October 20, 2021, 3:52 am

শিরোনাম :
দিনাজপুরে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ৩৫ কোটির মানি লন্ডারিং মামলা জগন্নাথপুরে সস্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা ভোলায় স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে আভাস এর কনসালটেশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত বেনাপোল স্থলপথে পাসপোর্ট যাত্রীদের যাতায়াত বৃদ্ধি লালপুরে ৪কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক পীরগঞ্জে হিন্দু পল্লীতে হামলার ঘটনা পুর্ব পরিকল্পিত ছিল না নেত্রকোনায় সম্প্রীতি সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বেনাপোল- ঢাকা এক্সপ্রেস এখনও বন্ধ রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে যথাযথ মর্যাদায় শেখ রাসেল দিবস পালিত শীতলা মূর্তির গলা কাটলো দুর্বৃত্তরা পীরগঞ্জে ১৭ জেলের ঘরবাড়ি আগুনে ভস্মীভুত অর্ধশতাধিক বাড়ী বেনাপোলের গোগা সীমান্তে পিস্তল-গুলি ও মাদক উদ্ধার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু ঝিনাইদহে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতামুলক নাটক ‘অপমৃত্যু’ পরিবেশিত সুবর্ণচরে মাছের সাথে শক্রতা! রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি তৌহিদুল ইসলাম ঝিকরগাছায় ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোট ৬০ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা আটপাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দোকানঘর ভাংচুর ও লুটপাট জগন্নাথপুরে মাকে পেটালো বড় ছেলে, প্রতিবাদ করায় ছোট ছেলে বাড়ি ছাড়া

জগন্নাথপুর বাজারে দোকানভিটের মালিকানা নিয়ে দুই ব্যবসায়ীর বিরোধ তুঙ্গে

Spread the love

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার জগন্নাথপুর সদর বাজারে একটি দোকানভিটের মালিকানা নিয়ে বাজারের নামকরা দুই ব্যবসায়ীর বিরোধ তুঙ্গে রয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। জগন্নাথপুর সদর বাজারের টিএনটি রোডে অবস্থিত মেসার্স শাহজালাল স্যানেটারি নামের দোকানভিট নিয়ে বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আলহাজ জামাল মিয়া তালুকদার ও আরেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আবুল কালাম চৌধুরী বাবলুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বর্তমানে দোকানভিটের দখল নিয়ে উভয় পক্ষ মারমুখি অবস্থানে রয়েছেন।
জানাগেছে, মৌজা ইকড়ছই, জেএল নং ১৭২, বর্তমান ১৭০ এসএ দাগ নং ৪১৮ আরএস দাগ নং ৪৫৪ তে বিগত ২০১১ সালে ব্যবসায়ী জামাল মিয়া তালুকদার দোস্তপুর গ্রামের হাজী আছদ্দর আলীর ছেলে আবদুল মিয়া ও আবদুল হাই এর কাছে ২ শতক লায়েক পতিত বর্তমানে দোকানভিট রকম ভূমি বিক্রি করে দখল ত্যাগী হন। এ সময় এখানে অন্য ভাড়াটেরা ব্যবসা করেন। পরে আবার জামাল মিয়া তালুকদার ভাড়া নেন। ২০১৪ সালে হাজী আছদ্দর আলী, তার ছেলে আবদুল মিয়া ও আবদুল হাই জগন্নাথপুর বাজারের আরেক ব্যবসায়ী মোঃ কুতুব উদ্দিন চৌধুরীর কাছে ওই দোকানের ভেতরে থাকা ৩ শতক ভূমি বিক্রি করেন। এরপর কয়েক মাস তিনি ভাড়া দিলেও পরে আর ভাড়া না দেয়া নিয়ে দুই ব্যবসায়ীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। চলে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও মামলা-মোকদ্দমা। এক পর্যায়ে মোঃ কুতুব উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যু হলে তার ছেলে আবুল কালাম চৌধুরী বাবলু সেই দোকানভিট উদ্ধারে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে ইদানিং উভয় পক্ষের মধ্যে মারমুখি উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী আবুল কালাম চৌধুরী বাবলু বলেন, ২০১১ সালে জামাল মিয়া তালুকদার আবদুল মিয়া ও আবদুল হাই এর কাছে তার দোকানভিটের ২ শতক জায়গা বিক্রি করে তিনি দখল ত্যাগী হন। এ সময় অন্য ব্যক্তিরা এখানে ভাড়াটে ব্যবসা করেন। ২০১৪ সালে আমার প্রয়াত পিতা মোঃ কুতুব উদ্দিন চৌধুরী এ দোকানের ভেতরে থাকা আবদুল মিয়া ও আবদুল হাই এর মালিকানা ২ শতক এবং তাদের পিতা হাজী আছদ্দর আলীর ১ শতক সহ মোট ৩ শতক জায়গা ক্রয় করেন। তখন জামাল মিয়া তালুকদার উক্ত দোকান আমার পিতার কাছ থেকে পুনরায় ভাড়া নেন। এ সময় তিনি ৭ মাসের ভাড়া দিলেও পরে আর ভাড়া না দেয়ায় দোকান ছেড়ে যেতে আমার পিতার কাছে কিছু সময় চান। আমার পিতা তাকে সময় দেয়ায় তিনি জবর-দখল করে আছেন। জগন্নাথপুর থানা, জগন্নাথপুর পৌরসভা ও জগন্নাথপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি আমার পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছেন। তাতেও কাজ হচ্ছে না। বর্তমান মাঠ রেকর্ডের ফাইনাল পর্চা সহ আমার সব ধরণের কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্বেও ন্যায় বিচার থেকে বারবার বঞ্চিত হচ্ছি। এখানে সেটেলম্যান্ট জরিপে সাবেক ৪১৮ বর্তমানে ৪৫৪ দাগে ৪ শতকের একটি প্লট করা হয়। এতে আমার ২ শতক ও প্রতিবেশি আমির হামজার ২ শতক জায়গার মাঠ পর্চা রয়েছে। জামাল মিয়া তালুকদারের নামে কোন মাঠ পর্চা নেই।
তবে ব্যবসায়ী জামাল মিয়া তালুকদার বলেন, উক্ত মৌজায় সাবেক ৪১৮ দাগে আমার মোট ১০ শতক জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে ২ শতক জায়গা আমি আবদুল মিয়া ও আবদুল হাই এর কাছে বিক্রি করেছি। প্রয়াত ব্যবসায়ী মোঃ কুতুব উদ্দিন চৌধুরী তাদের কাছ থেকে জায়গা ক্রয় করেছেন। আমি তো মোঃ কুতুব উদ্দিন চৌধুরীর কাছে জায়গা বিক্রি করিনি। বর্তমানে আদালতে মামলা থাকা সত্বেও আমার মালিকানাধীন মেসার্স শাহজালাল স্যানেটারি দোকান দখলের চেষ্টা করছে তার ছেলে আবুল কালাম চৌধুরী ও তার লোকজন। এ ঘটনায় আমি থানায় জিডি করেছি।
জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন জানান, উক্ত দোকানভিটের বিরোধ নিয়ে আবুল কালাম চৌধুরী বাবলুর আবেদনের প্রেক্ষিতে নোটিশ করা হলেও জামাল মিয়া তালুকদার না আসায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বসারও সুযোগ হয়নি। জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, দোকানভিটের মালিকানা নিয়ে আবুল কালাম চৌধুরী বাবলু ও জামাল মিয়া তালুকদারের মধ্যে বিরোধ ও মামলা চলছে।

Facebook Comments Box
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ