January 17, 2022, 4:06 am

শিরোনাম :
মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় খননকৃত মাটি ফেলতে জমি অধিগ্রহণই ভরসা ঝালকাঠিতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় বৃদ্ধা খুন ! ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করাতে এসে বাবা হলেন লাশ! বরিশালে বাবুগঞ্জে ওসি’র তদারতিতে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গৃহবধূ মরিয়ম হত্যার আসামী গ্রেপ্তার সিলেটের পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফের সফল কার্যক্রম! র‌্যাব-১০ এর অভিযানে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা হতে দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ ডাকাত দলের ০৭ সদস্য গ্রেফতার মৌলভীবাজার গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সুন্দরগঞ্জে এমজেবি-জেজেবি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন শশুরের আত্মহত্যায় প্ররোচিত মামলায় জামাই আটক কুলাউড়া সরকারি কলেজের শিক্ষার পরিবেশের উন্নয়নে কাজ করে যাব’- মোহাম্মদ আবু জাফর রাজু হিলিতে ভিওআইপি ব্যবসা করার অপরাধে আটক-১ ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস জাফলং ইউনিটের জলবায়ু ধর্মঘট জনবান্ধব ইউএনও’র কর্মপরিকল্পনায় বদলে গেছে ‘তানোর’ হিলিতে ভিওআইপি ব্যবসা করার অপরাধে আটক-১ মাদ্রাসার প্রভাষকের উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন সড়ক পারাপারে বিদ্যালয়ের সম্মুখে জেব্রা ক্রসিং দেয়ার দাবি শিক্ষার্থীদের কুড়িগ্রামে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড সংখ্যার ৫ গুণ রোগী কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সকল শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা বাধ্যতামূলক

বিলীন হয়ে যাচ্ছে কৃষি জমি

Spread the love
দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ
ঢাকা দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে আশংকাজনক হারে কমছে কৃষি জমি। অপরিকল্পিত আবাসন প্লট তৈরী, প্রকল্প এবং নগরায়নের ফলে ক্রমেই কমছে এ কৃষি জমির পরিমাণ। এছাড়াও এসব ফসলি জমিতেই নির্মাণ করা হচ্ছে বাসাবাড়ি  ও দোকানপাটসহ বিভিন্ন রকমের স্থাপনা।
এসব কারণে গত  বছরে তুলনায় এবছরে কৃষি জমি হ্রাস পেয়েছে। ইতিপূর্বে নদী ভাঙ্গনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারনে যে হারে আবাদী জমি হ্রাস পেতো, বর্তমানে ফসলী জমিকে কেউ কেউ ভিটেবাড়ি কেউবা আবার জলাধারে রূপান্তরিত করে মাছ চাষের আওতায় আনার কারনে তার চেয়ে অধিক হারে এখন কমে যাচ্ছে কৃষি জমি।
এ ফসলী জমি রক্ষায় কোন সুস্পষ্ট বিধান না থাকায় অবাধে বিনাশ করা হচ্ছে এই ফসলি জমি। তাছাড়া প্রশাসনের নজর দারির অভাবে এই কৃষি জমি ড্রাজার দিয়ে বালু ভারে নষ্ট করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার কথা ভেবে নিয়মিত মনিটরিং ও ফসলী জমি সুরক্ষায় প্রশাসন অথবা ইউনিয়ন পরিষদ এগিয়ে আসলে এই ফসলি জমি রক্ষা করা যাবে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়ন হয়ে পুরো মাহমুদপুর ইউনিয়ন জুড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি ড্রাজার পাইপ আর এই ড্রাজার পাইপের মাধ্যমেই কৃষি জমি ভরা হচ্ছে অবাদে। পদ্মার পাশে ড্রাজার বসিয়ে পাইপ দিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে কৃষি জমি ভরাট করছে ড্রেজার ব্যবসায়ীরা। তেমনি ড্রেজার ব্যবসাইয়ীরা পাল্লা দিয়ে রূপান্তরিত করা হচ্ছে বড় বড় পুকুর-দীঘিতে। যেখানে কৃষকরা কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে করছেন মাছ চাষ। এমন চিত্রই লক্ষ্য করা গেছে দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে। তবে কয়েকদিন আগে দোহার উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি ফজলে রাব্বি কয়েকটি ড্রেজার পাইপ ভেঙে দিলেও পূর্ণরায় আবার তারা তা জোরা লাগিয়ে তাদের মত ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার লোভে কৃষকদের কাছ থেকে ফসলি জমির মাটি কিনে নিয়ে আবার সেই মাটি ড্রেজার দিয়ে কেটে অন্য কৃষকদের কাছেই বিক্রি করছে। এসব মাটি দিয়ে রাস্তার ধারের জমি ভরাট করে কেউ নির্মান করছেন বসতবাড়ি আবার কেউবা করছেন হাউজিং প্রকল্প।
তবে ফসলি জমি ভরাটের মহোৎসব চলছে দোহারের মাহমুদপুর ইউনিয়নের ড্রেজারের মাটি দিয়ে। আর এই ড্রাজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে, আওলাদ হোসেন, এড্যাভোকেট জিন্নত চোকদার,রাশেদ চোকদার,ইয়াকুব খাঁ,সাঈদসহ আরো অনেকে।
মাহমুদপুর ইউনিয়নের লটাখোলা ও লটাখোলা চাঁন্দের বিল ব্রিজ এলাকা থেকে শুরু করে ১নং ওয়ার্ড,২নং ওয়ার্ড, মাহমুদপুর,চরপুলিয়া,হরিচন্ডি হাযানবাড়ি মোড়, হরিচন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় কয়েক একর জমি ইতিমধ্যেই ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়াও ঐ ইউনিয়নের আরো বেশ কয়েক গ্রামে এখনো চলছে ফসলি জমি ভরাটের মহোৎসব। এসব ফসলি জমি ভরাটের জন্য অল্পদামে মাটি দেওয়ার কথা বলে কৃষকদের নানাভাবে উদ্ভুদ্ধ করছে ড্রেজার ব্যবসায়ীরা। এভাবেই দিনদিন কৃষি জমিগুলো কমে অকৃষিখাতে রুপান্তরিত হচ্ছে।
তেমনি একজন কৃষি জমির মালিক রেহেনুমা জানান, আমার স্বামী বিদেশে থাকে আমার বাসায় পুরুষ লোক কেউ নেই। সেই সুবাধে আল আমিন চোকদারসহ আরো কয়েক জন আমার কৃষি জমি
কেটে মাটি বিক্রি করছে। এবিষয়ে আমি দোহার উপজেলা প্রশাসনেকে জানালে কিছু দিন তারা মাটি কাটা বন্ধ রাখে। পরে পূর্ণরায় আবার আল আমিনরা  মাটি কাটা শুরু করে। এভাবে তারা আমার জমি দখল করে  নিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করছে। এখন আমার প্রশাসনের কাছে দাবি আমার কাগজ অনুযায়ী তারা আমার জায়গায় বুঝিয়ে দিক। আমি মেয়ে মানুষ হয়ে প্রসাশনের কাছে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পরেছি।
ড্রেজার ব্যবসাই আওলাদ হোসেন সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমার কাছে সব কাগজ পত্র আছে। আমি আমার কাগজ পত্র অনুযায়ী কাজ করতেছি। প্রসাশনের কাছে থেকে অনুমতির বিষয় জানতে চাইলে তিনি কিছুই বলেন নেই।
এবিষয়ে দোহার উপজেলায় সহকারী কমিশনার ভূমি ফজলে রাব্বি বলেন, আমরা এই বিষয়টি আপনার কাছে থেকে জানতে পারলাম। আমরা এবিষয়ে ব্যবস্থা নিব এবং রাস্তার উপর যত পাইপ আছে আমরা তা অপসারণ করবো।
Facebook Comments Box
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ