December 7, 2021, 3:49 am

শিরোনাম :
যশোরে সবজি চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হাফ ভাড়া ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বৃষ্টি ভিজেই শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন যশোরে সর্বোচ্চ ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রে শেখ ফজলুল হক মণি’র জন্মদিন পালিত কুয়াকাটা পৌরসভার সাফাই গেয়ে সংবাদ সম্মেলন জৈন্তাপুরে স্কুল ছাত্রের উপর চোরাকারবারীদের আক্রমন নীলফামারীর জঙ্গি আস্তানা থেকে ৫ জন আটক বোরহানউদ্দিনে নৌকার প্রার্থীর সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের সংঘর্ষের অভিযোগ আহত ১ চৌগাছায় ট্রাফিক পুলিশ কতৃক ৫৪ মোটরসাইকেল জব্দ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে অটোরিকশার ওড়না পেচিয়ে প্রান গেল স্কুলশিক্ষিকা শুক্লা রানী সেন বাণীগ্রাম ইউপিতে প্রার্থী হচ্ছেন ক্ষুব্ধ আব্দুল কাদির! নবাবগঞ্জে পায়ের রগ কেটে যুবককে হত্যা দিনাজপুরে মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় যুবলীগের সাবেক নেতা কারাগারে সিরাজগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা দিবস বাস্তবায়ন কমিটি উদ্যোগে ১লা ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ॥ ৪টি নৌকা এবং ৪টিতে স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়। রাজধানীর শ্যামপুর এলাকা হতে ০৮ কেজি গাঁজাসহ ০৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। প্রান্তিক শিশুদের মানসম্পন্ন শিক্ষায় ৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে ইউনিসেফ। এমপিওভুক্তির যোগ্য সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সাড়ে আট হাজার।

Spread the love

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন; প্রভুর উপর ভরসা করুন

আব্দুল্লাহ আল মামুন:  বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে বড় ছেলে রাইয়ানের জ্বর ১০৪ ডিগ্রি। চলতি মাসের ১৭ তারিখ ওর জগত দেখা ৭ বছর পূর্ণ হবে। ডাক্তারের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ঔষধ সাপোর্ট দিলেও জ্বরটা ওকে সম্পূর্ন ছেড়ে যাচ্ছে না। ঔষধে জ্বর নামছে, আবার তর তর করে বেড়ে যাচ্ছে। এর মাঝে গতকাল শনিবার হঠাৎই ছোট ছেলে রিদওয়ানের গা গরম। চলতি মাসের একই তারিখ ওর পূর্ণ হবে ২ বছর। তাপযন্ত্রে জ্বর মেপে ওর মা জানালো ১০২ ডিগ্রি প্লাস ছিল একটু আগে, যা অল্প সময়ের ব্যবধানে ১০৪ ডিগ্রি অতিক্রম করতে যাচ্ছে এখন। আবারো ডাক্তারের সাথে কথা বলে বাচ্চাদের দ্রæত সাপোজিটর দেয়া, ঔষধ খাওয়ানো, মাথায় পানি ও জলপট্টি দেয়া এবং ভেজা কাপড় চিপে গা মুছে দেয়া অনবরত চলতে থাকলো একটার পর একটা। গত দুই/ তিন রাত সম্পূর্ণ নির্ঘুম আর বাচ্চাদের সেবা শুশ্রƒষায় স্কুল শিক্ষিকা ওদের মা রাবেয়া আর আমি একেবারেই ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত।
এ অবস্থায় জীবনের প্রয়োজনে আজ রবিবার দুপুরের আগে অফিসপাড়া পল্টন যাই। নিজ অফিস ‘মুক্ত খবর’ হয়ে কাটাবনস্থ এসিল্যান্ডে দ্রæত কাজ সেরে বিকালে বাসায় ফিরি। ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেতে বসবো, রাবেয়া অপেক্ষা করছে। হঠাৎই শরীরটা কেমন যেন করে উঠলো। মনে হল শরীরের নিয়ন্ত্রণ অন্য কেউ নিতে চাচ্ছে। রাবেয়াকে কিছু বুঝতে দিলাম না। কোনো রকম খাবার শেষ করলাম। বাচ্চা দু’টা জ্বরের ঘোরে ঘুমাচ্ছে। শরীরটাকে আর ধরে রাখতে পারলাম না। নিজের বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম। এক সময় মনে হল কে যেন শরীরটাকে সজোরে ঝাকুনি দিচ্ছে। প্রচন্ড শীতে শরীরে কম্পন শুরু হয়েছে। একটু পাশেই রাবেয়া আছে। ও কিছু বুঝতে পারছে কি না জানিনা। আমি আর না পেরে আস্তে করে ওকে বললাম, একটু শীত শীত লাগছে, আমার গায়ে একটা কাথা দিয়ে দাও।
কাথা মুড়ি দিয়ে ভিতরে অন্যরকম এক জগত তৈরি হল আমার। যে জগতে শুধু আমি আছি, আর কেউ নেই। এখন কেউ আমাকে দেখছে না। আমার কি হতে চলেছে রাবেয়া হয়তো টের পাবে না। আমি চোখ দুটো বন্ধ করে উম নেয়ার চেষ্টা করছি। কিছু সময় পর একটু ভালো লাগতে শুরু করেছে। তবে শরীরের ঝাকুনি আর কাঁপুনির ধরনে মনে হচ্ছে না যে, সহসাই মুক্তি মিলবে। কিন্তু যেটুকু ভালো লাগতে শুরু করেছে, আমি সেটুকু ধরে রাখতে চাই। মুড়ি দেয়া কাথার ভিতর থেকে বের হওয়ার সময় এই ভালো লাগাটুকু সাথে নিয়ে বের হতে চাই। আমি চাই রাবেয়া কিছুই টের না পাক। বাচ্চা দু’টা শরীরে প্রচন্ড উত্তাপ নিয়ে বেঘোরে পড়ে আছে। বিকালে বাসায় ফিরে রাবেয়ার শারীরিক অবস্থাও খুব একটা ভালো মনে হয়নি আমার কাছে। এ অবস্থায় ও যদি বুঝতে পারে, আমার শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে, বিষয়টা ও কিভাবে নিবে বুঝে উঠতে পারছি না।
উত্তপ্ত মস্তিষ্কে এলোমেলো ভাবনায় সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতের প্রথম প্রহর। মুড়ি দেয়া কাথার মধ্যে আমি যেন মহা শূণ্যে ভেসে বেড়াচ্ছি। শরীরে প্রচন্ড তাপ অনুভব করছি। পরিমানটা কত হবে, অনুমান করার চেষ্টা করছি। এমন সময় মৃদু স্বরে রাবেয়ার কথা কানে এলো। মশারির বাহিরে থেকে আমার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে বললো ‘এই শুনছো’ বললাম ‘হুঁ।’ রাবেয়া বললো ‘তোমার জ্বরটা একটু মেপে দেখা দরকার, তুমি কাঁপছো।’ আমি আবারো বললাম ‘হুঁ।’ এরপর রাবেয়া যা বললো তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। ও বললো, “আমার জ্বর ১০৩ ডিগ্রি প্লাস, এই মাত্র মেপে দেখলাম।” রাবেয়াকে দুইবার ‘হুঁ’ বলার পর এবার কি বলবো? মাথায় যে কোনো শব্দ আসছে না। সবকিছু শূণ্য মনে হচ্ছে। শুধু মেরুদন্ডের দু’পাশ দিয়ে ভয়ংকর হীম-শীতল কিছু একটা নেমে যাওয়া টের পাই আমি। গত বছর এই রকম একটা সময়ে, এই করোনা কালে রাবেয়ার জ্বর ১০৫ ডিগ্রি অতিক্রম করেছিল। যা আমার দেখা কেনো মানুষের শারীরিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। তখন বাচ্চা দু’টোর বয়স ছয় আর এক। খুব ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। পাশে কেউ ছিল না। মহামারীর বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে কাউকে তো কিছু বলাও যায় না। এই দূর্যোগপূর্ণ অবস্থায় শুধু মনে হয়েছিল ‘কোথাও কেউ নেই।’ কিন্তু একজন রয়েছেন, যিনি কখনো কাউকে ছেড়ে যান না। সেই মহান প্রভুর উপরই ভরসা করতে হয়, তাই করেছিলাম। সে যাত্রায় তিনি অসীম দয়ার পরশ দিয়েছিলেন। বাচ্চা দু’টো সম্পূর্ন সুস্থ ছিল। আজ এখন এরূপ-বিরূপ পরিস্থিতিতে রাবেয়া যখন কানের কাছে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলছে, তার জ্বর ১০৩ ডিগ্রি প্লাস, তখন ঐ মুহূর্তে রাবেয়াকে কি বলেছিলাম তা আর মনে নাই। পরে ওর কাছ থেকে যা শুনেছিলাম, তা এখানে বলার মতো নয়।
তবে এখানে যা বলতে ইচ্ছে করে তা হচ্ছে, বর্তমান এই আপদকালীন সময়ে সকলকে স্বাস্থবিধি মেনে খুব সাবধানে চলাচল করতে হবে। যাদের ঘরে বয়োবৃদ্ধ ও শিশু রয়েছে, তাদের প্রতি দায়িত্বশীলদের অনেক বেশী যতœবান হতে হবে। বিশেষ করে বলতে চাই, দুর্যোগপূর্ণ সময়ে অসুখ-বিসুখে ঘাবড়ে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করিয়ে কোনো সাধারন অসুখকে কোনো বিশেষ অসুখের সাথে মিলিয়ে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর ধর্য্যরে সাথে মহান প্রভুর কাছে প্রার্থনায় নিমগ্ন হতে হবে। নিজ নিজ প্রার্থনায় আমাদের জন্যেও ছোট্ট করে একটুখানি জায়গা রাখতে সাদা মনের মানুষদের প্রতি বিনয়ের সাথে আহŸান রইল।

একজন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীর ডায়েরি থেকে।
সময়কাল: ১১ অক্টোবর ২০২১, সোমবার, রাত ১১’টা।

Facebook Comments Box
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ