May 19, 2022, 11:32 am

পাবর্তীপুর বড়পুকুরিয়া কয়লা উত্তলন বন্ধ, শ্রমিকেরা দিশেহারা

আমজাদ হোসেন,পাবর্তীপুর (দিনাজপুর) ::
পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির অচল অবস্হা।  শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে কয়লা উত্তোলন বন্ধ।  কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকেরা দিমশেহারা, কর্মস্থলে যোগদান, বকেয়া বেতনর দাবি নামানা পর্যন্ত শ্রমিকেরা আনন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষনা দিয়েছেন, এদিকে অভান্তরে  দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ শ্রমিকরা বাড়ি থেকে যাতায়াতের দাবিতে ভিতরে ও বাহিরে তোড়জোড়  আন্দোলন শুরু করায় খনির উৎপাদন কাজ বন্ধ হয়ে যায় । জানাযায়  খনিকর্তৃপক্খ মানবিক দিক বিবেচনায়  কর্মহীন হয়ে পড়া  শ্রমিকদের মাঝে ভেজা গামছা বুকে দেয়ারমত প্রত্যেককে মোবাইল বিকাশের  মাধ্যমে পাঁচ হাজার করে টাকা  এককালিন প্রদান করেন যা শ্রমিকরা খনি কর্তৃপক্ষের নিকট প্রত্যাসা করেননি বলে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান ।  কর্মহীন শ্রমিকেরা স্ত্রী সন্তান নিয়ে খনির  মুল ফটকের আসপাশে প্রতিদিন দুপুর ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৫ টা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি কয়লা উত্তোলন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরাও খনির ভিতরে আন্দোলন শুরু করেছে ।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন,এখন পর্যন্ত খনি কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে খোলা মেলা  কোনো রকম আলোচনার আস্বাস দেননি বা বসেনি । এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ( বিসিএমসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক  প্রকৌশলী;কামরুজ্জামান এবং  জি,এম মোঃ সাইফুল ইসলাম  (মাইন অপারেশন) জানান কয়লা উত্তোলন কাজে যুক্ত   শ্রমিকরা কাজে যোগদানের আন্দোলন শুরু করায় ২৭শে এপ্রিল  বুধবার থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ রয়েছে । তবে বর্তমান উৎপাদনশীল   ১৩১০ নম্বর  স্কোলফেইজে মজুদ  সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই শেষ হয়ে কয়লা উত্তোলন কাজ এমনিতেই বন্ধ হয়ে যেতো । নতুন ১৩০৬ নম্বর ফেউজ থেকে কয়লা উত্তোলন করা হবে । ১৩১০ নম্বর ফেইজ থেকে যন্ত্রপাতি সরিয়ে ১৩০৬ নম্বর ফেইজে স্থাপন করে কয়লা উত্তোলনে অন্তপক্ষে তিন মাস সময় লাগতে পারে বলে কয়লাখনি কতৃপক্খ জানানা।  এমডি আরো জানান যে,আমাদের ইয়ার্ডে  এখল প্রায় ২ লক্ষাধিক মেট্রিক টন কয়লা মজুদ আছে । তিনি বলেন পুনরায় উৎপাদন কার্য শুরু হলে পর্যায়ক্রমে সকল শ্রমিকদের সিফটিং ব্যাবস্হায় কাজে যোগদান করাবে বলে এক্সএমসি – সিএমসি এক সুত্রে জানা যায়।   উল্লেখ্য , খনির উৎপাদন , রক্ষণাবেক্ষণ পরিচালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি – সিএমসি কনসোর্টিয়ামের অধীনে কর্মরত ১ হাজার ১৪৭ জন বাংলাদেশী শ্রমিক ২০২০ সালের ২৬ মার্চ থেকে করোনার অজুহাতে  লকডাউন করায় বেকার হয়ে পড়ে শ্রমিক গোষ্ঠী। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের বেতন ভাতাও বন্ধ করে দেয় । এ অবস্থায় কাজে যোগদান ও বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে খনি শ্রমিক ও পারটাইম কর্মচারীরা বিক্ষোভ – সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ শুরু করে আন্দোলন  করে আসছে।  এক্সএমসি – সিএমসি পর্যায়ক্রমে ২০২০ সালের জুলাই – আগস্ট মাসে প্রায় সাড়ে চার শত শ্রমিক – কর্মচারীদের কাজে যোগদান করিয়ে  তাদের নিকট  থেকে ওভার টাইমে ১১শত শ্রমিকের কাজ করিয়ে নিচ্ছে বলে জানাযায় ।                     খনি কম্পাউন্ডের ভিতরে যে সমস্ত শ্রমিক বন্ধীদশায় ছিল তাদের ছুটি দিয়েছে খনি কর্তৃপক্খ ।
Facebook Comments Box
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ