May 9, 2021, 11:14 pm

শিরোনাম :
যাত্রাবাড়ী ও দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ ০৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রাবি ভিসির ‘মানবিক নিয়োগ’ টিকবে কি? ২৪ ঘণ্টায় আরো ৫৬ মৃত্যু দণ্ডিত হওয়ায় বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে পারবেন না খালেদা নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান স্থগিত করলো রাবি প্রশাসন ফেরি বন্ধ থাকলেও ঘাটে বাড়িফেরা মানুষের ভিড় যশোরে দু’জনের শরীরে করোনার ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু অতিদরিদ্রদের ৪০ দিনের কর্মসূচির নামে কোটি টাকা লুটপাটের পায়তারা কিটের মূল্য কমলেও কমেনি বেসরকারি ল্যাবে করোনা পরীক্ষার ফি খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মতামত কাল: আইনমন্ত্রী ভারতে একদিনে ৪ হাজারের বেশি মৃত্যুর নতুন রেকর্ড শ্রীমঙ্গলে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার ভারতীয় চশমা—সানগ্লাস আটক চীনা রকেটের ধ্বংসাবশেষ এ সপ্তাহেই আছড়ে পড়বে পৃথিবীতে ইসলামের নামে সহিংসতায় জড়িতরা অমানুষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেনা প্রত্যাবর্তনে আফগানিস্তানে যুদ্ধবিমান পাঠাবে আমেরিকা আইপিএল স্থগিতে ক্ষতি ২৮৮১ কোটি টাকা ঈদের আগে অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার জগন্নাথপুরে ইউনিয়ন শ্রমিকলীগ সভাপতিকে প্রাণ নাশের হুমকি জগন্নাথপুরে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা পটুয়াখালীতে একাধিক চুরি, ডাকাতি ও ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার

আউশকান্দি ইসলামী ব্যাংকে দেশ-বিদেশের মানুষের রক্ষীত কোটি টাকা প্রতারনা করে এজেন্ট উধাও

Spread the love
বুলবুল আহমদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃঃ
নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজারে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। এ ব্যাপারে ইসলামী ব্যাংক ফেসবুকে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নবীগঞ্জ শাখা বলেছে ঐ এজেন্ট শাখায় কোন লেনদেন না করার জন্য।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নবীগঞ্জ উপজেলার বোরহানপুর গ্রামের আবুল হোসেন চঞ্চল প্রায় ৩ বছর পূর্বে আউশকান্দি বাজারে ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখা খুলেন। এতে ঐ এজেন্ট শাখায় হিসাব খোলা, গ্রাহকের এফডিআর, পিনকোড নাম্বার দিয়ে টাকা উত্তোলন ও নগদ জমা লেনদেন হয়ে আছিল। প্রতিদিন শতাধিক গ্রাহক ঐ এজেন্টে অর্থ লেনদেনে যোগাযোগ করতেন। পুনাঁঙ্গ ব্যাংকিক সুবিধা প্রদান করতেন এজেন্ট শাখার কর্মরত সকল কর্মকর্তাগন। আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজারের আশপাশ এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের কোন শাখা না থাকায় ঐ এজেন্ট শাখাটি সুুু-পরিচিত হয়ে ওটেছিল। আর এই সুযোগে চরম সুুু-কৌশলে প্রতারণার ফাঁদ খুলেন ঐ এজেন্ট শাখার কর্মকর্তাগণ। এই এজেন্ট শাখায় গ্রাহক যে নগদ টাকা জমা করতেন। এতে তাদের নিজেরা সীল দিয়ে একটি জমা বাউচার বা রিসিট দিয়ে দিতেন। যারা এফ.ডি.আর, ডি.পি.এস সহ নানা ধরনের সঞ্চয়ী হিসাব খুলতেন। তাদের বেশির ভাগ লোকের এফ.ডি.আর ও ডি.পি.এস রিসিট তারা নিজেদের তৈরী ছিলো। এ কারন ঐ  টাকা গুলো মুল ব্যাংকে জমা না দিয়ে এজেন্ট ব্যাংকের মালিক নিজের কাছে রেখে দিতেন।
সম্প্রতি, লন্ডন প্রবাসী এক প্রবাসী তার এফ.ডি.আর ভাঙ্গানোর জন্য নবীগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকে তাদের দেয়া টুকেন নিয়ে গেলে বলেন, এ নামে তাদের ব্যাংকে কোন এফ.ডি.আর নেই। অনেক গ্রাহক আছেন, তারা নগদ টাকা ঐ এজেন্ট শাখায় জমা দিয়েছেন, মুল ব্যাংকের একাউন্ডে জমা হওয়ার জন্য। কিন্তু এখনোও তাদের সঞ্চয়ী হিসাবে কোন টাকা জমা হয়নি। আবার অনেকেই রিসিট হারিয়ে ফেলেছেন। তারা এখন হণ্য হয়ে পাগলের ন্যায় ঐ ব্যাংক এজেন্ট কে খুঁজছেন। এতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানলে তখনই ইসলামী ব্যাংকের নটক নড়ে এই এজেন্টে কি হচ্ছে। পরে তারা তদন্ত শুরু করলে বেরিয়ে আসে একের পর এক ঘটনা। লন্ডন প্রবাসী একজন গ্রাহক আউশকান্দি ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখায় পাঁচ লক্ষ টাকার এফ.ডি.আর করেন। এটা ভাঙ্গানোর জন্য ৬ মাস পরে আউশকান্দি ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখায় মালিক তাকে এক লক্ষ টাকা নগদ কর্জ দিয়ে বলেন, আপনি লন্ডন গিয়ে আমাদের টাকা দিয়ে দিবেন। এফ.ডি আর ভাঙ্গানোর দরকার নাই। তিনি সরল বিশ্বাসে টাকা নিয়ে লন্ডন চলে যান। সেখান থেকে ফেসবুকে খবর পেয়ে ইসলামী ব্যাংক নবীগঞ্জ শাখায় যোগাযোগ করলে তারা জানান ঐ নামে কোন এফ.ডি.আর তাদের কাছে জমা হয়নি।
এদিকে, ইসলামী ব্যাংক তদন্ত শুরু করলে আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজার ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট আবুল হোসেন চঞ্চল সব কিছু গুটিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে লন্ডন প্রবাসী আসাদুল হক জানান, তিনি বড় অংকের একটি এফ.ডি.আর করেছেন। এখন এর কোন হদিস পাচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে আবুল হোসেন চঞ্চলের মোবাইল  নাম্বার বারবার যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে লন্ডন প্রবাসী মীর মসুদ আলী ও  রুবেল বখতের প্রায় ৪০ লাখ টাকা নয় ছয় হয়েছে বলে তারা জানান। এ রকম অনেক গ্রাহকের একাউন্টে কোন টাকা জমা হয়নি।
এ ব্যাপারে দিলারা বেগম নামে একজন গ্রাহক বলেন, তার স্বামী প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ঐ এজেন্টে লেনদেন করেছেন। তিনি সরল বিস্বাসে কোন রিসিট নেননি। এখন রিসিট ছাড়া ব্যাংক তাদের দাবি গ্রহন করছে না।
এ ব্যাপারে আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজার ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট আবুল হোসেন চঞ্চল এর সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার ফেসবুক আইডিতে একাধিক বার ম্যাসেজ দিলেও সে কোন মন্তব্য করেনি।
এ ব্যাপারে ইসলামী ব্যাংক নবীগঞ্জ শাখার ম্যানাজার কায়সার আহমদ বলেন, ইসলামী ব্যাংক আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজার এজেন্ট শাখায় কোন লেনদেন না করার জন্য আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিঞ্জপ্তি দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, যাদের ডকুমেন্টস আছে তাদের টাকা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করে দিবে। এবং আমরা ইতিমধ্যে আউশকান্দি বাজার ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট আবুল হোসেন চঞ্চল এর কাছে থেকে প্রায় ২০লাখ টাকা উদ্ধার করেছি। বাকি টাকা উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। আমাদের সাথে চঞ্চল এর সাথে কথা বার্তা চলছে, তিনি বলছেন যাদের ডকুমেন্টস আছে সে টাকা ফেরত দিবেন। তিনি আরো বলেন, আমরা কয়েক দিনের মধ্যে এজেন্টটি নতুন ডিলারে কাছে হস্তান্তর করবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা রিসিট হারিয়ে ফেলেছে তাদের ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই। কত টাকা গচ্ছিত হয়েছে সেই বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো বিষয়টি হিসাব করেনি । হিসাব করে পরে জানাবো আপনাদের।
Facebook Comments Box
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ