September 26, 2023, 12:44 am

সংবাদ শিরোনাম
আষাড় মাসের বৃষ্টি আশ্বিন মাসে অসময়ে বর্ষণে তলিয়ে গেছে রংপুরের নিম্ন অঞ্চল রংপুরে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাসায় তৈরি খাদ্য সামগ্রী ও দেশী পণ্য প্রদর্শনী মেলা’ যাত্রীবাহী বাস তল্লাসি করে  বিদেশি মদ উদ্ধার, আটক ১ জন মৌলভীবাজারে ডিবির অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ২ কুড়িগ্রামে দুদিন ধরে বৃষ্টি, জনজীবন বিপর্যস্ত এক যুগ পর চৌদ্দগ্রাম পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত কুয়াকাটায় ব্যবসায়ীর হাত-পায়ের রগ কর্তনকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে মানববন্ধন পার্বতীপুরে ‘হুগলীপাড়া আর্দশ যুব সংঘে’র ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৩ অনুষ্ঠিত গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত  পানছড়িতে ভারতীয় পণ্য ও গাঁজাসহ চোরাচালান চক্রের ২ সদস্য আটক

সিরাজগঞ্জে মামলার কারনে স্কুল ভবন নির্মান বন্ধ : খোলা আকাশের নিচে ক্লাস চলছে

সিরাজগঞ্জে মামলার কারনে স্কুল ভবন নির্মান বন্ধ : খোলা আকাশের নিচে ক্লাস চলছে

মোঃ ইকবাল হাসান সরকার সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

১লা জানুয়ারী ২০১৮ইং সালে নতুন বছরে সারা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বই উৎসব। নতুন বই পাইয়া হাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আনন্দে আতœহারা। কিন্ত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার বনবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেই কোন আনন্দ। কারন হিসাবে জানা গেছে,নতুন বই হাতে নিয়ে তাদের ক্লাস করতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে ছাফড়া ঘরে। গাছতলায় মালিকানার দন্দ নিয়ে স্কুল ভবন নির্মান বন্ধ হওয়ার কারনে সকল আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে আরো জানা যায়,জমিদার প্রমোদমুখি অভয় গোবিন্দ,গনেশ গোবিন্দ,পর চন্দ্র সরকার ও আনন্দময়ী দেবরা উল্লাপাড়া উপজেলার বাদুল্লাপুর গ্রামের মীর কাদের আলী গংদের নামে মধ্যস্বত্ব চিরস্থায়ী নিঃস্বকর ভোগ দখলের জন্য ২ একর ১৫ শতক ভুমি দান করে ১৯২২ সালে বনবাড়িয়া গ্রামের খবির উদ্দিন মিয়ার নেতৃত্বে মীর কাদেরের নিকট থেকে বনবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ৬শতক,মসজিদের নামে ১৪ শতক ও ঈদগাহের নামে ২৫ শতক ভুমি সিএস রেকর্ড মুলে নেয়া হয়। খবির উদ্দিন মিয়ার মৃত্যুর পর ১৯৪৪ সালে মীর কাদেরের উত্তরসুরীদের নিকট থেকে বনবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রহমান আনন্দ নামে এক ব্যক্তি উল্লেখিত পরিমান জমি ক্রয় করে। যার মধ্যে স্কুল,মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠের জমি রয়েছে। আব্দুর রহমানের উত্তরসুরীগন উক্ত জমি নিজেদের বলে দাবী করায় ২০০৬ সালে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক সরকার দুদু আদালতে আব্দুর রহমানের উত্তরসুরীদের বিরুদ্ধে মামলা  করে যা শেষ পর্যন্ত গড়েছে আদালত পর্যন্ত। যার ফলে আদালতের নিষেধাক্তায় বন্ধ রয়েছে স্কুল ভবন নির্মানের কাজ। বনবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাবেক স্কুল বজলার রহমান মিয়া বলেন,১৯৬৫ ইং সালে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট ভবন নির্মান হয়।

ঝুকিপূর্ণ হওয়ার কারনে ২০০০ ইং সালে অনুপযোগী ঘোষনা করা হয় ভবনটি। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ২০০৮ ইং সাল পর্যন্ত সেখানেই ঝুকি নিয়ে চলে পাঠদান। ২০০৮ ইং সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নতুন ভবন নির্মানের জন্য দরপএ আহবান করে। সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শুরু করা স্কুল ভবন নির্মান কাজ। কিন্তু মামলার কারনে আদালতে নিষেধাক্তায় বন্ধ রয়েছে ভবন নির্মানের কাজ। এ দিকে ভবনটি ব্যবহারের আনুপযোগী ঘোষনা করায় বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে গাছতলায় পাঠদান শুরু করেন শিক্ষকেরা। তবে এখনো একটি কক্ষে দাপ্তরিক কাজ করতে হয় বলে জানান প্রধান শিক্ষক মাহমুদা খাতুন। তিনি আরো জানান,যাবতীয় কাগজপএ ঝুকিপূর্ণ ভবনেই রেখে যেতে হয়।

তাদেরও জীবনের ঝুকি নিয়ে এ কক্ষেই বসতে হয়। নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক অভিভাবক এখান থেকে তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে গেছে। ফলে গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। দুই বছর আগেও শিক্ষার্থী ছিল ৩০৪ জন। এখন ১৭৯ জন। সহকারী শিক্ষক শিরিনা খাতুন বলেন,শিশু শ্রেনীতে ১০ জন,প্রথম শ্রেনীতে ২৬ জন,দ্বিতীয় শ্রেনীতে ৩৫ জন,তৃতীয় শ্রেনীতে ২৭ জন,চতুর্থ শ্রেনীতে ৩৩ ও পঞ্চম শ্রেনীতে ৫৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ উত্তীন্ন হওয়ার কথা জানিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বলেন,প্রতি বছরই এখান থেকে তিন-চারজন বৃত্তি পেত। কিন্তু ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা শুধু কমছেই।

ফলে আগের মতো ফলাফল করা সম্ভব হচ্ছে না। চতুর্থ শ্রেনীর ছাএ সাকিব আল হাসান জানান,বিদ্যালয়ের আসল ঘরে ক্লাস করা যায় না জীবনের ভয়ে। নতুন ঘর তৈরি হচ্ছে না। যার কারনে খোলা আকাশের নিচে পড়ালেখা করতে হচ্ছে। বৃষ্টি আর ঝড়ের সময় খুব কষ্ট হয়। শওকত হোসেন,আব্দুল হালিম,নজরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান,স্থানীয় একটি পক্ষ বিদ্যালয়ের জায়গা নিজেদের দাবি করে মামলা করায় নতুন ভবন নির্মান করা যাচ্ছে না। যার কারনে বিদ্যালয়টির সার্বিক ব্যবস্থাপনা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক মাহমুদা খাতুন জানান,বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন-সচিব আব্দুল মান্নান বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসেছিলেন। আবার নতুন করে বরাদ্দ হয়েছে।

জায়গা নিয়ে সমস্যা থাকায় ভবনের নির্মান কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি এনামুল হক জানান,জায়গা ঠিক করা হয়েছে অচিরেই দলিল করা হবে। সেই স্থানে ভবন নির্মান কাজ শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার এমজি মাহমুদ ইয়াজদানী জানান,নতুন ভবন নির্মানের জন্য বিদ্যালয়টি তালিকা ভুক্ত হয়েছে। দন্দ নিরসনের জন্য চেষ্টা চলছে। আমা করি নতুন ভবন নির্মানের কাজ কিছু দিনের মধ্যেই শুরু করা যাবে।

Facebook Comments Box
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর