July 26, 2021, 1:23 am

শিরোনাম :
মাধবপুরে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক করোনা মোকাবেলায় জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তারা মাঠে ঝিকরগাছায় খেলাকে কেন্দ্র করে নয়ন নামের এক যুবক হত্যা ধান্ধা লীগে বিব্রত আওয়ামী লীগ; লীগ যুক্ত করে নিত্যনতুন দোকান খুলছে সুবিধাভোগীরা সাদুল্ল‍্যাপুরে পেট্রোল বোমা ও ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার চিলমারীতে সাংবাদিকের বাসায় চুরি! শশুর বাড়ি থেকে সিএনজি চুরি! রাজশাহীতে লকডাউন বাস্তবায়নে তানোর থানা পুলিশের তৎপরতা ভারতীয় রেলওয়ের ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’ বাংলাদেশের পথে জগন্নাথপুরে গৃহবধূর আত্মহত্যা যশোর পৌর পার্কের পুকুরে ডুবে যাওয়া শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার জগন্নাথপুরে লক ডাউন মোকাবেলায় মাঠে প্রশাসন, ১৫ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড চরফ্যাশনে মেঘনার তীরে অজ্ঞাত দুই যুবকের লাশ উদ্ধার রমেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরির চেষ্টায় ড্রাইভার সহ হেল্পার আটক ভোলায় লকডাউনের প্রথম দিনে রাজধানীমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু বাংলাদেশের নামও পেগাসাসের তালিকায় মুনিয়ার আত্মহত্যায় আনভীরের দোষ পায়নি পুলিশ কাল থেকে সবচেয়ে কঠোর লকডাউন ছুটির দিনে ১৮৭ মৃত্যু, শনাক্ত ৩ হাজার ৬৯৭

নেত্রকোণায় ২শতাধিক ভাতাভোগীর টাকা অন্যের মোবাইলে

Spread the love

গজনবী বিপ্লব, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ
নগদ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় এজেন্টদের খামখেয়ালিপনার কারণে মোবাইল  নম্বর ভুল এন্ট্রির কারণে প্রায় দুইশতাধিক ভাতাভোগীদের টাকা চলে গেছে অন্যের মোবাইলে। ভাতাভোগীরা পড়েছেন বিপাকে। সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভাতাভোগীরা।
এ নিয়ে প্রতিদিন উপজেলা সমাজসেবা অফিসে ভীড় করছেন ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা। নিজের নামের নগদ অ্যাকাউন্টে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ওয়েবসাইটে অন্যের মোবাইল নম্বর দেখে ভাতাভোগীদের অনেকে মন খারাপ করে হতাশায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
এমন অভিযোগ নেত্রকোনার মদন উপজেলার সমাজসেবা অফিস ও নগদ এজেন্ট প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। দূর দূরান্ত থেকে ভাতাভোগীরা সমাজসেবা অফিসে আসলেও টাকা ফেরত পাবে কিনা তার কোন সুরাহা করতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে মদন সমাজসেবা অফিস বলছে, সুবিধাভোগীদের নগদ অ্যাকাউন্ট নগদ এজেন্টের লোকজন করেছেন এমনকি নিজের নম্বরটি ভুল করে দেওয়ার কারণেই হয়তো এমন হয়েছে।
এইসব কারণে পৌরসভাসহ উপজেলার আট ইউনিয়নের প্রায় দুইশতাধিক বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও স্বামী পরিত্যক্তা সুবিধাভোগীদের ৬ মাসের ভাতার টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে চলে গেছে।
সমাজ সেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, পৌরসভাসহ উপজেলার আট ইউনিয়নে মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৮৯ জন। নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা প্রায় শেষ পর্যায়ে । সরকার চলতি বছরে বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা ব্যাংকের পরিবর্তে নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দিচ্ছেন।
চুক্তি অনুযায়ী নগদ কোম্পানি এন্ট্রিকৃত মোবাইল নম্বরে ভাতাভোগীদের টাকা পাঠায়। কিন্তু নগদ কোম্পানির এজেন্ট এর লোকজনের উদাসীনতায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ওয়েবসাইটে ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বর ভুল এন্ট্রি দেন।
ফলে উপজেলার প্রায় দুইশতাধিক ভাতাভোগীর অক্টোবর থেকে মার্চ মাসের ভাতার টাকা চলে গেছে অন্যের মোবাইল নম্বরে। তবে যে সকল মোবাইল নম্বরে টাকা গেছে সে সব নম্বর বন্ধ দেখাচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী বাঘমারা গ্রামের শরিফা আক্তারের মা বলেন,আমার মেয়ে ভাতা পাওয়ার জন্য গ্রামীণ নম্বর দেই,অফিসে এসে দেখি আমার মেয়ের ভাতা গেছে বাংলালিংক নম্বরে তাও আবার বন্ধ। দক্ষিণ বালালী গ্রামের প্রতিবন্ধী সেকুল মিয়ার ভাই হানিফ মিয়া জানান, আমার ভাইসহ আরো দুই বাচ্চা প্রতিবন্ধী। তাদের টাকাও চলে গেছে আরেক জনের মোবাইলে। ফোন করলে বন্ধ পাই। কিভাবে এর সমাধান হবে তাও জানি না।
এদিকে বয়স্ক ভাতাভোগী কাইকুড়িয়া গ্রামের কল্পনা আক্তার, আব্দুল বারেক, নারী ভাতাভোগী উষারানী বিশ্বশর্মা, নারী ভাতাভোগী কেশজানি গ্রামের আঙ্গুরা আক্তার জানান, আমরা যে অফিসে নম্বর দিছি এই নম্বরে কোন টাকা আইছে না। অফিসে আইয়া দেহি টাকা গেছে গা আরেক জনের মোবাইল নম্বরে। সরকারের দেয়া এই ভাতাডার উপর চাইয়া তাহি। অফিসে কয়েক দিন ধইরা আইতাছি কোন সমাধান হওইতাছে না। সামনে ঈদ ভাতা না পাইলে কেমনে ঈদ করব ? যারার ভুলে এমনটা হইছে তারাই আমরারে টাকা দিতে হইবে।
তিয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান ফকর উদ্দিন আহমেদ জানান, নগদ এজেন্ট নিয়োগ করেছে সমাজসেবা অফিস। এজেন্টরাই মূলত এমন কাজটি করেছে। আমার ইউনিয়নে বেশ কয়েক জন ভাতাভোগীর এমন সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সমাজসেবা অফিসে জানিয়েছি।
কাইটাইল ইউপি চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাহ রয়েল জানান, এ কাজটি করেছে মূলত একটি চক্র। আমার ইউপি সচিবকে সমাজসেবা অফিসে পাঠিয়েছিলাম। অনেকের টাকা অন্যের মোবাইলে চলে গেছে বিষয়টি সমাধান করার জন্য সমাজসেবা অফিসকে অবগত করা হয়েছে।
ভাতা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহজামান আহমেদ বলেন, নগদের অফিসের লোকজন এমনটি করেছে। যে ভুল নম্বরগুলোতে টাকা গেছে কিন্তু বন্ধ রয়েছে ওই নম্বরগুলো পেরোল দেওয়া হয়েছে। সেই টাকা ফেরত আসবে, দিতে পারব। আর যে নম্বরের টাকা উত্তোলন করেছে, সেটার কিছু করতে পারব না।
এ নিয়ে প্রথম পর্যায়ে অনেক জটিলতা থাকবে। সারা দিন কাজ করছি। ভুলে যাদের টাকা চলে গেছে তাদের বিষয়টি নগদের অফিসে ও আমাদের নেত্রকোনা অফিসে প্রেরণ করেছি। দেখা যাক কি করা যায়।
মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদ জানান, টাকা না পাওয়া কয়েকজন ভাতাভোগী আমার অফিসে এসেছিল। তাদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। বিষয়টি কিভাবে সংশোধন করা যায় প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলব এবং নগদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি দ্রুত সামাধানের চেষ্টা করা হবে।

Facebook Comments Box
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ