শুধু ট্যুরিস্ট, ওয়ার্ক পারমিট ও স্টুডেন্ট ভিসায় আসা বিদেশী নাগরিকদের ওপর মনিটরিং চালায়। ভিন্ন ভিন্ন ডেস্কে পৃথকভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এবং তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশী নাগরিকের সঠিক পরিসংখ্যান ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সূত্র আরো জানায়, বিদেশীদের মধ্যে একাংশ ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নিজেদের পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলেন। এভাবে অবৈধ হয়ে পড়ার পর স্থানীয় অসাধু মানুষের প্রশ্রয়ে তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ফলে গ্রেফতারের পরও তাদের সঠিক তথ্য না থাকায় ফেরত পাঠানোর েেত্র আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। বর্তমানে মাদক চোরাচালান, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কারাগারে বন্দি রয়েছে শতাধিক বিদেশী। তাদের মধ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে অতিরিক্ত ২ বছর জেল খাটছেন আরো ৮০ জন। আর্থিক প্রতারণার ঘটনায় চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত শুধু রাজধানীতেই গ্রেফতার হয়েছেন ২৬ বিদেশী নাগরিক। তার মধ্যে ২০ জনই নাইজেরীয়। বাকিদের মধ্যে ৩ জন আফ্রিকার ক্যামেরুনের নাগরিক। তাছাড়া কঙ্গো, পোল্যান্ড ও চীনের নাগরিক রয়েছেন একজন করে। এসব প্রতারক চক্রের মূল কার্যক্রম বিদেশ থেকে পরিচালিত হলেও অর্থ সংগ্রহ ও ল্য নির্ধারণের কাজটি করা হচ্ছে তাদের এদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের মাধ্যমে। দেশী-বিদেশী অপরাধীদের সম্মিলিত এ প্রতারণামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া অর্থ পাচার হচ্ছে বিদেশে।
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত ১০৯টি দেশের কয়েকশ নাগরিকের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার। তার মধ্যে ১৪টি দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। এ তালিকার প্রথমেই আছে নাইজেরিয়ার নাগরিকদের নাম। তার পরই রয়েছে আফ্রিকার ঘানা, কঙ্গো, লিবিয়া, আলজেরিয়া, সুদান ও উগান্ডার নাগরিক। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রয়েছে ৭ শতাধিক বিদেশী। তাদের মধ্যে ৭৯ জন বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাঙালি অতিথিপরায়ণ। এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন নাইজেরিয়া, ঘানাসহ আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা প্রতারকরা। বিভিন্ন সময় তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরাও পড়ছেন। কিন্তু অপরাধে জড়িত ওসব বিদেশীর বেশির ভাগেরই বৈধ পাসপোর্ট নেই। দু-একজনের থাকলেও তাতে ঠিকানা ভুল দেয়া থাকে। তাই তাদের আদালতে হাজির করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। ওসব বিদেশী পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
অন্যদিকে এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেলী ফেরদৌস জানান, বিদেশীরা ইমিগ্রেশনের নিয়ম মেনেই দেশে আসেন। নির্ধারিত সময়ে তারা ফিরে না যাওয়ায় অবৈধ হয়ে পড়েন। তার পর তারা আর্থিকসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। তবে ওসব বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি রয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় প্রায়ই দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধে জড়িত বিদেশী নাগরিকদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর