October 25, 2021, 5:58 pm

শিরোনাম :
দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও বাড়ীঘরে হামলার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে চিকিৎসকদের মানববন্ধন প্রি প্রেস রিলিজ (“কোভিড সংক্রমণ হ্রাস ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াতের নিরাপদ পরিবেশ চাই” শীর্ষক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে প্রতিবেদক, ক্যামেরাম্যান ও আলোকচিত্রী প্রেরণ এবং সংবাদ প্রকাশ প্রসঙ্গে) বিএফইউজের নির্বাচনে সদস্য পদে যশোরের গোপীনাথ দাস ও শাহাবুদ্দীন আলমের জয়লাভ ভৈরবে গচ্চা গেলো প্রায় তিনশ’ কোটি টাকা শার্শায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মারামারিতে আহত ১০ সয়ার শ্যামগঞ্জ সপ্রাবি’র গাছ কাটার অভিযোগ কর্তৃপক্ষের নজরদারীর অভাব সুন্দরগঞ্জে স্কুলছাত্রী উদ্ধার: অপহরণকারী গ্রেপ্তার পীরগঞ্জের করিমপুর জেলে পাড়ার বাসিন্দারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে যশোর সদর ২নং লেবুতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ লালপুরে নিখোঁজের ৪দিন পরে শিশু বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার তথ্যসন্ত্রাস ও মির্জা ফখরুলদের অপপ্রচার সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের রক্ষা করার অপকৌশল- আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম আসন্ন শৈলকুপা ইউপি নির্বাচনে আবাইপুর ইউনিয়নে আ’লীগের যোগ্য প্রার্থী মোক্তার আহমেদ মৃধা জনসমর্থনে এগিয়ে নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের দাবীতে মানববন্ধন লালপুরে পুকুরে ডুবে যুবকের মৃত্যু যশোর শিক্ষাবোর্ডে আরো আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতি ; দুদকে অভিযোগ সারাদেশে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে নেত্রকোনায় গণ-অনশন চিলমারীতে একটি ঘরের জন্য আবেদন রমজান আলীর দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ১৫টি ঘরের মধ্যে ৯টি ঘরই পেয়েছে স্বচ্ছলরা ঝিনাইদহে ইজিবাইক চালক হত্যার ঘটনায় ৬ জন গ্রেফতার, ইজিবাইক ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার রামপালে পালিত হল জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস

বাঘারপাড়ায় বেপরোয়া ভাবে চাঁদা বাজি করে চলেছে সাংবাদিক আখতার

Spread the love
যশোর রিপোর্টার::
যশোরের বাঘারপাড়ায় চাকরি দেয়ার নাম করে একজনের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আখতারুজ্জামান নামে কথিত এক সাংবাদিক। এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বাঘারপাড়া প্রেসক্লাবে একাধিক ব্যক্তি আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, বাঘারপাড়ায় কথিত সাংবাদিক আখতারুজ্জামানের চাঁদাবাজির দৌরাত্ম দিন দিন বেড়েই চলেছে। বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের কার্ড গলায় ঝুলিয়ে মোটরসাইকেলে ‘সাংবাদিক’ স্ট্রিকার লাগিয়ে সরকারি-বেসরকারি অফিসে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।
যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের আগ্রাইল গ্রামের লিলি ঘোষ বলেন, ‘দুই বছর আগে আমার ছেলে প্রান্তের সাথে পরিচয়ের মাধ্যমে আখতারের আমাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে সে আমাকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে এবং প্রান্তকে সরকারি চাকরি দেয়ার প্রস্তাব দেয়। বিশ্বাস করে তার হাতে আমরা নগদ ৯ লাখ টাকা তুলে দিই। প্রায় এক বছর পর আখতার সেনাবাহিনীর একটি যোগদানপত্র দেয়, কিন্তু সেটি ছিল ভুয়া। বিষয়টি তাকে জানালে আমাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। নিরুপায় হয়ে আমরা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য কিশোর কুমার জানান, আমাদের পরিবারটি যৌথ পরিবার। আমাদের সব ভাইয়ের সংসার একসাথে। আমার ভাইপো প্রান্তর মাধ্যমে আখতারুজ্জামান আমাদের বাড়িতে আসা যাওয়া শুরু করে এবং আমাদের সাথে প্রান্ত চাকরির বিষয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে  ৯লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। বিভিন্ন সময়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে আরো প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ করায়। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগপত্রও সে আমাদের  প্রদান করে। নিয়োগপত্র ভূয়ার বিষয়ে তাকে জানালে সে আমাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এখন খোঁজ খবর নিয়ে দেখি সে একজন প্রতারক। সে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে অনেক টাকা নিয়েছে বলেও বিভিন্ন লোকে আমাকে জানিয়েছে। সর্বশেষ নিরুপায় হয়ে আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছি।
ডিবি পুলিশের এসআই সুলাইমান হোসেন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাঘারপাড়ার বেসরকারি আনোয়ারা ক্লিনিকের পরিচালক মাহবুবুর রহমান জানান, গত মার্চ মাসে আখতার তাদের ক্লিনিকে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরেন। কোনভাবে তাকে বুঝিয়ে বিদায় দেন তারা। পরবর্তীতে কয়েকবার ক্লিনিকে গিয়ে রিপোর্ট করবেন বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে দশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। একপর্যায়ে ক্লিনিকের ম্যানেজার, সেবিকা ও কর্মচারীরা তাকে ধাওয়া করলে ক্যামেরাপার্সন নিয়ে সটকে পড়েন তিনি।
জানা যায়, দিন কয়েক আগে উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের ভগবানপুরে একটি বিয়ে বাড়িতে গিয়ে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন আখতারুজ্জামান। টাকা না দেয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বরযাত্রীর গাড়ি আটকিয়ে নগদ তিন হাজার টাকা আদায় করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক মাস আগে টিভি চ্যানেলটির জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে আখতারুজ্জামান ২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেন। চাঁদা দিতে শিক্ষকদের নির্দেশ দেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম নুর-ই-এলাহী। এ কাজে সহযোগিতা করেন মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুভাষ সমাদ্দার, বেতালপাড়ার প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম, পাঠান পাইকপাড়ার প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার সেন ও জহুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রানী কুন্ডু।
জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘টাকা দেয়ার জন্য আমি কোন স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ফোন করিনি। সুভাষ স্যার টাকা দেয়ার জন্য আমাকে মেসেজ করেছিলেন।’
চাঁদা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক সুভাষ সমাদ্দার বলেন, ‘কাউকে টাকা দেয়ার জন্য বাধ্য করা হয়নি। ওই সাংবাদিক আখতারই আমাকে প্রথমে বলেছিলেন। পরে এটিও স্যারও ফোনে আমাকে বলেলেন ভালো কাজ, আপনারা সবাই সহযোগিতা করেন।’
এ ব্যাপারে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম নুর-ই-এলাহী বলেন, ‘টেলিভিশনের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে আমরা টাকা দিয়ে তাকে সহযোগিতা করেছি।’
যোগাযোগ করা হলে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘চাকরি দেয়ার জন্য আমি নিজে টাকা নেইনি। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার মসজিদের সাবেক ইমাম রমজানকে টাকা দেয়া হয়েছিলো। আমার উপস্থিতিতেই টাকাটা দেয়া হয়। আমি নিজেও ওই ইমামের কাছে চার লাখ টাকা দিয়ে ধরা খেয়েছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাঘারপাড়া প্রেসক্লাবে একাধিক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে সভাপতি আমাকে (আক্তারকে)ফোন করে জানিয়েছেন। অভিযোগ কেউ করতেই পারেন। তবে আমিও একজন গণমাধ্যমকর্মী, আপনিও গণমাধ্যমকর্মী। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে লেখেন। কোন সমস্যা নেই।’
Facebook Comments Box
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ