December 8, 2022, 10:13 pm

সংবাদ শিরোনাম
ভুল চিকিৎসায় শিশু মাইশাকে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে নবাগত জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচছা জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই আমার সংগ্রাম: প্রধানমন্ত্রী নয়াপল্টনে বিএনপি সমাবেশ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগ বিরোধী অপপ্রচারের যথাযথ জবাব দিতে হবে : ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী বিতর্কে সিলেটের পুলিশ উলিপুরে ছেলের সাথে অভিমান করে মায়ের আত্মহত্যা ইসলামপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ স্ত্রী ও তার সহযোগীদের হাত থেকে বাঁচতে চায় স্বামী ঘোড়াঘাটে সাংবাদিকের বাড়ীতে গভির রাতে সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাট

রংপুর সহকারী ভূমি কমিশনার কর্তৃক নারী সাংবাদিক লাঞ্চিত।

মোস্তফা মিয়া,রংপুর প্রতিনিধ:-
রংপুর সহকারী ভূমি কমিশনার কর্তৃক নারী সাংবাদিক লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রংপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক বিভাগীয় রিপোর্টার্স ইউনিটি মহিলা বিষয়ক সম্পাদিক শরিফা বেগম শিউলী সাংবাদিক লাঞ্চিত হওয়ায় বিভাগীয় রিপোর্টার্স ইউনিটি জেলা প্রশাসক বরাবর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের দাবিতে অভিযোগ করেন।
বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২২) দুপুরের দিকে জেলা প্রশাসককে এ অভিযোগের কপি জমা দেয় রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দ। সাংবাদিক যেখানে লাঞ্চিত হয় সেখানে সাধারণ মানুষ কিভাবে আস্থা পাবে সরকারী ভূমি অফিসের কাজের সেবায়। ডিজিটাল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ প্রত্যক্ষদষীরা জানায় এখানে ঘুষ ও বাণিজ্য চলছে দেখার কেউ নেই  ঐ ভূমি সহকারী কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি জানাই তারা।
সরজমিনে গেলে জানা যায়, শরিফা বেগম শিউলী পেশায় একজন সংবাদ কর্মী।  রংপুরের দৈনিক প্রথম খবর, জাতীয় গনমাধ্যম দৈনিক নবচেতনা পত্রিকায়। এছাড়াও তিনি রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)এর কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক। তিনি জানান, (১৯ মে ২২)তারিখে অনলাইনে ক্রয়কৃত জমির নামজারির জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে যথা সময়ে তিনি মোবাইল এসএমএস এর মাধ্যমে সদর ভূমি অফিসে নামজারির কাজ সম্পাদন করার জন্য জমির মূল কাগজপত্রসহ ভূমি কার্যালয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু ভূমি কর্মকর্তা রয়েছেন অফিসের কাজে বাহিরে। আর এমনটাই বক্তব্য শুনা যায় হরহামেশাই। পরে সদর ভূমি অফিসে যোগাযোগ করলে আবারো পরের দিন আসার কথা জানান তারা।
যথারীতি রংপুর সদর ভূমি অফিসে আমার নিজ নামীয় জমির নামজারির সকল কাগজপত্রাদি সহকারী ভূমি কমিশনার জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন আমার কাগজপত্র নিয়ে তার টেবিলে রেখে ধারাবাহিকভাবে
অন্যদের কাগজপত্র দেখতে থাকেন। পরবর্তীতে আমার কাগজপত্র সিরিয়ালে আসলেও তিনি অন্যদের হাত থেকে কাগজ চেয়ে নিয়ে দেখতে থাকেন। এরই মধ্যে আমার জরুরী সংবাদ সংগ্রহের জন্য মোবাইলে কল আসতে থাকলে আমি কর্মকর্তাকে অনুরোধ করি,আমার নথিপত্র দেখার জন্য। বিনীতভাবে অনুরোধ করা সত্ত্বেও হঠাৎ করে তিনি আমার উপর রাগান্বিত হন এবং বলেন চুপ করে বসে থাকেন, আপনি কিসের সাংবাদিক, ৬ মাস পর আপনার আবেদনের শুনানি হবে। আমি তাকে অনুরোধ করে বলি আপনি রাগ হয়ে কথা বলছেন কেন? এতে তিনি আরো রাগান্বিত হয়ে
পুনরায় উক্ত জমির কাগজপত্রাদি হাতে নিয়ে টেবিলের এক কোনায় ঝটকে রেখে দেন এবং আমার সাথে উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে বাজে মন্তব্য শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি আমার জমির নামজারি আগামী ৬ মাস পরে পরে সিরিয়াল পাবেন বলে
আমার সহকর্মী সাংবাদিক রবিন চৌধুরী রাসেলসহ উপস্থিত সকলের সামনে অযৌক্তিক ও অকথ্য ভাষায় কথা বলেন এবং আমাকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেন । একজন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার এমন দুর্ব্যবহারে আমি ব্যথিত ও মর্মাহত হয়ে রুম থেকে বের হয়ে আসি। অকারণে আমার মত একজন সংবাদকর্মীর সাথে এমন দুর্ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষ সেখানে কিভাবে আস্থা পাবে। প্রশাসনের এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের এহেন আচরণে আমি মর্মাহত। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আমি তার শাস্তির দাবি করছি।
অপর দিকে ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক রবিন চৌধুরী রাসেল বলেন, ঘটনার সময় আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম, সহকারী ভূমি কমিশনার প্রথম থেকেই রাগ রাগ হয়ে কথা বলতেছিল। শিউলী আপু কিছু বলে নাই সহ্য করেই গেছেন। পর পর রাগ দেখিয়ে কথা বলায় আপু বলছে আপনি রাগ দেখিয়ে কথা বলছেন কেন??এতে আরো রাগান্বিত হয়ে সাংবাদিক নিয়ে উল্টো পাল্টা ও অযৌক্তিক কথাবার্তা বলে খারাপ আচরণ করে রুম থেকে বের হতে বলেন। সরকারী সেবা সহজে পাওয়ার জন্য সততার সাথে যেখানে সরকার প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। সেখানে একজন ভুমি সহকারী কর্মকর্তার এমন আচরন জাতির কাছে লজ্জাজনক। এর সঠিক তদন্ত করে বিচার হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
একজন নারী সংবাদ কর্মী লাঞ্চিত বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রহমতুল্লাহ অপু বলেন, রংপুর সদর সহকারী ভুমি কমিশনার জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন এর ব্যাপারে সংগঠনে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।একজন কর্মকর্তার এরকম ন্যাক্কারজনক আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। তাই আমরা সংগঠনের পক্ষথেকে বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২২) জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছি।
সহকারী কমিশনারের (ভূমি)জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন কে দুইটা নাম্বার থেকে ৮বার কল দিলে তিনি ফোন ধরেন নাই।
তবে এব্যাপারে রিপোর্টার্স ইউনিটির কোষাধ্যক্ষ মেহেবুব পারভেজ সুমন বলেন আমাদের সংবাদকর্মী শরিফা বেগম শিউলী জেলা প্রশাসক বরাবর ঐ সহকারী ভুমি কমিশনারের এহেন আচরণ এর বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মোঃ আসিব আহসান বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান।
Facebook Comments Box
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর